(মানব শারীরতত্ত্ব: রক্ত ও সংবহন) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

মানব শারীরতত্ত্ব: রক্ত ও সংবহন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের ৪র্থ অধ্যায়। মানব শারীরতত্ত্ব: রক্ত ও সংবহন অধ্যায় থেকে সেরা বাছাইকৃত ৭টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : আমাদের দেহে এক ধরনের তরল যোজক টিস্যু রয়েছে। এ টিস্যুর কোষগুলো রক্ত তঞ্চনসহ দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করে।
ক. ডিম্বপাত কী?
খ. ব্যারোরিসিপ্টার বলতে কী বোঝ?
গ. রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।
ঘ. উদ্দীপকের টিস্যুর কোষগুলো দেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে – ব্যাখ্যা করো।

সমাধান : ক. ডিম্বাশয়ের গ্রাফিয়ান ফলিকলের প্রাচীর ভেঙ্গে পরিপক্ক ডিম্বাণু বা সেকেন্ডারী উওসাইট বের হয়ে আসাই হলো ডিম্বপাত।

খ. মানুষের রক্তবাহিকার প্রাচীরে বিশেষ সংবেদী স্নায়ু প্রান্ত থাকে যা রক্তচাপ পরিবর্তনে বিশেষভাবে সাড়া দেয় এবং দেহের রক্ত চাপের ভারসাম্য রক্ষা করে। এই সংবেদী স্নায়ু প্রান্তকে ব্যারোরিসিপ্টার বলা হয়। ব্যারোরিসিপ্টার দুই ধরনের, যথা— উচ্চচাপ ব্যারোরিসিপ্টার এবং নিম্নচাপ ব্যারোরিসিপ্টার।

গ. দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে রক্তপাত শুরু হয়। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্বাভাবিকভাবে অধিকাংশ মানুষের ক্ষতস্থানে রক্তজমাট বেঁধে ধীরে ধীরে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে, দেহের হাতের কাটা অংশ হতে রক্ত যখন বের হতে থাকে তখন ঐ অংশের অণুচক্রিকাগুলো বাতাসের সংস্পর্শে এসে ভেঙ্গে যায় এবং থ্রম্বোপ্লাস্টিন নামক পদার্থের সৃষ্টি হয়। এই থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তে বিদ্যমান রক্তজমাট বাঁধাতে বাধাদানকারী হেপারিনকে অকেজো করে দেয় এবং রক্তরসে অবস্থিত ক্যালসিয়াম আয়নের উপস্থিতিতে প্রোথ্ৰম্বিন এর সাথে বিক্রিয়া করে থ্রম্বিন উৎপন্ন করে। অতঃপর থ্রম্বিন রক্তে অবস্থিত ফাইব্রিনোজেন নামক প্রোটিনের সাথে মিলে ফাইব্রিন নামক সূত্রের সৃষ্টি করে। সূত্রগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে জালকের আকার ধারণ করে। এ ফাইব্রিনের জালে লোহিত রক্তকণিকাগুলো আটকে যায়। ফলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয় এবং রক্ত জমাট বেঁধে যায়।

ঘ. উদ্দীপকের তরল যোজক টিস্যুটি হলো রক্ত। রক্ত দেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা আলোচনা করা হলো রক্তের শ্বেত কণিকার মনোসাইট ও নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে ধ্বংস করে। লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে রোগ প্রতিরোধ করে। বেসোফিল হেপারিন উৎপন্ন করে যা রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্তজমাট রোধ করে। দানাদার লিউকোসাইট হিস্টামিন সৃষ্টি করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় । ইওসিনোফিল রক্তে প্রবেশকৃত কৃমির লার্ভা এবং অ্যালার্জিক অ্যান্টিবডি ধ্বংস করে। এছাড়া অনুচক্রিকা ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে কার্বন কণা, ইমিউন কমপ্লেক্স ও ভাইরাসকে ভক্ষণ করে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : সুমনের বাবা ভোজনবিলাসী, স্থূলদেহী । অফিসে কাজ করার সময়, বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করেন এবং ঘামতে থাকেন। তাকে ডাক্তারের কাছে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে ই.সি.জি করার পরামর্শ দেন। দিক্ষিণ সুরমা কলেজ, সিলেট
ক. SAN কী?
খ. রক্ত তঞ্চন বলতে কী বোঝ?
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত আক্রান্ত অংগটির লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র অংকন করো।
ঘ. সুমনের বাবার সম্ভাব্য রোগসমূহ প্রতিরোধে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়— যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।

সমাধান : ক. SAN হলো হৃৎপিন্ডের স্পন্দনের উত্তেজনা সৃষ্টিকারী প্রাকৃতিক পেসমেকার, যার পূর্ণরূপ Sino Atrial Node.

