(মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ হচ্ছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের ৩য় অধ্যায়। মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায় থেকে সেরা বাছাইকৃত ৩টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ :

মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ
ক. পেসমেকার কী?
খ. অ্যানজিওপ্লাস্টি বলতে কী বুঝ?
গ. উদ্দীপকের A চিহ্নিত অংশের পরিপাকে ভূমিকা মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের B চিহ্নিত অংশকে “জৈব রসায়নাগার বলা হয়” উক্তিটি মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দনকে স্বাভবিক করার উদ্দেশ্যে হৃৎপিণ্ডে বিদ্যুৎ তরঙ্গ প্রদানকারী যে যন্ত্র বুকে বা উদরে চামড়ার নিচে স্থাপিত করা হয় নতাই হলো পেসমেকার।

খ. বড় ধরনের অস্ত্রোপচার না করে হৃৎপিণ্ডের সংকীর্ণ ল্যুমেনযুক্ত বা রুদ্ধ হয়ে যাওয়া করোনারি ধমনি পুনরায় প্রশস্ত ল্যুমেনযুক্ত বা উন্মুক্ত করার পদ্ধতিকে অ্যানজিওপ্লাস্টি বলে। অ্যানজিওপ্লাস্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে সরু বা বন্ধ হয়ে যাওয়া ল্যুমেনের ভেতর দিয়ে হৃৎপিণ্ডে পর্যাপ্ত O2 সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং হৃৎপিণ্ডের পাশাপাশি সমগ্রদেহকে সচল রাখা।

গ. চিত্রে A অঙ্গাণুটি হলো পাকস্থলি। পাকস্থলিতে খাদ্যবস্তুর পরিপাক শুরু হয়। গলবিল থেকে খাদ্যবস্তু পাকস্থলিতে প্রবেশ করলে গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি নিঃসৃত গ্যাস্ট্রিক রসের সাথে মিশ্রিত হয়। গ্যাস্ট্রিক রসে মিউসিন, HCI এবং খাদ্য পরিপাককারী বিভিন্ন ধরনের এনজাইম, যেমন প্রোটিন পরিপাকীয় এনজাইম (পেপসিন) ও লিপিড পরিপাকীয় এনজাইম (লাইপেজ) থাকে। মিউসিন খাদ্যবস্তুর সঙ্গে মিশে খাদ্যবস্তুকে নমনীয় ও পিচ্ছিল করে। HCI খাদ্যের জীবাণুকে ধ্বংস করে এবং পেপসিনোজেনকে পেপসিনে পরিণত করে।

পাকস্থলিতে কার্বোহাইড্রেট পরিপাকের কোনো এনজাইম না থাকায় সাধারণত কার্বোহাইড্রেটের পরিপাক ঘটে না। তবে পাকস্থলি নিঃসৃত HCI কিছু পরিমাণ সুক্রোজকে আর্দ্র বিশ্লিষ্ট করে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে পরিণত করে। পাকস্থলিতে পেপসিনের উপস্থিতিতে প্রোটিন পরিপাক হয়ে পেপটোন, প্রোটিওজ ও কিছু পলিপেপটাইডে পরিণত হয়। অনেক সময় পাকস্থলিতে দুগ্ধ প্রোটিন কেসিন, রেনিনের উপস্থিতিতে প্যারাক্যাসিনে এবং তা পরবর্তীতে পেপসিনের উপস্থিতিতে পেপটোন ও প্রোটিওজে পরিণত হয়। এছাড়া এখানে লাইপেজ লিপিডকে ভেঙ্গে মনোগ্লিসারাইড, ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।

ঘ. উদ্দীপকে ‘B’ চিহ্নিত অংশটি হলো যকৃত। যা মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায়ের আলোকে আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
যকৃতকে জৈব রসায়ানাগার বলা হয়। কারণ দেহের বিপাক ক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে এমন ধরনের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো যকৃতে সম্পন্ন হয়। যকৃত পিত্তরস নিঃসরণের মাধ্যমে পরিপাকে সাহায্য করে। এটি লবণ ও পানির সমতা বিধান করে। যকৃত কোষে গ্লাইকোজেন ও চর্বি জাতীয় খাদ্য, ভিটামিন A ও ভিটামিন D সঞ্চয় করে। রক্তের মধ্যস্থ অপ্রয়োজনীয় উপাদান অপসারনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপাদান ঘাটতি পূরণ করে থাকে।

