(মানব শারীরতত্ত্ব: বর্জ্য ও নিষ্কাশন) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

মানব শারীরতত্ত্ব: বর্জ্য ও নিষ্কাশন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের ৬ষ্ঠ অধ্যায়। মানব শারীরতত্ত্ব: বর্জ্য ও নিষ্কাশন অধ্যায় থেকে সেরা বাছাইকৃত ৫টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : আবু প্রায়ই অসুস্থ থাকে। ডাক্তারের কাছে গেলে জানা যায় তার রক্ত ও মূত্রে কিছু অসুবিধা আছে। এক্ষেত্রে মূত্রের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ ও রক্তের সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে হরমোন প্রতিনিয়ত সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে চলেছে।
ক. অ্যান্টিবডি কী?
খ. অ্যানজাইনার লক্ষণগুলো লিখো।
গ. নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ অপসারণে অঙ্গগুলির ভূমিকা লিখো।
ঘ. উদ্দীপকের শেষোক্ত উক্তিটি— বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. যে বিশেষ ধরনের দ্রবনীয় গ্লাইকোপ্রোটিন রোগব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস করে তাই হলো অ্যান্টিবডি।

খ. অ্যানজাইনার লক্ষণগুলো হলো—
i. স্টার্ণামের পেছনে বুকে ব্যথা হওয়া।
ii. ব্যায়াম বা অন্য শারীরিক কাজে, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত ভোজন, শীতকালে বা আতংকে বুকে ব্যথা হতে পারে। ব্যথা ৫-৩০ মিনিট স্থায়ী হয়।
iii. বুকে জ্বালাপোড়া, চাপ, নিষ্পেষণ বা আড়ষ্ট ভাব সৃষ্টি হয়ে অস্বস্তির প্রকাশ ঘটায়।

গ. নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ অপসারণে ভূমিকা রাখে এরকম একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া রেচন নালী, একটি মূত্রথলি এবং একটি | মূত্রনালি নিয়ে গঠিত হয় রেচনতন্ত্র। এটি দেহের ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূত্রে থাকে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি। এছাড়াও এতে ক্রিয়েটিন এবং অ্যামিনো এসিড থাকে। এগুলো দেহের জন্য ক্ষতিকর। এসব ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে অপসারণে রেচনতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নেফ্রন হলো বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরি একক যা মূত্র উৎপাদন করে দেহকে কূলষমুক্ত রাখে। উৎপন্ন মূত্র সংগ্রাহক নালির মাধ্যমে বৃক্কের পেলভিসে পৌঁছায়। পরবর্তীতে পেলভিস থেকে ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশ থেকে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে। মূত্র ইউরেটার পথে মূত্রথলিতে এসে সাময়িকভাবে জমা থাকে। মূত্রথলি মূত্রে পূর্ণ হলে মূত্রথলির নিচের দিকে অবস্থিত ছিদ্র খুলে যায় এবং মূত্র মূত্রনালি পথে প্রবাহিত হয়ে অগ্রভাগের এক ছিদ্রপথে দেহের বাইরে নিষ্কাশিত হয়।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, নাইট্রোজেন ঘটিত পদার্থ অপসারণে উক্ত অঙ্গগুলো অর্থাৎ সম্পূর্ণ রেচনতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষোক্ত উক্তিটি হলো “মূত্রের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ ও রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে হরমোন প্রতি নিয়ত সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে চলছে”।
দেহে মূত্রের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয় মূলত বৃদ্ধের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন হরমোন বৃদ্ধকে সহায়তা করে। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস থেকে ক্ষরিত ADH (অ্যান্টিডাই ইউরেটিক হরমোন) মূত্রের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। দেহে পানির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে, বেশি ADH ক্ষরিত হয়। ফলে বৃক্কের সংগ্রাহী নালীর পানিভেদ্যতা বেড়ে যায় এবং গ্লোমেরুলাস ফিলট্রেট থেকে বেশি পরিমাণে পানি পুনঃশোষিত হয়। ফলশ্রুতিতে অতিঘন মূত্র উৎপন্ন হয়। যদি দেহে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে ADH কম ক্ষরিত হয়, ফলে সংগ্রাহী নালীর ভেদ্যতা কমে গিয়ে কম পানি পুনঃশোষিত হয় এবং অতি তরল মূত্র উৎপন্ন হয়।

