(মানব শারীরতত্ত্ব: শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

মানব শারীরতত্ত্ব: শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের ৫ম অধ্যায়। মানব শারীরতত্ত্ব: শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায় থেকে সেরা বাছাইকৃত ৫টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : আসিম একজন চেইন স্মোকার। ধূমপানের ফলে তার দেহ দিন দিন দুর্বল ও ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়লে সে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। ডাক্তার তাকে কিছু ওষুধ দিয়ে ধূমপান না করার উপদেশ দেন। ডাক্তার জানালেন, ধূমপানের কারণে লৌহ কণিকার অভাবে রক্তের একটি বিশেষ অংশ ঠিকভাবে গঠিত হতে পারে না।
ক. অন্তঃশ্বসন কী?
খ. প্লুরোসি কীভাবে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা করে?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত রক্তের বিশেষ অংশটি কীভাবে কাজ করে তা শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আসিমের অভ্যাস তার জীবনে কী ধরনের পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে তুমি মনে করো?

সমাধান : ক. যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোষের ভেতরে গ্লুকোজ জারিত হয়ে শক্তি ও CO2 উৎপন্ন হয় এবং শ্বসন গ্যাস O2 ও CO2 রক্ত দ্বারা বাহিত হয় সে প্রক্রিয়াই হলো অন্তঃশ্বসন।

খ. প্রতিটি ফুসফুস প্লুরা নামক এক ধরনের ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে। এ ঝিল্লি স্ফীত হয়ে প্লুরা গহ্বরে পানি জমলে প্লুরোসি রোগ হয়। এ রোগ হলে ফুসফুসের চারদিকে তরল পুঁজ জমে ফুসফুসের নড়াচড়া সীমিত করে দেয়। এর ফলে অত্যাধিক ব্যথায় শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন ঘটে।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত রক্তের বিশেষ অংশটি হলো হিমোগ্লোবিন। যা রক্তের লোহিত রক্তকণিকায় বিদ্যমান লাল বর্ণের লৌহযুক্ত প্রোটিনধর্মী পদার্থ। শ্বসনের সময় অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ফুসফুস থেকে রক্তে প্রবেশ করে। শতকরা প্রায় ৯৮ ভাগ O2 লোহিত রক্ত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। মাত্র শতকরা প্রায় ২ ভাগ O2 রক্তরসের সাথে দ্রবীভূত অবস্থায় পরিবাহিত হয়। রক্তে প্রবিষ্ট সমস্ত অক্সিজেনই মুক্ত অবস্থায় থাকে না। এর একটি বড় অংশ লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন নামক অস্থায়ী যৌগ গঠন করে। এ যৌগ গঠন রক্তরসে অক্সিজেনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। রক্তরসে যত বেশি অক্সিজেন দ্রবীভূত হবে তার সাথে সংগতি রেখে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে অক্সিজেনের পরিমাণ যে হারে কমে যাবে যৌগ সে হারে ভেঙ্গে যাবে এবং অক্সিজেন মুক্ত হয়ে রক্ত রসে প্রবেশ করে। অপরদিকে কলাকোষ থেকে রক্তের প্লাজমায় আগত CO2 এর কিছু অংশ লোহিত কণিকায় প্রবেশ করে। লোহিত কণিকার মধ্যে যে হিমোগ্লোবিন থাকে এর গ্লোবিন অংশের অ্যামিনো গ্রুপের (-NH.) সাথে CO2 যুক্ত হয়ে কার্বোমিনো হিমোগ্লোবিন নামক অস্থায়ী যৌগ গঠন করে। এ কার্বোমিনো হিমোগ্লোবিন যৌগ রক্তের সাথে বাহিত হয়ে ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের ব্যবধায়ক পর্দার কৈশিক জালিকায় আসার পর বিপরীতমুখী বিক্রিয়ার মাধ্যমে CO2 মুক্ত করে। অতঃপর ব্যাপনের মাধ্যমে কৈশিক জালিকার প্রাচীর ভেদ করে CO2 অ্যালভিওলাসে প্রবেশ করে। এভাবেই, উদ্দীপকে উল্লেখিত রক্তের বিশেষ অংশটি অর্থাৎ হিমোগ্লোবিন শ্বসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঘ. উদ্দীপকের চেইন স্মোকার আসিমের অভ্যাসের অর্থাৎ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট জটিলতা তার জীবনে করুণ পরিণতি ঘটাতে পারে। সে বিভিন্ন ধরনের তামাকজাত দ্রব্য যেমন— বিড়ি, সিগারেট থেকে ধূমপান করে। এসব তামাকজাত দ্রব্যের মধ্যে বিষাক্ত নিকোটিন, টার ও কার্বন মনোক্সাইড বিদ্যমান থাকে। এসব পদার্থ বিভিন্নভাবে ফুসফুসের বিভিন্ন অংশের ক্ষতি সাধন করে। ধূমপান করার ফলে তার ফুসফুসে নিকোটিন ও টার জমে কালো রং ধারণ করবে। ধূমপান ফুসফুসের বায়ুকুঠুরীর প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বায়ু কুঠুরীর প্রাচীর শক্তরূপ ধারণ করে।

