সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত? (বিস্তারিত ভ্রমণ গাইড)

সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত? এটি হচ্ছে ভ্রমণ পিপাসুদের সাধারণ একটি প্রশ্ন। কেননা এতো সুন্দর প্রাকৃতিক রূপে আচ্ছাদিত সাজেক ভ্যালির অবস্থান অনেকেই জানে না। সাজেক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন, যেটি রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত।

তবে সাজেকের অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। সাজেক রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত হলেও যাতায়াতের সুবিধার্থে খাগড়াছড়ি হয়ে দীঘিনালা দিয়ে যেতে হবে। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭৩ কিঃমিঃ এবং দীঘিনালা থেকে সাজেকের দূরত্ব ৪০ কিঃমিঃ এবং রাঙ্গামাটির তুলনায় খাগড়াছড়ি দিয়ে যাতায়াত ব্যাবস্থা বেশি সুবিধাজনক।

• সাজেক ভ্যালির দর্শনীয় স্থান :
প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য অন্যতম দর্শনীয় জায়গা সাজেক ভ্যালি। যেখানে একদিনেই তিন রকম প্রকৃতির রূপের দেখা মিলে। কখনো গরম, তো কখনো মেঘে ঢাকা, হঠাৎ বৃষ্টি শুরু আবার কখনো ঘন কুয়াশার চাদরে আচ্ছাদিত। সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণপিয়াসীদের জন্য অন্যতম দেখার নির্দশন হচ্ছে কংলাক পাহাড়। আর এই কংলাক পাহাড় সাজেক ভ্যালির সর্বশেষ গ্রাম কংলাক পাড়ায় অবস্থিত, যেখানে লুসাই জনগোষ্ঠীর বসবাস। এই পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে প্রায় ৩০-৪০ মিনিটের মতো ট্রেকিং করতে হবে। কংলাক পাহাড়ে যাওয়ার সুন্দর সময় হচ্ছে বিকালবেলা। এমনকি এই পাহাড়ের দাড়িয়ে সূর্যাস্ত উপভোগ করা যাবে। সন্ধ্যার পরেও শুরু হয় নতুন আরেক সৌন্দর্য। ভৌগোলিক ও দূষণমুক্ত পরিবেশের কারণে আকাশে দেখা যায় কোটি কোটি তারার মেলা। এই গ্রাম থেকেই কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি এবং কংলাক পাড়া গ্রাম থেকে ভারতের লুসাই পাহাড় দেখাও যায়।

এছাড়াও আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে রুইলুই পাড়া, হ্যালিপ্যাড, রক গার্ডেন, লুসাই ভিলেজ অন্যতম।
• রুইলুই পাড়া থেকে দু’ঘন্টা ট্রেকিং করে কমলক ঝর্ণা  দেখতে যাওয়া যেতে পারে। কমলক ঝর্ণা পিদাম তৈসা ঝর্ণা বা সিকাম তৈসা ঝর্ণা নামেও পরিচিত।
• হ্যালিপ্যাড হচ্ছে ভোরের সূর্যোদয় ও মেঘের খেলা দেখা এবং রাতের আকাশ দেখার জন্য চমৎকার জায়গা। যদি সারারাত জেগে সকালের মেঘের খেলা দেখা মিস করেন তাহলে অনেক সুন্দর একটা মূহুর্ত মিস করবেন। এই মূহুর্তটি উপভোগ করার সঠিক সময় হচ্ছে ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এই সময়ে ফ্রেশ মেঘ দেখা যায়। মনে হবে হাত বাড়ালেই যেনো মেঘের ছোঁয়া পাবো। এই মূহুর্তে প্রতি ১০মিনিট পরপর প্রকৃতির রং বদলায়। এমনকি ঘুরে দেখতে পারেন সাজেক ভ্যালির চারপাশ ও আদিবাসীদের জীবনযাপন।
এছাড়াও সাজেক ভ্যালি থেকে ফিরার পথে পাবেন হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রীজ ও দীঘিনালা বনবিহার। হাতে সময় থাকলে সেগুলোও দেখে আসতে পারেন।