খ. দেহের ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বাধার প্রক্রিয়াই হলো রক্ত তঞ্চন। কোনো স্থান কেটে গেলে ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত শুরু হয়। ক্ষতস্থান থেকে নির্গত হওয়া রক্তের প্লাজমা থেকে ফাইব্রিনোজেন আলাদা হয়ে ক্ষতস্থানে ফাইব্রিন জাল নির্মাণ করে। রক্তের লোহিত কণিকাগুলো এই ফাইব্রিন জালকে আটকে যায়। ফলে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয় এবং রক্ত জমাট বেঁধে যায়।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অংগটি হলো হৃৎপিণ্ড। হৃংপিণ্ডের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র রক্ত ও সংবহন অধ্যায়ে দেওয়া আছে।

ঘ. উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, সুমনের বাবার বুকে ব্যাথা হচ্ছে। এ সম্পর্কে রক্ত ও সংবহন অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : জামান সাহেবের কয়েকদিন যাবৎ প্রচন্ড বুকে ব্যথা। এ ব্যথা প্রায়শই কাঁধ, বাহু, ধড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের ডাক্তার ব্যথা নাশক ঔষধ দিয়েছিল। কিন্তু ব্যথা না কমায় ঢাকা নিয়ে এলে ডাক্তার একে হৃৎপিন্ডের সমস্যা বলে চিকিৎসা শুরু করেন।
ক. পেরিকার্ডিয়াম কী?
খ. করোনারি সংবহন বলতে কী বোঝ?
গ. উদ্দীপকে জামান সাহেবের বুকে ব্যথার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে জামান সাহেবের রোগের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. হৃৎপিন্ডের দ্বিস্তরী মসৃন ও পাতলা আবরণটি হলো পেরিকার্ডিয়াম।

খ. যে পদ্ধতিতে হৃৎপিন্ডের প্রাচীরে রক্ত সংবহিত হয় তাকে করোনারি সংবহন বলে। হৃৎপিন্ডের প্রাচীরে সরাসরি হ্রদগহ্বর থেকে রক্ত সঞ্চালিত হয় না, সিস্টেমিক ধমনির গোড়া হতে সৃষ্ট করোনারি ধমনির মাধ্যমে হৃৎপিন্ডের প্রাচীরে O2 সমৃদ্ধ রক্ত সংবহিত হয়। হৃৎপিন্ডের প্রাচীর হতে CO2 সমৃদ্ধ রক্ত করোনারী শিরার মাধ্যমে হৃৎপিন্ডের ডান অলিন্দে প্রবেশ করে।

গ. উদ্দীপকের তথ্যমতে জামান সাহেব অ্যানজাইনা বা বুকে ব্যাথা রোগে আক্রান্ত। বুকে ব্যাথার প্রকৃত কারণ রক্ত ও সংবহন অধ্যায়ে ব্যাখ্যা করা আছে।

ঘ. জামান সাহেবের রোগের আধুনিক চিকিৎসা হলো অ্যানজিওপ্লাস্টি। এ সম্পর্কে রক্ত ও সংবহন অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ : শীলার বাবা বুকে ব্যাথার কারণে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার সঙ্গে সঙ্গে ইসিজি করিয়ে রিপোর্ট দেখে বললেন রক্ত সংবহনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গে সমস্যা হয়েছে।
ক. নেফ্রন কী?
খ. মূত্রের উপাদানগুলোর নাম লিখো।
গ. উদ্দীপকে আলোচিত অঙ্গটির লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।
ঘ. শীলার বাবার সম্ভাব্য রোগটি প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়? বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যিক এককই হলো নেফ্রন।

খ. মূত্রের প্রধান উপাদানগুলো হলো- পানি, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, অ্যামোনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্লোরাইড, ফসফেট, সালফেট ইত্যাদি।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অংগটি হলো হৃৎপিণ্ড। হৃংপিণ্ডের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র রক্ত ও সংবহন অধ্যায়ে দেওয়া আছে।

ঘ. উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, শীলার বাবার বুকে ব্যাথা। এ সম্পর্কে রক্ত ও সংবহন অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ : রাজীব সাহেবের বয়স ৪৫। এই বয়সে উনি মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে পা কেটে ফেললেন এবং বুকে তীব্র ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করলো। নিরসিংদী বিজ্ঞান কলেজ
ক. Rh ফ্যাক্টর কী?
খ. কার্ডিয়াক চক্র বলতে কী বোঝ?
গ. উদ্দীপকের বুকে ব্যাথায় আক্রান্ত হওয়া অঙ্গটির লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র অংকন করো।
ঘ. রাজীব সাহেবের পা কেটে রক্ত পড়া বন্ধ হবার কৌশল এবং এর জন্য দায়ী উপাদানটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য জরুরী আলোচনা করো।