ফলে অক্সিজেন বিনিময়ের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। ধূমপানের ফলে ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বস্তু প্রবেশ করে ফলে ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে ফুসফুস কলা কালো হয়ে বিভিন্ন বর্ণ ধারণ করে। এছাড়া ধূমপানের ফলে এমফাইসেমা, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ হতে পারে। তাই উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ধূমপানের কারণে উদ্দীপকে উল্লেখিত চেইন স্মোকার জাহিদের জীবনে উপরোক্ত সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ শ্বাসনালী সহজেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। শ্বাসনালীর একটি সাধারণ রোগ সাইনুসাইটিস। এ রোগের কারণে প্যারান্যাসাল সাইনাসের অভ্যন্তরে তরল জমে মিউকাস ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
ক. ওটিটিস মিডিয়া কী?
খ. শ্বসন বলতে কী বোঝ?
গ. উদ্দীপকে আলোচিত রোগটির লক্ষণ শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ের আলোকে বর্ণনা করো।
ঘ. উদ্দীপকের রোগটির কারণ ও প্রতিকার শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ের আলোকে আলোচনা করো।

সমাধান : ক. ওটিটিস মিডিয়া হলো মধ্যকর্ণের অভ্যন্তরে জীবাণু অনুপ্রবেশের ফলে দাহ।

খ. প্রাণীদেহে খাদ্যের দহনের নাম শ্বসন। শ্বসন প্রক্রিয়ায় জারণের ফলে সজীব কোষস্থ খাদ্যের স্থিতিশক্তি তাপ ও গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয়। এ তাপশক্তি সঞ্জীব কোষের যাবতীয় জৈব ক্রিয়া সম্পাদন করে।

গ. উদ্দীপকে আলোচিত রোগটি হলো সাইনুসাইটিস। সাইনুসাইটিস রোগের লক্ষণ শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ে বর্ণনা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকের উল্লেখিত রোগটি হলো সাইনুসাইটিস। সাইনুসাইটিস রোগের কারণ ও প্রতিকার শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : রকিব ও আকিব দুই ভাই। উভয়েই শ্বসনতন্ত্রের সমস্যায় ভুগছে। আকিবের চোখের চারপাশসহ মাথা ব্যথা, নাক বন্ধ থাকে, মাথা নিচু করলে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়। রাকিব ধূমপান করে, কিন্তু আকিব তা থেকে দূরে থাকে।
ক. রবিন হুড অনু কোনটি?
খ. শ্বসন বৃক্ষ বলতে কী বোঝায়?
গ. আকিবের সমস্যাটির কারণ এবং এটি প্রতিকারের উপায় আলোচনা করো।
ঘ. দুই ভাইয়ের ফুসফুসের এক্স-রে পরীক্ষা করা হলে কী কী অসামঞ্জস্য তা দেখা যেতে পারে বলে তুমি মনে করো।

সমাধান : ক. রবিন হুড অণু হলো লোহিত রক্ত কণিকার হিমোগ্লোবিন।

খ. সমস্ত বায়ুনালী সিস্টেম একটি বৃক্ষের শাখা-প্রশাখার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে একে সাধারণভাবে শ্বসনবৃক্ষ বলা হয়। শ্বাসনালী বিভক্ত হয়ে দুটি বড় ব্রঙ্কাই গঠন করে। প্রতিটি ব্রঙ্কাস ফুসফুসে প্রবেশ করে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, একে ব্রঙ্কিওল বলে। ব্রঙ্কাস ফুসফুসে প্রবেশের পর ডান ফুসফুসে ৩টি লোবে এবং বাম ফুসফুসের ২টি লোবে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়, যা পুনরায় বিভক্ত হয়ে টারশিয়ারী শাখা গঠন করে। এভাবে প্রতি ফুসফুসের প্রতিটি ব্রঙ্কিওল বারবার বিভক্ত হয়ে অ্যালভিওলার নালী গঠন করে যার শেষ প্রান্ত স্ফীত হয়ে অ্যালভিওলাসে পরিণত হয়।

