(টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র হচ্ছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ১ম পত্রের ৮ম অধ্যায়। টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র অধ্যায় থেকে সেরা বাছাইকৃত ৩টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : মানিক স্যার উদ্ভিদ বিজ্ঞান ক্লাশে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ গঠন শেখালেন ও বিভিন্ন অংশের কাজ বর্ণনা করলেন। তিনি উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের পৃথক চিত্র অংকন করে বিস্তারিত আলোচনার শেষে বললেন শ্রম বিভাজনই টিস্যু সৃষ্টির মূল কারণ।
ক. ভাস্কুলার বান্ডল কী?
খ. উদ্ভিদের পাতা সবুজ দেখায় কেন?
গ. মানিক স্যারের বর্ণনা অনুযায়ী মূল ও কান্ডের ভাস্কুলার বান্ডলের পার্থক্য টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র অধ্যায়ের আলোকে বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত মানিক স্যারের সর্বশেষ উক্তিটির পক্ষে তোমার যুক্তি বিশ্লেষণ কর।

সমাধান : ক. উদ্ভিদ দেহের অভ্যন্তরে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর গুচ্ছই হলো ভাস্কুলার বান্ডল।

খ. উদ্ভিদের পাতা সবুজ দেখায় কারণ উদ্ভিদের পাতায় প্রচুর পরিমাণে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। ক্লোরোপ্লাস্ট হলো সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড। এ অঙ্গাণুটিতে ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা অধিক মাত্রায় থাকে। এতে ক্লোরোফিল a. ক্লোরোফিল b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থফিল থাকে। উদ্ভিদের পাতায় বিদ্যমান ক্লোরোফিল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুতে সহায়তা করে।

গ. উদ্দীপকের শিক্ষকের বর্ণনাকৃত একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূর ও কাণ্ডের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডের এপিডার্মিস বা ত্বকে কিউটিকল থাকে, তবে কোনো রোম থাকে না। অপরদিকে একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের এপিব্লেমা বা ত্বকে কিউটিকল থাকে না, তবে এককোষী রোম থাকে। আবার, একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে এন্ডোডার্মিস থাকে না এবং পেরিসাইকেল অনুপস্থিত।

কিন্তু, একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে গোলাকার এন্ডোডার্মিস থাকে এবং একস্তর বিশিষ্ট প্যারেনকাইমা কোষে গঠিত পেরিসাইকেল উপস্থিত। এছাড়াও একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের ভাস্কুলার বান্ডেল সংযুক্ত, সমপার্শ্বীয় ও বদ্ধ এবং বিক্ষিপ্তভাবে গ্রাউন্ড টিস্যুতে ছড়ানো থাকে। অপরদিকে, একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের ভাস্কুলার বান্ডল অরীয়, জাইলেম ও ফ্লোয়েম প্রত্যেকটি সংখ্যায় ৬ এর অধিক এবং দুটি ভিন্ন বলয়ে সজ্জিত। একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে জাইলেম এন্ডার্ক, কিন্তু মূলে জাইলেম এক্সার্ক।

ঘ. উদ্দীপকে শিক্ষকের সর্বশেষ উক্তিটি হলো শ্রম বিভাজনই টিস্যু সৃষ্টির মূল কারণ। একই উৎস থেকে সৃষ্ট সদৃশ বা বিসদৃশ আকার আকৃতি বিশিষ্ট কোষসমষ্টি যখন নির্দিষ্ট জৈবনিক কাজ করে তাই টিস্যু। টিস্যু উদ্ভিদের এক একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে অবস্থান করে নানা ধরনের কাজ সম্পন্ন করে। টিস্যুগুলোর সমষ্টিকে টিস্যুতন্ত্র বলে। বহুকোষী উদ্ভিদদেহে নানা ধরনের টিস্যু রয়েছে। টিস্যু গঠনকারী কোষগুলোর প্রকৃতি, কাজ, উৎপত্তি, পরিস্ফুটনের দশা, জৈবনিক ও যান্ত্রিক কার্যাবলি, টিস্যুর অবস্থানের উপর নির্ভর করে টিস্যুর শ্রম বন্টন করা হয়। খাদ্য গ্রহণ, দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি, ব্যাস বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা, পরিবহন তি প্রকৃয়িা সহ নানা কাজে টিস্যুর বিভাজন বিদ্যমান।

ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য ও ব্যাস বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। স্থায়ী টিস্যুগুলো বেশ পুরু যা উদ্ভিদের প্রতিরক্ষার কাজ করে। প্যারেনকাইমা, স্ক্লেরেনকাইমা, কোলেনকাইমা টিস্যু উদ্ভিদের গঠন ও দৃঢ়তা দান করে। জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদ দেহে পরিবহন ও পরিবণ্টনের কাজ করে। জাইলেম টিস্যু মূল হতে পাতা ও সবুজ অংশে পানি ও খনিজ পরিবহন করে। ফ্লোয়েম তৈরিকৃত খাবার বণ্টন করে। ক্ষরণকারী বা নিঃস্রাবী টিস্যু বিভিন্ন উৎসেচক, বর্জ্য পদার্থ ও রেজিন, গদ, উদ্বায়ী তেল নিঃসৃত করে। উদ্ভিদের দেহের ভারসাম্য রক্ষায় টিস্যুতন্ত্রের মাধ্যমে শ্রম বিভাজন করে টিস্যুভিত্তিক কাজ বণ্টিত হয়। উপরোক্ত উক্তি অনুযায়ী বলা যায় শ্রম বণ্টনই টিস্যু সৃষ্টির মূল কারণ।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : ব্যবহারিক ক্লাসে সোহান সংগৃহীত নমুনার প্রস্থচ্ছেদ করে অনুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখল ‘A’ নমুনাটিতে ভাস্কুলার বান্ডেলের সংখ্যা ৬ এর অধিক কিন্তু ‘B’ নমুনাটিতে মেটাজাইলেম পরিধির দিকে থাকে।
ক. ট্রান্সক্রিপশন কী?
খ. নিউক্লিওটাইড বলতে কী বুঝ?
গ. উদ্দীপকের ‘A’ নমুনাটির অন্তর্গঠনগত সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র অধ্যায়ের আলোকে বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকের নমুনা দুটি কোনটি কী প্রকৃতির তা টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র অধ্যায়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

সমাধান : ক. DNA অণুতে উপস্থিত রাসায়নিক তথ্যগুলোকে RNA (mRNA) অণুতে কপি করার প্রক্রিয়াই হলো ট্রান্সক্রিপশন।

খ. নিউক্লিওসাইডের ফসফেট এস্টার হলো নিউক্লিওটাইড। এক অণু নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক, এক অণু পেন্টোজ শ্যুগার এবং এক অণু ফসফেট যুক্ত হয়ে নিউক্লিওটাইড গঠিত হয়। অনেকগুলো নিউক্লিওটাইড ফসফেট-শর্করা-ফসফেট এভাবে যুক্ত হয়ে পলিনিউ-ক্লিওটাইড গঠন করে।

গ. উদ্দীপকের ‘ক’ নমুনাটিতে একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের অন্তর্গঠনগত সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করা হয়েছে।
একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে একস্তর বিশিষ্ট প্যারেনকাইমা বিদ্যমান। কতকগুলো কোষ লম্বা হয়ে এককোষী মূলারাম গঠন করে। মূলত্বকের নিচ থেকে শুরু করে অন্তঃত্বক পর্যন্ত বিস্তৃত বহুস্তরযুক্ত গোলাকার বা ডিম্বাকার প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে কর্টেক্স গঠিত। কর্টেক্সের নিচে চক্রাকারে অবস্থিত পিপাকৃতির একসারি প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে অন্তঃত্বক গঠিত।

অন্তঃত্বকের নিচে একসারি প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে পেরিসাইকল গঠিত। ভাস্কুলার বান্ডল বা পরিবহন টিস্যুগুলোর সংখ্যা ৬-এর অধিক। প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম ভেতরের দিকে অবস্থান করে। জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মধ্যবর্তী প্যারেনকাইমা কোষের স্তরকে মজ্জা রশ্মি বলে। কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বৃহৎ মজ্জা প্যারেনকাইমা জাতীয় কোষে গঠিত।

