এসএসসি বাংলা : সুভা গল্পের জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

সুভা হচ্ছে এসএসসি অর্থাৎ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বই এর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প। সুভা গল্প থেকে বাছাইকৃত সেরা ৫০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন এবং ১০টি অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরসহ আলোচনা করা হলো-

সুভা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

লেখক পরিচিতি

প্রশ্ন -১ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর :
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন

প্রশ্ন -২ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মসাল কত বঙ্গাব্দ?
উত্তর :
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মসাল ১২৬৮ বঙ্গাব্দ।

প্রশ্ন -৩ : কত বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয়?
উত্তর :
পনেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন -৪ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
উত্তর :
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

প্রশ্ন -৫ : রবীন্দ্রনাথ কোন কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
উত্তর :
রবীন্দ্রনাথ ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

প্রশ্ন -৬ : ‘গোরা’ কোন শ্রেণির রচনা?
উত্তর :
‘গোরা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস।

প্রশ্ন -৭ : ‘শেষের কবিতা’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর :
‘শেষের কবিতা’ একটি উপন্যাস।

প্রশ্ন -৮ : ‘বিচিত্র প্রবন্ধ’ কার লেখা?
উত্তর :
‘বিচিত্র প্রবন্ধ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।

প্রশ্ন -৯ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বঙ্গাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর :
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

মূলপাঠ

প্রশ্ন -১০ : সুভার কয়টি বোন ছিল?
উত্তর :
সুভার দুটি বোন ছিল।

প্রশ্ন -১১ : কী কারণে বাণীকন্ঠ তাঁর ছোট মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখেন?
উত্তর :
বড় দুটি বোনের নামের সাথে মিল রাখতে বাণীকণ্ঠ তাঁর ছোট মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখেন।

প্রশ্ন -১২ : পিতামাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করছে কে?
উত্তর :
পিতামাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করছে সুভা।

প্রশ্ন -১৩ : সুভার সাক্ষাতে সকলে তার কী সম্পর্কে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত?
উত্তর :
সুভার সাক্ষাতে সকলে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত।

প্রশ্ন -১৪ : কার মনে সুভা সর্বদাই জাগরূক ছিল?
উত্তর :
পিতামাতার মনে সুভা সর্বদাই জাগরূক ছিল।

প্রশ্ন -১৫ : সুভা কী মনে করত?
উত্তর :
সুভা মনে করত, আমাকে সবাই ভুললে বাঁচি।

প্রশ্ন -১৬ : কে সুভাকে নিজের একটা ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন?
উত্তর :
সুভার মা সুভাকে নিজের একটা ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন।

প্রশ্ন -১৭ : সুভার বাবার নাম কী?
উত্তর :
সুভার বাবার নাম বাণীকণ্ঠ।

প্রশ্ন -১৮ : সুভার মাতা সুভাকে কী জ্ঞান করে তার প্রতি বড় বিরক্ত ছিলেন?
উত্তর :
সুভার মাতা সুভাকে গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করে তার প্রতি বড় বিরক্ত ছিলেন।

প্রশ্ন -১৯ : সুভার ওষ্ঠাধর ভাবের আভাসমাত্র কেমন করে কেঁপে উঠত?
উত্তর :
সুভার ওষ্ঠাধর ভাবের আভাসমাত্র কচি কিশলয়ের মতো কেঁপে উঠত।

প্রশ্ন -২০ : সুভার চোখের ভাষা কেমন ছিল?
উত্তর :
সুভার চোখের ভাষা অসীম, উদার এবং অতলস্পর্শ গভীর ছিল।

প্রশ্ন -২১ : কে নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন ও সঙ্গীহীন ছিল?
উত্তর :
সুভা নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন ও সঙ্গীহীন ছিল।

প্রশ্ন -২২ : সুভাদের গ্রামের নাম কী?
উত্তর :
সুভাদের গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।

প্রশ্ন -২৩ : বাণীকন্ঠের ঘর কোথায়?
উত্তর :
বাণীকণ্ঠের ঘর নদীর একেবারে উপরেই।

প্রশ্ন -২৪ : অবসর সময়ে সুভা কোথায় গিয়ে বসত?
উত্তর :
অবসর সময়ে সুভা নদীতীরে গিয়ে বসত।

প্রশ্ন -২৫ : প্রকৃতি কার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়?
উত্তর :
প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।

প্রশ্ন -২৬ : প্রকৃতি সুভার কীসের অভাব পূরণ করে দেয়?
উত্তর :
প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।