তাছাড়া অ্যামোনিয়া জাতীয় বিষাক্ত পদার্থকে কম ক্ষতিকারক ইউরিয়ায় পরিণত করে। লোহিত কণিকার ধ্বংসের মাধ্যমে পিত্তরঞ্জক বের করে দেয়। দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। রক্ত জমাট বাঁধায় প্রোথম্বিন ও ফাইব্রিনোজেন যকৃত থেকে নিঃসৃত হয়। যকৃত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করে। আয়ন সঞ্চয়ের মাধ্যমে যকৃত হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করে। যকৃতের পিত্তরস পৌষ্টিকনালিতে অম্লীয় পরিবেশ প্রশমিত করে এবং পৌষ্টিকনালির সংকোচন ও প্রসারণ ত্বরান্বিত করে। এসব কারণে যকৃতকে জৈব রসায়নগার বলে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ :

মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ
ক. BMI কী?
খ. মানবদেহে ইউরিয়া সৃষ্টির কারণ লিখ।
গ. উদ্দীপকের B চিহ্নিত অংশে খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের A চিহ্নিত অংশকে রাসায়নিক কারখানা বলা হয় বিশ্লেষণ কর।

সমাধান : ক. দেহের উচ্চতার সাথে ওজনের সামঞ্জস্য রক্ষা করার সূচক-ই- হলো BMI বা Body Mass Index.

খ. প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্য পরিপাক হয়ে বিভিন্ন ধরনের অ্যামিনো এসিডে পরিণত হয়। অধিকাংশ অ্যামিনো এসিড দেহের গাঠনিক ও কার্যকরী প্রোটিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কিছু অ্যামিনো এসিড অতিরিক্ত ও অব্যবহৃত থেকে যায়। কিন্তু দেহ এসব অতিরিক্ত অ্যামিনো এসিড সঞ্চয় করতে পারে না। তাই এসব অব্যবহৃত অ্যামিনো এসিড যকৃতে ডি অ্যামিনেশন প্রক্রিয়ায় ভেঙে অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করে। এগুলো শর্করা বিপাকে সৃষ্ট CO.-এর সাথে সংযুক্ত হয়ে ইউরিয়া সৃষ্টি করে।

গ. ‘B’ অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্র। এখানে পাচক রস হিসেবে কাজ করে অগ্ন্যাশয় থেকে আগত অগ্ন্যাশয় রস ও অন্ত্রের প্রাচীরের আন্ত্রিক গ্রন্থি নিঃসৃত আন্ত্রিক রস। এছাড়া পিত্তথলি থেকে আগত পিত্তরস এখানে অম্লীয় মাধ্যমকে প্রশমিত করে ক্ষারীয় মাধ্যম সৃষ্টি করে, যার ফলে এখানকার পাচকরসগুলো সক্রিয় হতে পারে। এছাড়া পিত্তরস চর্বিকে ছোট ছোট কণায় পরিণত করে।

অগ্ন্যাশয় রসে তিনটি এনজাইম থাকে। এর মধ্যে ট্রিপসিন এনজাইম পলিপেপটাইডকে অ্যামিনো অ্যাসিডে, লাইপেজ এনজাইম চর্বিকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে এবং অ্যামাইলেজ এনজাইম মলটোজকে ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিণত করে। এছাড়া আন্ত্রিক রসের বিভিন্ন এনজাইম যেমন— মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ যথাক্রমে অবশিষ্ট মল্টোজ, সুক্রোজ ও ল্যাকটোজ নামক সরল শর্করাকে ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিণত করে।

ঘ. উদ্দীপকে A চিহ্নিত অংশ হলো যকৃত। যা মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায়ের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
এ গ্রন্থিকে জৈব রসায়নগার বলে। কারণ দেহের বিপাক ক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে এমন বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া যকৃতে সম্পন্ন হয়। যকৃত পিত্তরস নিঃসরণের মাধ্যমে পরিপাকে সাহায্য করে। এটি লবণ ও পানির সমতা বিধান করে। কোষে গ্লাইকোজেন ও চর্বি জাতীয় খাদ্য, ভিটামিন A ও ভিটামিন D সঞ্চয় করে। এটি রক্ত মধ্যস্থ অপ্রয়োজনীয় উপাদান অপসারনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি পূরণ করে থাকে।

তাছাড়া অ্যামোনিয়া জাতীয় বিষাক্ত পদার্থকে কম ক্ষতিকারক ইউরিয়ায় পরিণত করে। লোহিত কণিকা ধ্বংসের মাধ্যমে পিত্তরঞ্জক বের করে দেয়। দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। রক্ত জমাট বাঁধায় প্রোথম্বিন ও ফাইব্রিনোজেন যকৃত থেকে নিঃসৃত হয়। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করে। আয়ন সঞ্চয়ের মাধ্যমে যকৃত হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করে। যকৃতের পিত্তরস পৌষ্টিকনালিতে অম্লীয় পরিবেশ প্রশমিত করে এবং পৌষ্টিকনালির সংকোচন ও প্রসারণ ত্বরান্বিত করে।