ঘ. উদ্দীপকের নমুনা দুটির ‘ক’ নমুনাটি একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূল এবং ‘খ’ নমুনাটি একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডের নিচে এ সম্পর্কে বিশ্লেষণ পূর্বক মতামত প্রদান করা হলো-
একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে ও মূলে বিদ্যমান ভাস্কুলার টিস্যুতন্ত্র খাদ্যের কাঁচামাল ও তৈরিকৃত খাদ্য উদ্ভিদদেহে পরিবহন করে থাকে। একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডের এপিডার্মিস বা ত্বকে কিউটিকল থাকে, তবে কোনো রোম থাকে না। অপরদিকে একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে এপিব্লেমা বা ত্বকে কিউটিকল থাকে না, তবে এককোষী রোম থাকে। আবার, একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে এন্ডোডার্মিস থাকে না এবং পেরিসাইকেল অনুপস্থিত।

কিন্তু, একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে গোলাকার এন্ডোডার্মিস থাকে এবং একস্তর বিশিষ্ট প্যারেনকাইমা কোষে গঠিত পেরিসাইকেল উপস্থিত। এছাড়াও একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত, সমপার্শ্বীয় ও বদ্ধ এবং বিক্ষিপ্তভাবে গ্রাউন্ড টিস্যুতে ছড়ানো থাকে। অপরদিকে, একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের ভাস্কুলার বান্ডল অরীয়, জাইলেম ও ফ্লোয়েম প্রত্যেকটি সংখ্যায় ৬ এর অধিক এবং দুটি ভিন্ন বলয়ে সজ্জিত। একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে জাইলেম এন্ডার্ক, কিন্তু মূলে জাইলেম এক্সার্ক।
উপর্যুক্ত বিশ্লেষণ থেকে একথা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের নমুনা ‘ক’ হলো একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূল এবং নমুনা ‘খ’ হলো। একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ড।

— ১ম অধ্যায় : কোষ ও এর গঠন
— ২য় অধ্যায় : কোষ বিভাজন
— ৩য় অধ্যায় : কোষ রসায়ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : অসিম স্যার ক্লাসে বলছিলেন, ‘X’-টিস্যু খাদ্য পরিবহণ করে এবং ‘Y’-টিস্যু পানি পরিবহণ করে। আবার উদ্ভিদের টিস্যুতন্ত্রে এমন এক ধরনের ছিদ্র আছে যা মানুষের নাসারন্ধ্রের ন্যায় গ্যাসীয় বিনিময় করে।
ক. ক্যাম্বিয়াম কী?
খ. স্থায়ী টিস্যুর চারটি বৈশিষ্ট্য লিখ।
গ. ‘X’ ও ‘Y’ টিস্যু মিলিতভাবে যে টিস্যুতন্ত্র গঠন করে তার প্রকারভেদের চিত্র অঙ্কন করো।
ঘ. উদ্দীপকের ছিদ্রের গঠন বিশ্লেষন করে ছিদ্র বন্ধ ও উন্মুক্তকরণে কার ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ— তা টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র অধ্যায়ের আলোকে তোমার মতামত দাও।

সমাধান : ক. দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ কাণ্ডের জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর মাঝে অবস্থিত ভাজক টিস্যুই হলো ক্যাম্বিয়াম।

খ. স্থায়ী টিস্যুর চারটি বেশিষ্ট্য –
i. স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো সাধারণত বিভাজনে অক্ষম।
ii. জীবিত কোষে সাইটোপ্লাজম স্বাভাবিকের চেয়ে কম।
iii. মৃত কোষ প্রোটোপ্লাজমবিহীন।
iv. কোষগুলোর প্রাচীর অপেক্ষাকৃত স্থূল অর্থাৎ বেশ পুরু।

গ. উদ্দীপিতর ক টিস্যু হলো ফ্লোয়েম এবং খ টিস্যু হলো জাইলেম। ফ্লোয়েম ও জাইলেম মিলিতভাবে গঠন করে ভাস্কুলার টিস্যুতন্ত্র। ভাস্কুলার টিস্যুতন্ত্রের প্রকারভেদের চিত্র টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র অধ্যায়ে দেওয়া আছে।

ঘ. উদ্দীপকে সে ছিদ্রের কথা উল্লেখ আছে তা হলো পত্ররন্ধ্র বা স্টোমাটা। এর গুরুত্ব সম্পর্কে টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More