চর্মরোগ থেকে মুক্তির উপায় (ঘরোয়া পদ্ধতিতে)

চর্মরোগ থেকে মুক্তির উপায় জানা খুবই জরুরি। কেননা গরমকালে শরীরে দেখা দেয় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। তার মধ্যে চর্মরোগ অন্যতম। চর্মরোগ সাধারণত খাবারে এলার্জি, পোকামাকড়ের কামড়, চুলকানি, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি কারণে হতে পারে। চর্মরোগ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলেও এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। জীবনধারায় এবারের আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে চর্মরোগ থেকে মুক্তির উপায়।

চর্মরোগ থেকে মুক্তির উপায়

• ঘৃতকুমারী :
ঘৃতকুমারী সাধারণত অ্যালোভেরা নামেই পরিচিত। ভেষজ ঔষধ ঘৃতকুমারীর রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা। চর্মরোগসহ ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় ঘৃতকুমারীর রস লাগালে সহজেই উপকারিতা পাওয়া যায়।

• অলিভ অয়েল :
শুষ্ক ত্বকে আদ্রতা নিয়ে আসতে অলিভ অয়েল তেল বেশ কার্যকরী। এই তেল শরীরে নিয়মিত মাখলে শরীরের খসখসে বা জ্বালা ভাব দূর হয়। তাছাড়া অলিভ অয়েল থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের জলের অভাব দূর করে।

• তুলসী পাতা :
নানাবিধ উপকারিতায় ভরপুর তুলসী পাতা। শরীরের যেকোনো অংশে ক্ষত, পোড়া, চুলকানিসহ শরীরের বিভিন্ন সমস্যায় সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। সেই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে তুলসী পাতা বেটে রস আক্রান্ত জায়গায় লাগালে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

• নিম পাতা :
শরীরের জ্বালাময়ী ভাব দূর করতে নিম পাতা বেশ কার্যকরী। বিশেষ করে ত্বকের চুলকানি এলার্জি বা ত্বকের লাল লাল দাগ দূর করতে নিম পাতা বা ফুল বেটে আক্রান্ত জায়গায় প্রলেপ লাগাতে হবে। তাছাড়া খোসপাঁচড়া দূর করতে কয়েকটি নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গোসল করলে উপকারিতা পাওয়া যায়। এমনকি নিম পাতাগুলো ভেজে গুড়ো করে সরিষার তেল মাখিয়ে চুলকানি জায়গায় লাগালে দ্রুত ভালো হয়ে যায়।

• ফল ও সবজি :
ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে বেশি বেশি ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

• পানি পান :
শরীরের আদ্রতা বজায় রাখতে বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন ৭/৮ গ্লাস পানি পানের অভ্যাস করতে হবে।

• প্রসাধনী :
ত্বকে প্রসাধনী ব্যবহারের আগে অবশ্যই সচেতন হতে হবে এবং সে প্রসাধনী সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। যেসব রাসায়নিক সমৃদ্ধ প্রসাধনী এলার্জি সৃৃষ্টি করে সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। প্যারাবিন ও সোডিয়াম লরাইল সালফেট যুক্ত সাবান ও শ্যাম্পু ব্যাবহার না করায় ভালো।

• ওমেগা ফ্যাটি এসিড :
ত্বক ভালো রাখতে ওমেগা ফ্যাটি এসিড খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তাই ত্বক ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ওমেগা ফ্যাটি এসিডযুক্ত খাবার রাখা প্রয়োজন।

চর্মরোগের নাম সমূহ ও প্রতিকার

• ঘামাচি :
চর্মরোগের মধ্যে একটি হচ্ছে ঘামাচি। দেহের ঘর্মগ্রন্থিগুলোর মুখ যখন ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে বন্ধ হয়ে যায় তখন ঘাম বাইরে বের হতে না পেরে ভিতরে বদ্ধ অবস্থায় থেকে ঘামাচি সৃষ্টি হয়। যা অনেকটা ফুসকুড়ি ও লাল লাল দানার মতো দেখতে এবং কিছু কিছু ঘামাচি অনেক চুলকায়।
শীতল জায়গায় ঘণ্টাখানেক অবস্থান করলে ঘামাচি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। তাছাড়া নিয়মিত গোসলের অভ্যাস করতে হবে। ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরিধান ও আক্রান্ত জায়গায় ঠান্ডা বরফ লাগাতে হবে। অতিরিক্ত গরম পরিবেশে না থাকার চেষ্টা করতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত গরমে অধিক শারীরিক পরিশ্রম করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

• ব্রণ :
ব্রণের সমস্যা সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালেই বেশি দেখা যায়। তাই এটি টিনেএজারদের রোগ নামে পরিচিত। মূলত ১৬-২০ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের এই সমস্যাটা দেখা যায়। ব্রণ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তৈলাক্ত, ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করতে হবে। এমনকি চকলেট, আইসক্রিমসহ অন্যান্য ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অপরপক্ষে, বেশি বেশি পানি পান ও শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়ায় অভ্যস্ত হতে হবে।

• দাদ :
ফাংগাস দ্ধারা আক্রান্ত জায়গায় দাদ সৃষ্টি হয়। দাদ মূলত মাথার চামড়া, হাত-পা এর আংগুলের মাঝে, শরীরের কুঁচকিতে হতে পারে। ছোয়াঁচে এই রোগটি আক্রান্ত জায়গা গোলাকার হয়ে যায় এবং চুলকায়। তবে আক্রান্ত জায়গাটি পরিষ্কার এবং শুকনো রাখতে হবে। বেশি সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

• খোসপাঁচড়া :
খোসপাঁচড়া শিশুদের বেশি হতে দেখা যায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান ও নিয়মিত গোসল করালে খোসপাঁচড়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

• একজিমা :
ত্বকের প্রদাহ সৃষ্টি করার অন্যতম কারণ হচ্ছে একজিমা। তবে একেক একজিমার একেক লক্ষণ হলেও ত্বকে জ্বালাপোড়া, শুষ্ক ও খসখসে ত্বক, ত্বকে চুলকানি, হাত ও পায়ের ত্বকের মধ্যে ছোট ছোট পানির ফুসকুড়ি অন্যতম।
তবে সবান, ডিটারজেন্ট, শ্যাম্পু এর ফলে এমনকি অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা এবং স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়ায় একজিমা হয়ে থাকে।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে ত্বকে চুলকানি বা চর্মরোগ হতে পারে। বিশেষ করে গরমকালে চর্মরোগের প্রভাব বেশি। তবে চর্মরোগ থেকে মুক্তির উপায় জেনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সচেতন থাকলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আরো নিত্যনতুন আপডেট পেতে জয়েন করুন জীবনধারার ফেসবুক গ্রুপ জীবনধারা (সুস্থ্য দেহ, সুস্থ্য মন) এ।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More