(মানব শারীরতত্ত্ব: সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

মানব শারীরতত্ত্ব: সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের ৮ম অধ্যায়। মানব শারীরতত্ত্ব: সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায় থেকে সেরা বাছাইকৃত ৪টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : পরিবেশের সাথে যোগাযোগের জন্য আমাদের দেহে কিছু সংবেদী অঙ্গ রয়েছে। যেমন- চোখ, কান ও নাক ইত্যাদি।

ক. করোটিক স্নায়ু কী?
খ. প্রভৃগ্রন্থি কোনটি এবং কেন?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গগুলো কিভাবে পরিবেশের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তা সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ের আলোকে উল্লেখ কর।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় অঙ্গটি শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে উদ্ভিটি ব্যাখ্যা কর।

সমাধান : ক. যেসব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ হতে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে গমন করে তাই হলো করোটিক স্নায়ু।

খ. পিটুইটারি গ্রন্থি-ই হলো প্রভূগ্রন্থি। পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের সাথে সংযুক্ত একটি গোলাকার গ্রন্থি। এটি একদিকে যেমন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হরমোন নিঃসৃত করে অন্যদিকে বিভিন্ন গ্রন্থির উপর এসব হরমোনের প্রভাবও সবচেয়ে বেশি। তাই পিটুইটারি গ্রন্থিকে প্রভৃগ্রন্থি বলে।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গগুলো অর্থাৎ চোখ, নাক এবং কান যথাক্রমে দর্শন, শ্বসন, শ্রবণ এবং ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে।
পরিবেশের কোন বস্তু হতে আগত আলোকরশ্মি যখন চোখের উপর পড়ে তখন সেই আলো কর্ণিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমার, লেন্স ও ভিট্রিয়াস হিউমারের মধ্যদিয়ে রেটিনায় এসে পড়ে। রেটিনার উপর বস্তুটির একটি সংক্ষিপ্ত ও উল্টা প্রতিবিম্বের সৃষ্টি হয় যা মস্তিষ্কে গিয়ে আবার উল্টে যায় এবং দর্শনাভূতির সৃষ্টি হয়। নাকের নাসারন্দ্রের মাধ্যমে 02 ট্রাক্রিয়া, ব্রঙ্কাই হয়ে ফুসফুসে পৌছায় আবার ফুসফুস হতে উল্টো পথে CO2 নাসারন্দ্রের মাধ্যমে বের হয়।

এভাবে নাকের মাধ্যমে শ্বসন সংঘটিত হয়। আবার পরিবেশে সৃষ্ট কোন শব্দ কানের টিমপেনিক পর্দায় আঘাত করলে, কম্পনের তৈরি হয়। সেই কম্পন মধ্যকর্ণ, অন্তঃকর্ণের মধ্য দিয়ে গিয়ে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে পৌঁছায়। এভাবেই শ্ৰবণ ক্রিয়া সম্পাদন হয়। আবার অন্তঃকর্ণের মাধ্যমে পরিবেশে মানুষ তার নিজের ভারসাম্যও রক্ষা করে। তাই উল্লিখিত অঙ্গগুলো দর্শন, শ্রবণ, ভারসাম্য এবং শ্বসন ক্রিয়ার মাধ্যমেই মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করেছে।

ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় অঙ্গটি অর্থাৎ কান শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শ্রবণ এর ক্ষেত্রে কানের পিনায় সংগৃহীত শব্দতরঙ্গ বহিঃঅডিটরি মিটাসে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দাকে আঘাত করলে তা কেঁপে ওঠে। কাঁপনে মধ্যকর্ণে অবস্থিত ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস অস্থি ৩টি এমনভাবে আন্দোলিত হয় যার ফলে প্রথমে ফেনেস্ট্রা ওভালিসের পর্দা ও পরে অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার পেরিলিম্ফে কাঁপন সৃষ্টি হয়। পেরিলিম্ফে কাঁপন হলে ককলিয়ার অর্গান অব কটির সংবেদি রোম কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে স্নায়ু আবেগের সৃষ্টি হয়। এ আবেগ অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে বাহিত হলে আমরা শুনতে পাই। এরপর বাকি শব্দতরঙ্গ ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা পর্দার মাধ্যমে মধ্যকর্ণে চলে আসে ও প্রশমিত হয়ে যায়।

ভারসাম্য রক্ষাকারী অঙ্গ হিসেবে মানুষের অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাসের অর্ধবৃত্তাকার নালিসমূহ, ইউটিকুলাস ও স্যাকুলাস ভারসাম্য সংবেদি অঙ্গ গঠন করে। ইউটিকুলাস ও স্যাকুলাসে স্যাকুলা নামক কতগুলো কোষগুচ্ছ থাকে। স্যাকুলাতে সংবেদি রোম এবং অটোলিথ নামক ক্যালসিয়াম কার্বনেট গঠিত চূর্ণময় দানা থাকে। যদি মাথা একদিকে কাত হয়ে যায়, তবে অটোলিথসমূহ স্যাকুলার রোমগুলোকে উত্তেজিত করে। তাছাড়া অটোলিথ এন্ডোলিম্ফ অর্ধবৃত্তাকার নালি ৩টিতেও প্রবেশ করে এবং তাদেরকে উত্তেজিত করে। ফলে রোমগুলো ঐ বিশেষ দিকে বেঁকে যায়। ফলে এক প্রকার উদ্দীপনার সৃষ্টি হয় যা যথাক্রমে ভেস্টিবুলার স্নায়ু ও অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। তখন মস্তিষ্কের নির্দেশে প্রয়োজনীয় পেশির সংকোচনের দ্বারা দেহ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এভাবে কান দ্বারা দেহের ভারসাম্য রক্ষা হয়।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : একটি অঙ্গই মানুষের শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষা করে।