• সাজেক ভ্যালি ভ্রমণের সময় :
একেক মৌসুমে সাজেকের সাঁজ একেক রকম। তাই প্রতি মৌসুমেই ভ্রমণপিয়াসীদের নজর কারে সাজেক ভ্যালি। তবে মে মাস থেক নভেম্বর মাস পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি দেখার উপযুক্ত সময়। কেননা এই সময়ে প্রকৃতি থাকে সতেজ এবং আকাশে মেঘ ভেসে বেড়াতে দেখা যায়।

• যাতায়াত ও ভাড়া :
সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত হলেও খাগড়াছড়ি হয়ে দীঘিনালা দিয়ে  যাওয়া বেশ সুবিধাজনক। খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ভ্যালির দূরত্ব ৭৩ কিঃমিঃ এবং দীঘিনালা থেকে সাজেক ভ্যালির দূরত্ব ৪০ কিঃমিঃ। তবে খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেক ভ্যালি যাওয়ার জন্য দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে ঢাকায় আসতে হবে। এমনকি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামটি থেকেও সরাসরি সাজেক যাওয়া যাবে।

• ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেক ভ্রমণ :
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার যাতায়াত সুবিধার মধ্যে বাস অন্যতম। সৌদিয়া, শ্যামলী, শান্তি পরিবহন, এস আলম, ঈগল ইত্যাদি বাসে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। এসব নন-এসি বাসে জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হয় ৫০০-৫২০ টাকার মতো। তবে এসি বাসের মধ্যে হানিফ, ঈগল, শান্তি ও সেন্টমার্টিন পরিবহনে ৯৫০-১২৫০ টাকার মধ্যে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। বাসগুলো ঢাকার বিভিন্ন বাস স্টান্ড যেমন গাবতলি, ফকিরাপুল, কলাবাগান ও আরামবাগ হতে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বাসগুলো সর্বশেষ রাত ১১টার মধ্যে পাওয়া যায়। ছুটির দিন কিংবা বৃহস্পতিবার-শুক্রবার বেশি যাত্রীর চাপ থাকায় আগেই টিকেট কেটে নিতে হবে।

• চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেক ভ্রমণ :
চট্টগ্রাম থেকে সাজেক যেতে হলে প্রথমে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে বাসে উঠতে হবে। চট্টগ্রামের কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে সারাদিনে বিআরটিসির ৪টি এসি বাস পাওয়া যায়, ভাড়া নেওয়া হয় জনপ্রতি ২০০ টাকা। এবং অক্সিজেন মোড় থেকে প্রতি ঘণ্টায় শান্তি পরিবহনের বাস খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ভাড়া নেওয়া হয় জনপ্রতি ১৯০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি বাসে যেতে সময় লাগে ৪-৫ ঘণ্টা।

• কক্সবাজার থেকে খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেক ভ্রমণ :
কক্সবাজার থেকে সাজেক যেতে হলে প্রথমে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে বাসে উঠতে হবে। শান্তি পরিবহনের বাস রাত ৯টা ও ১০টায় কক্সবাজার থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। নন-এসি এই বাসের ভাড়া জনপ্রতি নেওয়া হয় ৫৫০ টাকা।

• খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক ভ্রমণ :
ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার থেকে খাগড়াছড়ি আসার পর এবার খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক ভ্যালি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার জন্য লোকাল কোনো বাস বা অন্যান্য গাড়ি নেই। যাওয়ার জন্য অবশ্যই রিজার্ভ সিএনজি, জীপ গাড়িতে বা চান্দের গাড়িতে যেতে হবে। ১২-১৫ জন যাত্রী বহন করতে পারবে এমন জীপ গাড়িতে যাওয়া-আসাসহ দুইদিন থাকায় খরচ পরবে ৮,০০০-১০,০০০। তবে সংখ্যায় কম হলে বা একা হলে অন্যান্য ছোট গাড়ি বা জীপ সমিতির সাথে যোগাযোগ করলে উনারাই অন্যান্য ভ্রমণ টিমের সাথে গাড়ি সেয়ারের ব্যবস্থা করে দিবেন। সিএনজিতে যাওয়া গেলেও পাহাড়ি উঁচু-নিচু রাস্তার জন্য সিএনজিতে না যাওয়ায় ভালো। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যেতে সময় প্রয়োজন ২-৩ ঘণ্টা।