সমাধান : ক. রেসাস বানরের রক্তের লোহিত কণিকায় বিশেষ ধরনের এন্টিজেন পাওয়া যায় যা মানুষের লোহিত কণিকার ঝিল্লিতেও আবিষ্কৃত হয়। রেসাস বানরের নামানুসারে এই অ্যান্টিজেনই হলো রেসাস ফ্যাক্টর বা Rh ফ্যাক্টর।

খ. হৃৎপিন্ডের একবার সংকোচন ও একবার প্রসারণকে একত্রে হার্টবিট বা হৃৎস্পন্দন বলে। প্রতি হৃৎস্পন্দন সম্পন্ন করতে সংকোচন ও প্রসারণের যে চক্রাকার ঘটনাবলি অনুসৃত হয় তাকে কার্ডিয়াক চক্র বা হচক্র বলে।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অংগটি হলো হৃৎপিণ্ড। হৃংপিণ্ডের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র রক্ত ও সংবহন অধ্যায়ে দেওয়া আছে।

ঘ. দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে রক্তপাত শুরু হয়। এ সম্পর্কে রক্ত ও সংবহন অধ্যায়ে আলোচনা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৬ : আম কাটতে গিয়ে পায়েলের হাত কেটে গেল। এর ফলে সেখান থেকে কিছু লাল তরল পদার্থ বের হলো। একটু পরে সেই পদার্থ জমাট বেঁধে গেল।
ক. অ্যানজাইনা কী?
খ. ABO রক্তগ্রুপ বলতে কী বোঝ?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত লাল তরল পদার্থটি যে অঙ্গের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় সেই অঙ্গটির লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।
ঘ. উদ্দীপকে লাল তরল পদার্থ জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।

সমাধান : ক. হৃৎপেশি অক্সিজেন সমৃদ্ধ পর্যাপ্ত রক্ত না পেলে বুক নিস্পেষিত হয়ে আসে বা দম বন্ধ হয়ে আসে এবং মারাত্মক অস্বস্তি অনুভূত হয়। এই ধরনের বুক ব্যাথাই হলো অ্যানজাইনা।

খ. মানুষের রক্তে A ও B এ দু’রকম অ্যান্টিজেন থাকে। অ্যান্টিজেন A ও B এর সাথে রক্তরসে কতগুলো স্বতঃস্ফূর্ত অ্যান্টিবডি রয়েছে। এগুলোকে বলে a বা, (Anti-A) এবং b বা (Anti-B)। এভাবে অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে সমগ্র মানবজাতির রক্তকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। যথা: A, B, AB ও O। মানব রক্তের এই শ্রেণি বিভাগই হলো ABO রক্তগ্রুপ।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অংগটি হলো হৃৎপিণ্ড। হৃংপিণ্ডের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র রক্ত ও সংবহন অধ্যায়ে দেওয়া আছে।

ঘ. পায়েলের হাত কেটে যাওয়ায় যে লাল বর্ণের তরল পদার্থ বের হলো তা হচ্ছে রক্ত। রক্ত জমাট বাধার প্রক্রিয়াটি রক্ত ও সংবহন অধ্যায়ে ব্যাখ্যা করা আছে।

— ২য় অধ্যায় : প্রানীর পরিচিতি
— ৩য় অধ্যায় : মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ

সৃজনশীল প্রশ্ন ৭ : রবি ফল কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেলল। এর ফলে সেখান থেকে কিছু লাল বর্ণের তরল বের হলো। একটু পরে সেই তরল বের হওয়া বন্ধ হয়ে গেল।
ক. প্লাজমা কী?
খ. করোনারি বাইপাস সার্জারি বলতে কী বুঝায়?
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত তরল পদার্থ বের হওয়া কিভাবে বন্ধ হল উল্লেখ করো।
ঘ. উক্ত লাল বর্ণের তরল দেহের যে পাম্পযন্ত্র সদৃশ অঙ্গের মাধ্যমে সংবহিত হয় তার গঠন বর্ণনা করো।

সমাধান : ক. রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশই হলো প্লাজমা।

খ. করোনারী ধমনীতে এক বা একাধিক ব্লক তৈরী হলে যে বিকল্প কৃত্রিম পথ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপ্রবাহ সচল রাখা হয় তাই করোনারি বাইপাস। সাধারণত রক্ত বাহিকায় চর্বি জমে হৃৎপিণ্ডের অনেক অংশে রক্ত সরবরাহ কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। তখন হৃৎপিণ্ডের আর্টারির মধ্যে নতুন একটি কৃত্রিম সমান্তরাল আর্টারি সংযোগ তৈরি করা হয়। রক্ত প্রবাহের এ প্রক্রিয়াই হলো করোনারি বাইপাস।

গ. তরল পদার্থ অর্থাৎ রক্ত বের হওয়া বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া রক্ত ও সংবহন অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

ঘ. উপরোক্ত অঙ্গটি হলো হৃৎপিণ্ড। এ সম্পর্কে রক্ত ও সংবহন অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More