ক. উপযোজন কাকে বলে?
খ. দ্বিনেত্র দৃষ্টি বলতে কী বুঝ?
গ. উদ্দীপকের উল্লিখিত অঙ্গটির চিহ্নিত চিত্র অংকন কর।
ঘ. উক্ত অঙ্গের মাধ্যমে উল্লিখিত কৌশল দুটি সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

সমাধান : ক. দর্শনীয় বস্তু এবং চোখের ম্যবর্তী দূরত্ব অপরিবর্তিত রেখে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্যে চোখ যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন ঘটায় তাকে বলে উপযোজন।

খ. একই সাথে দু’চোখের সাহায্যে কোন বস্তুকে এককভাবে দেখার নাম-ই দ্বিনেত্র দৃষ্টি। মানুষ দ্বিনেত্র দৃষ্টি সম্পন্ন প্রাণী। দর্শনীয় বস্তু হতে আলো চোখের চারটি প্রতিসরণ মাধ্যম ভেদ করে রেটিনায় পৌঁছায় এবং বস্তুটির একটি উল্টা ও খাটো বিম্ব তৈরি করে। এভাবে দুটি চোখের সৃষ্ট প্রতিবিম্বগুলো সম্বনিত হয়ে মস্তিষ্কে গিয়ে আবার উল্টে যায়। ফলে একটি বস্তুর সোজা ও একক বিম্ব আমরা দেখতে পাই।

গ. উদ্দীপকে আলোচিত অঙ্গটি হলো মানুষের কান। মানুষের কানের চিহ্নিত চিত্রটি সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ে দেওয়া আছে।

ঘ. উদ্দীপকের অঙ্গটি অর্থাৎ কান একই সাথে শ্রবণ ও ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। কানের শ্রাবণ ও ভারসাম্য রক্ষার কৌশল সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : একটি পুরাতন প্রচলিত প্রবাদ আছে, যার চোখের দৃষ্টি নাই তার কিছুই নাই, সত্যিই তাই, এজন্য আমাদের সকলের উচিৎ চোখের
যত্ন নেওয়া, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে চোখের দৃষ্টি ক্ষমতা আস্তে আস্তে লোপ পেতে থাকে। তখন আমরা অন্য একটি কৌশল অবলম্বন করে দেখে থাকি।

ক. সিন্যাপস কি?
খ. নিউরণ ও নেফ্রনের পার্থক্য কর।
গ. উদ্দীপকের মূল্যবান অংগটির লম্বচ্ছেদ এর চিহ্নিত চিত্র অংকন কর।
ঘ. অংকিত চিত্রের বিভিন্ন অংশের কাজ সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ের আলোকে উল্লেখ কর।

সমাধান : ক. দুটি নিউরনের সংযোগস্থলই হলো সিন্যাপস।

খ. নিউরণ হলো স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কাজের একক। অন্যদিকে নেফ্রন হলো বৃক্কের গঠন ও কাজের একক। নিউরণ সমগ্র দেহে অবস্থান করে আর নেফ্রন শুধুমাত্র বৃক্কে অবস্থান করে। নিউরণ মস্তিষ্কের দিকে বা মস্তিষ্ক থেকে উদ্দীপনা দেহে সংবহন সৃষ্টি করে পক্ষান্তরে রক্ত হতে N2 জাত বর্জ্য পদার্থ পৃথক করে মুত্র হিসেবে ইউরেটারে প্রেরণ করে নেফ্রন। নিউরণ ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম হতে এবং নেফ্রন ভ্রূণীয় মেসোডাম হতে সৃষ্টি হয়।

গ. উদ্দীপকের মূল্যবান অঙ্গটি হলো মানুষের চোখ। চোখের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ে দেওয়া আছে।

ঘ. চোখের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন কাজ করে। এ সম্পর্কে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

— ৬ষ্ঠ অধ্যায় : বর্জ্য ও নিষ্কাশন
— ৭ম অধ্যায় : চলন ও অঙ্গচালনা

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ : কান এমন একটি বিশেষ ইন্দ্রিয় যা একাধারে শ্রবণ ও দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ করে। মানুষের মাথার দুই পাশে ও
চোখের পেছনে করোটির শ্রুতি কোঠরে দুটি কান অবস্থান করে।

ক. ওমাটিডিয়াম কী?
খ. মানুষের প্রথম চারটি করোটিক স্নায়ুর নাম লেখ।
গ. উদ্দীপকে যে অঙ্গটির কথা বলা হয়েছে তার সবচেয়ে ভিতরের অংশের বর্ণনা দাও।
ঘ. শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় উদ্দীপকের অঙ্গটির ভূমিকা সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

সমাধান : ক. ঘাসফড়িং এর প্রতিটি পুঞ্জাক্ষির ষড়ভূজাকৃতির দর্শন হলো ওমাটিডিয়াম।

খ. মানুষের প্রথম চারটি করোটিক স্নায়ুর নাম নিচে দেয়া হলো—
i. অলফ্যাক্টরি স্নায়ু।
ii. অপটিক স্নায়ু ।
iii. অকুলোমোটর স্নায়ু।
iv. টুকলিয়ার স্নায়ু।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটির অর্থাৎ কানের সবচেয়ে ভিতরের অংশের নাম অন্তঃকর্ণ। এ সম্পর্কে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ে বর্ণনা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকের বিশেষ ইন্দ্রিয় অর্থাৎ কান শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সম্পর্কে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More