• খাগড়াছড়ি জীপ সমিতির নির্ধারিত ভাড়া :
— খাগড়াছড়ি হতে সাজেক(আসা-যাওয়া)= ৫৪০০ টাকা
— খাগড়াছড়ি হতে সাজেক(১ রাত থাকা)= ৭,৭০০ টাকা
— খাগড়াছড়ি হতে সাজেক(আলুটিলা রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রীজসহ ১ রাত থাকা)= ৯,৭০০ টাকা
— খাগড়াছড়ি হতে সাজেক(২ রাত থাকা)= ১০,৫০০ টাকা
— খাগড়াছড়ি হতে সাজেক(আলুটিলা রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রীজসহ ১ রাত থাকা)= ১২,৫০০ টাকা

প্রতিটি জীপে ১২-১৫ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা রয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার রাস্তায় খাগড়াছড়ি হতে ২৩ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত দীঘিনালায় সেনাবাহিনী এসকোর্টে সবাইকে যেতে হবে। তবে সেনাবাহিনীর এসকোর্ট দিনে দুইবার বসে। প্রথমটি সকাল ৯:৩০ মিনিটে এবং অপরটি দুপুর ২:৩০ মিনিটে। তাই যেভাবেই হোক দীঘিনালা সকাল ৯:৩০ এর আগে নয়তো দুপুর ২:৩০ এর আগে পৌছাতে হবে। ৯:৩০ এরটা মিস গেলে ২:৩০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং ২:৩০ এরটা মিস গেলে তার পরেরদিন সকাল ৯:৩০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
যারা সংখ্যায় কম বা একাই তারা খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা এবং দীঘিনালা থেকে সাজেক যেতে পারবে। যেকোনো পরিবহন ঠিক করার আগে অবশ্যই ভেবে নিতে হবে।

• থাকার সু-ব্যাবস্থা :
সাজেক ভ্যালি ভ্রমণকারীদের কেন্দ্র করে সাজেকে গড়ে উঠেছে অনেক নতুন নতুন রিসোর্ট ও কটেজ। যেগুলোতে এক রাতের জন্য রুম নিতে রিসোর্ট ভেদে ভাড়া দিতে হবে ১,৫০০ থেকে ১৫,০০০ পর্যন্ত। তবে এর থেকে কম মূল্যে ভাড়া পাওয়া যাত আদিবাসী কটেজগুলোতে। তবে ছুটির দিন অনেক চাপ হওয়ার কারণে মাস খানেক আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখা ভালো।

• সাজেকে অবস্থিত রিসোর্টসমূহ :
১. রিসোর্ট রুংরাং (Resort RungRang) :
সাজেকে ভালো রিসোর্টগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রিসোর্ট রুংরাং। এই রিসোর্ট থেকেই উপভোগ করা যায় সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। রিসোর্ট রুংরাং এ রয়েছে ৪টি কাপল ও ৪টি ডাবল রুম। অর্থাৎ সর্বমোট ৮টি রুম। শুক্রবারসহ ছুটির দিনগুলোতে এক রাতের জন্য ডাবল বেড রুম ভাড়া ৩,৫০০ টাকা এবং কাপল বেড রুম ভাড়া ২,৮০০ টাকা। অন্যান্য দিনে ডাবল বেড রুম ভাড়া ২,৮০০ টাকা এবং কাপল বেড রুম ভাড়া ২,০০০ টাকা।