প্রশ্ন -২৭ : প্রকৃতির বিবিধ শব্দ এবং বিচিত্র গতি কীসের ভাষা?
উত্তর :
প্রকৃতির বিবিধ শব্দ এবং বিচিত্র গতি বোবার ভাষা।

প্রশ্ন -২৮ : গোয়ালের গাভী দুটির নাম কী?
উত্তর :
গোয়ালের গাভী দুটির নাম সর্বশী ও পাঙ্গুলি

প্রশ্ন -২৯ : সুভা দিনের ভেতরে কয়বার গোয়াল ঘরে যেত?
উত্তর :
সুভা দিনের ভেতরে তিনবার গোয়াল ঘরে যেত।

প্রশ্ন -৩০ : উন্নত শ্রেণির জীবের মধ্যে সুভার যে সঙ্গী জুটেছিল তার নাম কী?
উত্তর :
উন্নত শ্রেণির জীবের মধ্যে সুভার যে সঙ্গী জুটেছিল তার নাম প্রতাপ।

প্রশ্ন -৩১. প্রতাপ কে?
উত্তর :
প্রতাপ গোঁসাইদের ছোট ছেলে।

প্রশ্ন -৩২ : গোঁসাইদের ছোট ছেলেটির নাম কী?
উত্তর :
গোঁসাইদের ছোট ছেলেটির নাম প্রতাপ।

প্রশ্ন -৩৩ : প্রতাপ কাদের ছোট ছেলে?
উত্তর :
প্রতাপ গোঁসাইদের ছোট ছেলে।

প্রশ্ন -৩৪ : প্রতাপের প্রধান শখ কী?
উত্তর :
প্রতাপের প্রধান শখ ছিল ছিপ ফেলে মাছ ধরা।

প্রশ্ন -৩৫ : কে সুভার মর্যাদা বুঝত?
উত্তর :
প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝত।

প্রশ্ন -৩৬ : প্রতাপ সুভাকে কী বলে ডাকত?
উত্তর :
প্রতাপ সুভাকে ‘সু’ বলে ডাকত।

প্রশ্ন -৩৭ : প্রতাপের জন্য পান সাজিয়ে আনত কে?
উত্তর :
প্রতাপের জন্য পান সাজিয়ে আনত সুভা।

প্রশ্ন -৩৮ : কে মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত?
উত্তর :
সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত।

প্রশ্ন -৩৯ : প্রতাপকে সাহায্য করতে চাইত কে?
উত্তর :
প্রতাপকে সাহায্য করতে চাইত সুভা

প্রশ্ন -৪০ : সুভা মনে মনে কী হতে চাইত?
উত্তর :
সুভা মনে মনে অলৌকিক শক্তির অধিকারী হতে চাইত।

প্রশ্ন -৪১ : সুভা অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করে কেন?
উত্তর :
নিজের প্রতি প্রতাপকে আকর্ষণ করার জন্য সুভা অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করে।

প্রশ্ন -৪২ : ‘সুভা’ গল্পে সুভাকে ‘সুভি’ বলা হয়েছে কতবার?
উত্তর : ‘
সুভা’ গল্পে সুভাকে ‘সুভি’ বলা হয়েছে একবার।

প্রশ্ন -৪৩ : সুভা জলকুমারী হলে কী করত?
উত্তর :
সুভা জলকুমারী হলে জল থেকে সাপের মাথার মণি প্রতাপের জন্য ঘাটে রেখে দিত।

প্রশ্ন -৪৪ : কোন তিথির প্রকৃতি সুভার মতো একাকিনী?
উত্তর :
পূর্ণিমা তিথির প্রকৃতি সুভার মতো একাকিনী।

প্রশ্ন -৪৫ : কন্যা ভারাগ্রস্ত পিতামাতা কারা?
উত্তর :
সুভার পিতামাতা কন্যা ভারাগ্রস্ত।

প্রশ্ন -৪৬ : বাণীকণ্ঠের অবস্থা কেমন?
উত্তর :
বাণীকণ্ঠের অবস্থা সচ্ছল।

প্রশ্ন -৪৭ : বাণীকণ্ঠ ফিরে এসে কোথায় যাওয়ার জন্য স্ত্রীকে বলল?
উত্তর :
বাণীকণ্ঠ ফিরে এসে কলকাতায় যাওয়ার জন্য স্ত্রীকে বলল।

প্রশ্ন -৪৮ : কলকাতায় যাওয়ার প্রাক্কালে কোন তিথির রাত্রি ছিল?
উত্তর :
কলকাতায় যাওয়ার প্রাক্কালে শুক্লাদ্বাদশীর রাত্রি ছিল ।