আবার বৃক্কে অবস্থিত অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত অ্যালডোস্টেরন হরমোন রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে অ্যালডোস্টেরন বৃক্কের ডিস্টাল নালিকার কোষগুলোতে সোডিয়াম-পটাসিয়াম পাম্পকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে ডিস্টাল নালিকা থেকে সোডিয়াম আয়ন বের হয়ে কৈশিক জালিকায় প্রবেশ করে রক্তে বাহিত হয়। এছাড়া অ্যালডোস্টেরন অন্ত্রে সোডিয়াম শোষণকে এবং ঘামে কম সোডিয়াম ত্যাগকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়।
এভাবে বিভিন্ন হরমোন দেহে পানি ও সোডিয়ামের সঠিক ঘনত্ব ও মাত্রা বজায় থাকে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের বিপাকে নাইট্রোজেন জাতীয় বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় । এই বস্তু উপাদান রক্তের মাধ্যমে সারা দেহে সঞ্চারিত হয়। এগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহের বিষাক্ততার সৃষ্টি করে। এজন্য দেহ থেকে এ জিনিসগুলো নিষ্কাশনের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ক. সারকোলেমা কী?
খ. অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয় কেনো?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রেচন বর্জ্য নিষ্কাশনে শারীরবৃত্তীয় কৌশল ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গের গাঠনিক ও কার্যিক এককের গঠন ব্যাখ্যা করো।

সমাধান : ক. পেশীকলায় অবস্থিত কোষের আবরণীই হলো সারকোলেমা।

খ. একই সাথে অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা উভয় ধরনের গ্রন্থির কাজ করে বলে অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়। অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। এটি ইনসুলিন ও হরমোন নিঃসরণ করে যা রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। আবার অগ্ন্যাশয় নিঃসৃত অগ্ন্যাশয় রসে অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ও প্রোটিয়েজ এনজাইম থাকে যা খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।

গ. মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ বৃক্ক। এ সম্পর্কে বর্জ্য ও নিষ্কাশন অধ্যায়ে ব্যাখ্যা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো বৃক্ক যার গাঠনিক ও কার্যিক একক হলো নেফ্রন। এ সম্পর্কে বর্জ্য ও নিষ্কাশন অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : জীববিজ্ঞানের শিক্ষক ক্লাসে বললেন, আমাদের দেহে মেরুদন্ডের দুপাশে উদরের পশ্চাতে সীমের বীচির আকৃতি বিশিষ্ট একজোড়া অঙ্গ আছে যা দেহের দূষিত পদার্থকে তরল আকারে দেহ হতে বের করে দেয়।
ক. নেফ্রন কী?
খ. রেনাল করপাসল বলতে কী বুঝ?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সীমের বীচির আকৃতি সম্পন্ন অঙ্গটির লম্বচ্চেদের চিহ্নিত চিত্র অংকন করো।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত তরল পদার্থটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়— বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. বৃক্কের গাঠনিক ও কার্ষিক এককই হলো নেফ্রন।

খ. বৃক্কের কর্টেক্স অঞ্চলে অবস্থিত 0.2 মিলিমিটার ব্যাসের গোলাকার অংশকে রেনাল করপাসল বা ম্যালপিজিয়ান বডি বলে। এটি নেফ্রনের সম্মুখের অংশ। এটি বাটি আকৃতির বোম্যানস ক্যাপস্যুল এবং জটিল গ্লোমেরুলাস নিয়ে গঠিত।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত শিমের বিচি আকৃতির অঙ্গটি হলো বৃক্ক। বৃক্কের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র বর্জ্য ও নিষ্কাশন অধ্যায়ে অংকন করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত তরল পদার্থটি হলো মূত্র যা একটি জটিল প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়। এ সম্পর্কে বর্জ্য ও নিষ্কাশন অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ : অ্যামিনো এসিড শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এ প্রক্রিয়ায় কিছু নাইট্রোজেন ঘটিত রেচন পদার্থের সৃষ্টি হয়। মূত্র মানুষের প্রধান রেচন পদার্থ এবং বৃক্ক প্রধান রেচন অঙ্গ।
ক. রেচন কী?
খ. অসমোরেগুলেশন বলতে কি বোঝ?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির গাঠনিক এককের চিহ্নিত চিত্র দাও।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত নাইট্রোজেনঘটিত পদার্থটির তৈরি ও নিষ্কাশন অতীব জরুরী— বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. বিপাকীয় কাজের ফলে উৎপন্ন ক্ষতিকারক এবং অপ্রয়োজনীয় তরল বর্জ্য পদার্থ যে প্রক্রিয়ার দেহ থেকে প্রতিনিয়ত অপসারিত হয় তাই হলো রেচন।