১ম অধ্যায় : প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস
২য় অধ্যায় : প্রানীর পরিচিতি

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ :

মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ
ক. মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থির নাম কী?
খ. পাকস্থলিতে শর্করা জাতীয় খাদ্য পরিপাক হয় না কেন?
গ. উদ্দীপকে B চিহ্নিত অংশের ক্রিয়া কৌশল বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকে A চিহ্নিত অংশটি খাদ্য পরিপাক করে কিন্তু নিজে হজম হয় না-ব্যাখ্যা কর।

সমাধান : ক. মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থির নাম হলো যকৃত।

খ. পাকস্থলিতে শর্করা জাতীয় খাদ্য পরিপাককারী এনজাইম টায়ালিন, অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ইনভারটেজ নাই। তাই পাকস্থলিতে শর্করা জাতীয় খাদ্য পরিপাক হয় না।

গ. উদ্দীপকের ‘B’ চিহ্নিত অংশটি হলো যকৃত। মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ অধ্যায়ের আলোকে আলোকে বর্ণনা করা হলো-
এটি মানবদেহের বৃহত্তম পৌষ্টিকগ্রন্থি। এ গ্রন্থিটি মানবদেহের বিপাক ও সঞ্চয় ক্রিয়া কৌশলে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। এটি পিত্তরস নিঃসরণের মাধ্যমে পরিপাকে সাহায্য করে। এটি লবণ ও পানির সমতা বিধান করে। এটি কোষে গ্লাইকোজেন ও চর্বি জাতীয় খাদ্য, ভিটামিন A ও D সঞ্চয় করে। রক্তের মধ্যস্থ অপ্রয়োজনীয় উপাদান অপসারণের মাধ্যমে এটি প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি পূরণ করে থাকে। তাছাড়া অ্যামোনিয়া জাতীয় বিষাক্ত পদার্থকে কম ক্ষতিকারক ইউরিয়ায় পরিণত করে।

এটি লোহিত কণিকার ধ্বংসের মাধ্যমে পিত্তরঞ্জক বের করে দেয়। দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণেও এটি সাহায্য করে। রক্ত জমাট বাঁধার প্রোথম্বিন ও ফাইব্রিনোজেন যকৃত থেকে নিঃসৃত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করে। আয়রন সঞ্জয়ের মাধ্যমে যকৃত হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও যকৃতের পিত্তরস পৌষ্টিকনালিতে অম্লীয় পরিবেশ প্রশমিত করে এবং পৌষ্টিকনালির সংকোচন ও প্রসারণ ত্বরান্বিত করে।

ঘ. A চিহ্নিত অংশটি হলো পাকস্থলি। এ অংশটি মানবদেহে আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাকে অংশ নেয়। পাকস্থলি এবং অন্ত্রের অসংখ্য স্বনালি গ্রন্থি প্রোটিয়েজ এনজাইম তৈরি করে। প্রোটিয়েজ দ্বারা পাকস্থলির লুমেনে আমিষ পরিপাক হলেও এরা নিজে পরিপাক হয় না। এর কারণ প্রথমত, প্রোটিয়েজগুলো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। দ্বিতীয়ত, পাকস্থলি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীরের কিছু কোষ ও লালাগ্রন্থি মিউকাস উৎপাদন করে। তৃতীয়ত, কোষে এন্টি এনজাইম থাকার ও সম্ভাবনা আছে যার জন্য এনজাইমগুলো পাকস্থলির প্রাচীরে অবস্থিত সজীব কোষের ওপর ক্রিয়া করতে পারে না।

চতুর্থত, পাকস্থলি কোষ প্রোস্টাগ্লান্ডিন উচ্চ মাত্রায় ধারণ করে যা পাকস্থলি দ্বারা সৃষ্ট এসিড নিউট্রালাইজিং এর সাথে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে হয়। এছাড়া মিউসিন নামক একটি প্রোটিন মিউকাসের প্রধান উপাদান। পাকস্থলির ভেতরের গাত্র সব সময়ে মিউকাসের গাঢ় আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে। মিউকাসের এ আবরণের জন্য আমিষ হজমকারী এনজাইমসমূহ পাকস্থলি প্রাচীরের কোষের সংস্পর্শে আসতে পারে না এবং এসব অঙ্গের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। এ জন্যই পাকস্থলি আমিষ জাতীয় খাদ্য পরিপাক করলেও নিজে পরিপাক হয় না।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More