প্রশ্ন -৪৯ : মর্মবিদ্ধ হরিণী কার দিকে তাকায়?
উত্তর :
মর্মবিদ্ধ হরিণী ব্যাধের দিকে তাকায়।

প্রশ্ন -৫০ : ‘কিশলয়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর :
‘কিশলয়’ শব্দের অর্থ গাছের নতুন পাতা।

সুভা গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন -১ : সুভা নিজেকে সর্বদা গোপন রাখার চেষ্টা করত কেন?
উত্তর :
বাকশক্তিহীন সুভাকে সবাই সংসারের বোঝা বলে মনে করত এবং এ ঘটনাটি তার জানা ছিল বলেই নিজেকে সে সর্বদা গোপন রাখার চেষ্টা করত।
সুভা বোবা ছিল বলে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সবাই দুশ্চিন্তায় ছিল। কথা না বলতে পারলেও তার যে অনুভব শক্তি আছে এ কথাটি কেউ ভাবত না। শিশুকাল থেকেই সুভা বুঝে গিয়েছিল যে সংসারে সে কারো কাছেই সুদৃষ্টিপ্রাপ্ত নয়। এর ফলে তার ভেতরে এক ধরনের হীনম্মন্যতা তৈরি হয়েছিল। তাই সে নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করত।

প্রশ্ন -২ : কিন্তু, বেদনা কি কেহ কখনো ভোলে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর :
বেদনা মানব হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে যার ফলে বেদনা কখনো কেউ ভুলতে পারে না।
‘সুভা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। মেয়েরা যেহেতু মায়ের অংশবিশেষ সেহেতু সুভার ত্রুটিপূর্ণ জন্ম তার মাকে পীড়া দিত। সুভার মায়ের হৃদয়ে সদা জাগ্রত থাকত মেয়ের অপূর্ণতার দিকটি। সবসময় সুভার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ কল্পনা করে তার হৃদয় বেদনায় নিমজ্জিত থাকত। যতই বেদনা ভুলে থাকতে চাইত ততই মনে পড়ত। বেদনার ধর্মও তাই। এই জন্য বেদনা কেউ ভুলতে পারে না।

প্রশ্ন -৩ : পিতামাতার মনে সুভা সর্বদাই জাগরুক ছিল কেন?
উত্তর :
সুভা বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার ভবিষ্যতের পরিণতি চিন্তায় পিতামাতার মনে সে সর্বদা জাগরূক ছিল। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ বলে মনে করত। সুভার ভবিষ্যতের কথা ভেবে তার বাবা-মা যেমন শঙ্কিত থাকতেন তেমনি প্রতিবেশীদেরও নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না। মা সুভাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন। সুভার এই প্রতিবন্ধকতার কারণে সর্বদাই সে তার পিতামাতার মনে অস্বস্তি হিসেবে জাগরূক ছিল ।

প্রশ্ন -৪ : মাতা পুত্র অপেক্ষা কন্যাকে নিজের অংশরূপে দেখেন কেন?
উত্তর :
কন্যার কোনো অপূর্ণতা দেখলে সেটা নিজের ত্রুটি ও লজ্জার কারণ মনে করে মাতা পুত্র অপেক্ষা কন্যাকে নিজের অংশরূপে দেখেন। সুভা বোবা হয়েই জন্মগ্রহণ করেছে। মাতা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করতেন। তাকে নিজের একটা ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন এবং এটাকে নিজের লজ্জার কারণ বলে মনে করতেন। কন্যার এই অসম্পূর্ণ দিকের জন্য মাতা নিজেকে দায়ী মনে করতেন বলে পুত্র অপেক্ষা কন্যাকে নিজের অংশরূপে দেখেন।

প্রশ্ন -৫ : ‘কিন্তু, তাহার সুদীর্ঘ পল্লববিশিষ্ট বড় বড় দু’টি কালো চোখ ছিল’— কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর :
সুভার সৌন্দর্য বর্ণনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে। সুভা স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে পৃথিবীর আলোয় আলোকিত হয়নি । স্রষ্টা তাকে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করলেও তার কণ্ঠের কথা অপূর্ণ রেখে দেন। তবে সুভার বাক্ না থাকলেও তার সুদীর্ঘ পল্লববিশিষ্ট বড় বড় দুটি কালো চোখ ছিল। যার সৌন্দর্য লেখকের কাছে ছিল অপার বিস্ময়।