খ. দেহ কোষের অন্তঃপরিবেশ ও বহিঃপরিবেশের মধ্যে অভিস্রবণিক চাপের সমতা রক্ষার প্রক্রিয়াই হলো অসমোরেগুলেশন। প্রাণীর জীবন প্রবাহ অক্ষুন্ন রাখতে দেহকোষের তরল পদার্থ ও কোসের বাইরের তরল পদার্থ অর্থাৎ রক্তের প্লাজমা, কলারস ও লিম্ফ ইত্যাদির মধ্যে পানি ও লবণের ঘনত্বের সমতা বজায় রাখা অপরিহার্য। মানবদেহে বৃক্ক অসমোরেগুলেশন প্রক্রিয়ায় এ সমতা রক্ষা করে।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো বৃক্ক যার গাঠনিক একক হলো নেফ্রন। নেফ্রনের চিহ্নিত চিত্র বর্জ্য ও নিষ্কাশন অধ্যায়ে দেওয়া আছে।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ হলো মূত্র যা আমাদের দেহ হতে নিষ্কাশিত হয়। এ সম্পর্কে বর্জ্য ও নিষ্কাশন অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

— ৪র্থ অধ্যায় : মানব শারীরতত্ত্ব: রক্ত ও সংবহন
— ৫ম অধ্যায় : মানব শারীরতত্ত্ব: শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ : করিমন বেগম দীর্ঘদিন ধরে বৃক্কের ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। কিন্তু এতে তার সাময়িক সমাধান হচ্ছে। তাই তিনি প্রবাসী ডাক্তার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসা কি হতে পারে জানার জন্য ফোন করলে, ছেলে তার মাকে বলল, আপনার জন্য টাকা পাঠাচ্ছি আপনি ডায়ালাইসিস না করে স্থায়ী সমাধান করেন। তাতে আপনি অধিকতর সুস্থ থাকবেন।
ক. বৃক্ক প্রতিস্থাপন কাকে বলে?
খ. দেহে অতি পরিস্রাবণের হার কী কারণে বৃদ্ধি পায়?
গ. করিমন বেগমের ছেলের দেয়া উপদেশটি কিভাবে প্রয়োগ হয় লিখো।
ঘ. উক্ত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অন্যান্য করণীয় বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. বৃক্ক বিকলের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে বৃক্ক বিকল রোগীর দেহে সুস্থ্য সবল বা মৃত ব্যক্তির সুস্থ ও রোগমুক্ত বৃক্ক সঠিকভাবে স্থাপনকে বৃক্ক প্রতিস্থাপন বলে।

খ. বৃক্কে বহির্বাহী ধমনীর ব্যাস অন্তর্বাহী ধমনীর চেয়ে কম হওয়ায় গ্লোমেরুলাসে উচ্চ মাত্রার হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ থাকে। তাই দেহে অতিপরিস্রাবণ ঘটে। দেহরসে অতিরিক্ত পানি জমলে রক্তের আয়তন বেড়ে যায়, ফলে এই হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ বেড়ে যায় এবং অতি পরিস্রাবণের হার বৃদ্ধি পায়।

গ. করিমন বেগমের ছেলের দেওয়া উপদেশটি হলো বৃক্ক প্রতিস্থাপন। এ সম্পর্কে বর্জ্য ও নিষ্কাশন অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

ঘ. উক্ত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অন্যান্য করণীয় বিষয়টি হলো ডায়ালাইসিস। ডায়ালাইসিস দুই ধরনের। যথা : ১. হিমোডায়ালাইসিস ও ২. পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস। এ সম্পর্কে বর্জ্য ও নিষ্কাশন অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More