বুকিং এর জন্য যোগাযোগ :-
নাম্বার : 01884-71072301869-649817

২. সাজেক রিসোর্ট (Sajek Resort) :
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্ধারা পরিচালিত সাজেক রিসোর্টে রয়েছে নন এসি রুম ও এসি রুমের সুবিধা। রুম ভেদে ভাড়া নেওয়া হয় ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা। রয়েছে নিজস্ব রেস্টুরেন্ট। সেনাবাহিনী ও প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও ডিসকাউন্ট রয়েছে।

বুকিং এর জন্য যোগাযোগ :-
নাম্বার : 01859-02569401847-070395

৩. রুন্ময় রিসোর্ট (Runmoy Resort)
রুন্ময় রিসোর্ট হচ্ছে ৫ রুম বিশিষ্ট। যার প্রতিটি রুমে ২ জন করে থাকতে পারবে। নিচতলায় ভাড়া ৪,৪৫০ টাকা এবং উপরতলায় ভাড়া ৪,৯৫০ টাকা। যেকোনো রুমে অতিরিক্ত বেড নিতে চাইলে একস্ট্রা ৬০০ টাকার বিনিময়ে নিতে পারবে।

৪. মেঘপুঞ্জি রিসোর্ট (Meghpunji Resort) :
সাজেকের দৃষ্টিনন্দন রিসোর্টগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মেঘপুঞ্জি রিসোর্ট। এই রিসোর্টে রয়েছে ৪টি কটেজ। প্রতিটি কটেজে ৪ জন করে থাকতে পারবে এবং কটেজ প্রতি ভাড়া ৪,০০০-৪,৫০০ টাকা।

বুকিং এর জন্য যোগাযোগ :-
নাম্বার : 01815-761065

৫. অ্যাডভেঞ্চার রিসোর্ট (Madventure Resort) :
প্রশস্ত বারান্দা বিশিষ্ট এই রিসোর্টে রয়েছে ২৪ ঘণ্টা ইলেকট্রিসিটি ও পানির সু-ব্যাবস্থা। এই রিসোর্টে প্রিমিয়াম কাপল রুম ভাড়া ৪,০০০ টাকা এবং ক্লাসিক কাপল রুম ও ডাবল ক্লাসিক রুম ভাড়া ৩,৫০০ টাকা।

বুকিং এর জন্য যোগাযোগ :-
নাম্বার : 01885-424242

৬. মেঘ মাচাং (Megh Machang) :
সুন্দর, আকর্ষণীয় এবং তুলনামূলক কম খরচে থাকার জন্য মেঘ মাচাং ভালো একটি রিসোর্ট। ৫ রুম বিশিষ্ট এই রিসোর্টে রয়েছে খাবার ব্যাবস্থা। প্রতিটি রুম প্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩,০০০-৪,০০০ এর মধ্যে।

বুকিং এর জন্য যোগাযোগ :-
নাম্বার : 01822-168877

• কম খরচের কিছু রিসোর্টসমূহ :
তুলনামূলক কম খরচে রাত্রি যাপন করলে একদিকে টাকাও সেভ হবে, অন্যদিকে ভ্রমণ খরচ অনেকাংশে কমে যাবে। তাই দেখে নিই সাজেকে অবস্থিত কিছু কম খরচের রিসোর্টের তালিকা-

৭. আলো রিসোর্ট :
অল্প খরচের জন্য ভালো একটি রিসোর্ট হচ্ছে আলো রিসোর্ট। ৬ রুম বিশিষ্ট এই রিসোর্টে প্রতি রাতের জন্য ১,০০০-১,৫০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়।

বুকিং এর জন্য যোগাযোগ :-
নাম্বার : 01841-000645

৮. হাফং তং :
অল্প খরচে থাকার জন্য ৬ রুম বিশিষ্ট আরেকটি রিসোর্ট হচ্ছে হাফং তং। এই রিসোর্টের রুম প্রতি ভাড়া ১,০০০-১,৫০০ টাকা।