• জীববিজ্ঞান সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন -৬ : ‘কালো চোখকে কিছু তর্জমা করিতে হয় না।’- কেন বলা হয়েছে?
উত্তর :
মানুষের মনের ভাবের খেলা চোখের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশিত হয় বলে আলোচ্য কথাটি বলা হয়েছে। কথা বলে আমরা যে ভাবের প্রকাশ করি তা অনেকটাই শব্দের মাধ্যমে অনুবাদ বা তর্জমা করতে হয়। কিন্তু চোখের মাধ্যমে আমরা যে ভাবের জগৎ অনুভব করি তা আর কোনো শব্দে অনুবাদ করতে হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই তা ভাব প্রকাশক হয়ে ওঠে। ফলে শব্দ প্রকাশের ক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়, তা আর থাকে না। তাই চোখকে কোনোকিছু অনুবাদ করতে হয় না।

প্রশ্ন -৭ : “প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয়।” -বাক্যটিতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর :
প্রকৃতির সঙ্গে সুভার গভীর সম্পর্কের বিষয়টিই উন্মোচিত হয়েছে আলোচ্য মন্তব্যে।
নদীর তীরে বসলে সুভা নদীর কলধ্বনি, লোকের কোলাহল, মাঝির গান, পাখির ডাক, তরুর মর্মর সমস্ত মিলেমিশে একাকার হয়ে যেত। এগুলো যেন তার হয়ে কথা বলত। প্রকৃতির এই বিবিধ শব্দ এবং বিচিত্র গতিও সুভার ভাষার মতো নীরব অথচ বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। আর তাই লেখক বলেছেন, “প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয়।”

প্রশ্ন -৮ : “কিন্তু তাহার পদশব্দ তাহারা চিনিত” বাক্যটির প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর :
সুভা বোবা হলেও গোয়ালের গাভী দুটি যে তার পায়ের শব্দে তার আগমন বুঝতে পারে তা বোঝাতে আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে। ‘সুভা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুভা জন্ম থেকেই বোবা। সে কথা বলতে না পারলেও অনেকেই তার মনের ভাষা বিভিন্ন উপায়ে বুঝতে পারে। এমন দুটি প্রাণী হচ্ছে সুভাদের গোয়ালের দুটি গাভী। গাভী দুটি সুভার মনের সমস্ত ভাষাই বুঝতে পারে। তারা সুভার পায়ের শব্দ শুনেই বুঝে নিত যে সুভা আসছে। কারণ তাদের কাছে সুভার পায়ের শব্দ ছিল অতি পরিচিত। আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা এ বিষয়টিকেই বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন -৯ : ঘরে কঠিন কথা শুনে সুভা গোয়াল ঘরে যেত কেন?
উত্তর :
বন্ধুস্বরূপ গাভী দুটির কাছ থেকে সান্ত্বনা লাভের জন্য ঘরে কঠিন কথা শুনলে সুভা গোয়ালঘরে যেত। কোনো ভর্ৎসনা বা কঠিন কথা শোনার পর সুভা গোয়াল ঘরে ঢুকে তার মূক বন্ধুদুটির কাছে আসত। সুভার সহিষ্ণুতা পরিপূর্ণ বিষাদ-শান্ত দৃষ্টিপাত থেকে গোয়ালের এই দুটি গাভী কী একটা অন্ধ অনুমান শক্তির দ্বারা সুভার মর্মবেদনা যেন বুঝতে পারত এবং তারা সুভার গা ঘেঁষে তার বাহুতে অল্প করে শিং ঘষে তাকে নির্বাক ব্যাকুলতার সাথে সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করত। এর ফলে সুভার মনের বেদনা কিছুটা হলেও প্রশমিত হতো।

প্রশ্ন -১০ : অকর্মণ্য লোকেরা কীভাবে নিঃসম্পর্ক মানুষের প্রিয়পাত্র হয়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর :
অকর্মণ্য লোকের নিঃস্বার্থভাবে নিঃসম্পর্ক মানুষদের নানা উপকারে আসে বলে তারা প্রায়ই মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে। অকর্মণ্য লোকেরা কোনো কাজে আসে না বলে আত্মীয়রা তাদের ওপর বিরক্ত থাকে। কিন্তু অনেক সময় নিঃসম্পর্ক মানুষের কাছে এই অকর্মণ্য লোকেরা প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে। কারণ, তারা কোনো কাজ না করায় সবসময় তাদের হাতে অনেক সময় থাকে। ফলে কাজে-কর্মে, আমোদে অবসরে যেখানে একটা লোক কম পড়ে সেখানেই তাদের হাতের কাছে পাওয়া যায়।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More