গ. উদ্দীপকে আকিবের যে সমস্যাটির কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে সাইনুসাইটিস। এ সম্পর্কে শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

ঘ. আকিব অধূমপায়ী হলেও রাকিব ধূমপায়ী। ফলে দুজনের ফুসফুসের এক্সেরের চিত্রের অবস্থা ভিন্ন হবে। এ সম্পর্কে শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ : ধূমপানে আসক্ত করিম সাহেব ইদানীং একটু পরিশ্রম করলেই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। ডাক্তার তার ফুসফুসের এক্সরে রিপোর্টে কিছু সমস্যা চিহ্নিত করে ধূমপান বর্জনের পরামর্শসহ ঔষধ দিলেন। ডাক্তার প্রসঙ্গক্রমে রক্তের লোহিত কণিকার একটি উপাদানের কথা বললেন যা শ্বসনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ক. Otitis media কি?
খ. মানুষের সাইনাসের প্রকার ও অবস্থান লিখো।
গ. ডাক্তারের বর্ণিত রক্তকণিকা শ্বসনে কি ভূমিকা পালন করে তা শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ের আলোকে বিক্রিয়াসহ ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত আসক্তি করিম সাহেবের জীবনে কি ধরনের জটিলতা ও পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে মনে কর তার বর্ণনা লিখো।

সমাধান : ক. মধ্যকর্ণের অভ্যন্তরে জীবাণু অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রদাহই হলো ওটিটিস মিডিয়া।

খ. অবস্থান অনুসারে মানুষের সাইনাস চার প্রকার। যথা:
i. ম্যাক্সিলারি সাইনাস- অবস্থিত গালে।
ii. ফ্রন্টাল সাইনাস- অবস্থিত চোখের উপরে।
iii. এথময়ডাল সাইনাস- অবস্থিত দু’চোখের মাঝখানে।
iv. স্ফেনয়ডাল সাইনাস- অবস্থিত চোখের পেছনে।

গ. উদ্দীপকে ডাক্তারের বর্ণিত লোহিত রক্তকণিকার বিশেষ উপাদানটি হলো হিমোগ্লোবিন যা শ্বসনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এ সম্পর্কে শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে করিম সাহেব ধূমপানে আসক্ত। ধূমপানের কারণে কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে তা শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

— ৩য় অধ্যায় : মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ
— ৪র্থ অধ্যায় : মানব শারীরতত্ত্ব: রক্ত ও সংবহন

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ : মানবদেহ সম্পর্কে পড়ানোর সময় শিক্ষক বললেন যে বক্ষ গহ্বরের হৃৎপিন্ডের দু’পাশে এবং ডায়াফ্রামের উপরে হালকা গোলাপি রঙ্গের স্পঞ্জের মতো দুটি অঙ্গ রয়েছে যারা একটি সাধারণ নালী দ্বারা পরস্পরের সহিত সংযুক্ত। তিনি আরো বললেন ধূমপায়ী ও অধূমপায়ীর ক্ষেত্রে অঙ্গটির অন্তর্গঠনে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
ক. সাইনুসাইটিস কী?
খ. শ্বসন রঞ্জক কী?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গের মাধ্যমে গ্যাসীয় বিনিময় তা শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপক অনুসারে শিক্ষকের শেষ উক্তিটির তাৎপর্য শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. সাইনাসের মিউকাস ঝিল্লীতে সৃষ্ট প্রদাহই হলো সাইনুসাইটিস।

খ. মানুষের রক্তের লোহিত কণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিন হলো শ্বসনরঞ্জক। হিমোগ্লোবিন হচ্ছে ক্রোমোপ্রোটিন বা রঙিন আমিষ। এটি অক্সিজেনের সাথে মিশে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠনের মাধ্যমে O2 পরিবহন করে। আবার CO2 এর সাথে কার্বোমিনো-হিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এটি কিছু পরিমাণ CO2 ও পরিবহন করে।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি ফুসফুস। গ্যাসীয় বিনিময়ে ফুসফুস সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এ সম্পর্কে শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ে ব্যাখ্যা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকে শিক্ষকের শেষ উক্তিটি ছিলো, ‘ধূমপায়ী ও অধূমপায়ী ফুসফুসের ভিন্নতা প্রসঙ্গে। এ সম্পর্কে শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

Show Comments (2)

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More