বুকিং এর জন্য যোগাযোগ :-
নাম্বার : 01875-999678

৯. পাহাড়িকা রিসোর্ট :
১২ রুম বিশিষ্ট এই রিসোর্টে ভাড়া নেওয়া হয় ১,০০০-১,৫০০ টাকা।

বুকিং এর জন্য যোগাযোগ :-
নাম্বার : 01824-658766

১০. আদিবাসী ঘর :
প্রয়োজনে আরো কম খরচে থাকার জন্য রয়েছে আদিবাসীদের ঘর। এই ঘরগুলোতে জন প্রতি ভাড়া নেওয়া হয় ১৫০-৩০০ টাকা। তবে আদিবাসীদের ঘর পরিবার নিয়ে থাকা না গেলেও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে থাকা যাবে খুব সহজেই।

• খাবারের সু-ব্যাবস্থা :
সাজেকের প্রায় প্রতিটি রিসোর্টে খাবারের ব্যাবস্থা রয়েছ। তাছাড়া রয়েছে অনেকগুলো রেস্টুরেন্ট। খাবারে বেলা প্রতি খরচ পরবে ১৫০-২৫০ টাকা। দেওয়া হবে ভাত, মুরগী, আলু ভর্তা, সবজি। তবে সাজেকে খুব সস্তায় সতেজ পেঁপে, কলা, আনারসসহ অনেক সুস্বাদু ফল পাওয়া যেতে পারে। যা একবার খেয়ে দেখতে পারেন।

• ভ্রমণ খরচ :
সাজেকে থাকা-খাওয়া দিয়ে ভ্রমণ খরচ একটু বেশি হয়ে যায়। তবে টিম করে ঘুরতে গেলে তুলনামূলক খরচ কিছুটা কম হয়। তবে সাজেক ভ্যালি ভ্রমণের একটা খরচ আইডিয়া দেওয়া হলো। ১০-১২ জন বহনকারী জীপ গাড়িতে ভাড়া নেওয়া হবে ৮,০০০-১০,০০০। তবে কোথায় কোথায় যাবেন সেটার উপর নির্ভর করে ভাড়া কম-বেশি হবে। খাবারে প্রতি বেলার জন্য ১৫০-২৫০ টাকা, রাত্রি যাপনে প্রতি রাত প্রতি ৫০০-৮০০ টাকা ইত্যাদি। পাশাপাশি এন্ট্রি ফি, গাড়ি পার্কিং ও আনুষঙ্গিক খরচ।

সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ টিপস-

• সাজেকে শুধুমাত্র রবি, এয়ারটেল ও টেলিটক সিম এর নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। তাই এই সিমগুলো সাথে রাখার চেষ্টা করবেন।
• কারেন্ট নেই, সাজেকের রিসোর্টগুলো সোলার ও জেনারেটরে পাওয়ার সাপ্লাই করে। তাই মোবাইল ফোন চার্জ করার জন্য পাওয়ার ব্যাংক সাথে নিয়ে যাবেন।
• আদিবাসীদের ছবি তুলার সময় অবশ্যই উনাদের অনুমতি নিবেন। আদিবাসীরা বিরক্ত হবে এমন কিছু করবেন না।
• সাজেকের যাত্রাপথ ও পাহাড়ি এলাকা অনেক আঁকাবাঁকা ও উঁচুনিচু। তাই জীপে ভ্রমণের সময় অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। জীপের ছাদে উঠা যাবে না, সেনাবাহিনীর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
• আদিবাসীদের সাথে ভদ্র ব্যবহার করুন এবং সম্মান দিবেন। যেকোনো ময়লা-আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন।
• সাজেকে যাওয়ার পথে নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন ক্যাম্পে চেক করা হবে। তাই সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি রাখুন।

বিঃদ্রঃ সাজেক ভ্যালি ভ্রমণের জন্য সকল তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত। তাই যাতায়াত খরচ, থাকার খরচ এবং খাবার খরচ বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে পরিবর্তন হতে পারে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More