(জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ হচ্ছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ১ম পত্রের ১২শ অধ্যায়। জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ অধ্যায় থেকে সেরা বাছাইকৃত ৫টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : বাংলাদেশে ২.২৬ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি রয়েছে, যা দেশের মোট ভূমির ১৭.০৮%। বৈচিত্রতা, জলবায়ু, উদ্ভিদ, প্রকৃতি এবং পরিবেশগত ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের বনকে তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে একটি বন রয়েছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ক. ইকোলজিক্যাল পিরামিড কী?
খ. সাফারি পার্ক বলতে কী বুঝায়? উদাহরণ দাও।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বনের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।
ঘ. জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে উল্লিখিত বনের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

সমাধান : ক. খাদ্যজালকের বিন্যাস সমন্বিত পিরামিড আকৃতির ছকই হলো Ecological Pyramid.

খ. সাফারি পার্ক এক ধরনের সংরক্ষিত বনভূমি যেখানে বন্য প্রাণীরা অন্যতম প্রাকৃতিক পরিবেশে রক্ষিত থাকে, মুক্তভাবে বিচরণ করে এবং প্রজননের সুযোগ পায়। আর দর্শনার্থীরা সুরক্ষিত থাকে এবং গাড়ি করে সেখানে ঘুরে বেড়ায়। এখানে প্রাণীগুলোর মধ্যে একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। যেমন- চট্টগ্রামের ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক, গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত উপকূলীয় অঞ্চলে বিদ্যমান বন হলো ম্যানগ্রোভ বন বা সুন্দরবন। এ অঞ্চলের বনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ বন চিরসবুজ। বনের নিম্নাঞ্চল দৈনিক দু’বার জোয়ারের পানিতে সিক্ত হয়। এ বনের পানি এবং মাটি লবণাক্ত। মাটির pH এর কাছাকাছি। মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় অধিকাংশ বৃক্ষের শ্বাসমূল বা নিউমেটোফোর হয়।

লবণাক্ততার পরিমাণ শুষ্ক ওজনের ১০-৫০ ভাগ। জোয়ার ভাটা অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হতে অনেক উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়। অসংখ্য নদী-উপনদী ও চ্যানেল দ্বারা সুন্দরবন ছোট ছোট অংশে বিভক্ত। এ বনের প্রধান প্রধান উদ্ভিদ হলো সুন্দরী, গোলপাতা, হিতাল, পেওয়া, গরান, কেওড়া, ধুন্দুল ইত্যাদি।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত সুন্দরবন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের সবুজ বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলবর্তী এলাকার জীবজন্তু, গাছপালা রক্ষা করে। সুন্দরবনে বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ ও প্রাণী অবস্থান করে। ফলে এ বনের বিভিন্ন প্রকার খাদ্য শৃঙ্খল, খাদ্যজাল তৈরির মাধ্যমে বনের জীব বৈচিত্র্য বজায় রাখছে। সুন্দরবনের উদ্ভিদরাজি অভিযোজনর মাধ্যমে লবণাক্ত পরিবেশে নিজেদেরকে টিকিয়ে রেখে ঐ এলাকার জীববৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের ফলে বাংলাদেশের আবহাওয়ার বায়ুমণ্ডলে O2-এর পরিমাণ ক্রমশ কমে যায় ও CO2 -এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে গ্রীণ হাউস প্রতিক্রিয়া লক্ষণীয়। এই গ্রীণহাউস প্রতিক্রিয়া মোকাবেলায় সুন্দরবনের উদ্ভিদসমূহ কার্যকর ভূমিকা রাখে। তীব্র জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রচুর ভূমিক্ষয় হয়। সুন্দরবনের উদ্ভিদসমূহ একদিকে ঝড়ের বেগ হ্রাস করে অপরদিকে এদের ঠেসমূল জোয়ার-ভাটার পানিরোধক হিসেবে কাজ করে। সুন্দরবন বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হওয়ায় অনেক বন্য প্রজাতির প্রাণীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে যা জীববৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করছে।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সুন্দরবনের ভূমিকা অপরিসীম।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : তনু, মিশরের পিরামিডের উপর ডকুমেন্টারি দেখছিল। পিরামিডগুলোর নিচের দিকটা প্রশস্ত কিন্তু উপরের দিকটা ক্রমশ সরু এবং নিচের দিকের পাথরের সংখ্যা ও ভর, মধ্য ও শেষভাগ অপেক্ষা বেশি।
ক. প্রোটিন কী?
খ. দাদ রোগ এর লক্ষণ কী?
গ. উদ্দীপকের বর্ণিত নকশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নকশা বাস্তুতন্ত্রেও বিদ্যমান- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. পাথরগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের মতো বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেই কেবলমাত্র পৃথিবী টেকসই হবে- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

সমাধান : ক. অনেকগুলো অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যে বৃহদাকার অণু গঠন করে তাই হলো প্রোটিন।

খ. দাদ রোগের লক্ষণ-
i. দানার মতো ফুসকুঁড়ি ও আঁশ দেখা যায়।
ii. চাকা বা রিং এর মতো আকার ধারণ করে।
iii. চারপাশের চামড়া ফুলে ওঠে, তখন চুলকানি হয়।
iv. চুলকানোর ফলে আঠালো রস বের হয়।

গ. উদ্দীপকে তনুর দেখা মিশরের পিরামিড এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নকশা বাস্তুতন্ত্রের সংখ্যার পিরামিড ও ভরের পিরামিডের অনুরূপ। এ সম্পর্কে জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ অধ্যায়ে ব্যাখা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকে নিচের দিকের পাথরের সংখ্যা ও ভর মধ্যস্তরের পাথরের সংখ্যা ও ভর অপেক্ষা বেশি। আবার শীর্ষস্তরের পাথরের সংখ্যা ও ভর মধ্যস্তরের পাথরের সংখ্যা ও ভর অপেক্ষা কম। এ সম্পর্কে জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : উদ্ভিদ বিজ্ঞানের গবেষণায় সাকিব এক ধরনের উদ্ভিদে শ্বাসমূল ও জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম এবং অন্য ধরনের উদ্ভিদে বড় বায়ুকুঠুরী ও লম্বা মধ্যপর্ব দেখতে পেলেন যা উদ্ভিদগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে অভিযোজিত করেছে।
ক. প্রজাতি কী?
খ. বাংলাদেশে যে প্রাণী ভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত সে অঞ্চলের একটি করে এন্ডেমিক উদ্ভিদ ও প্রাণীর নাম লিখ।
গ. উক্ত দুই প্রকার উদ্ভিদের মধ্যে তুলনা কর।
ঘ. উক্ত উদ্ভিদগুলো কিভাবে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে টিকে আছে।

সমাধান : ক. প্রজাতি হলো সর্বাধিক বৈশিষ্ট্যের মিল সম্পন্ন একদল জীব যাদের মধ্যে যৌন মিলনে উর্বর বংশধর উৎপন্ন হয়।

খ. বাংলাদেশ ওরিয়েন্টাল অঞ্চলে অবস্থিত। ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের একটি করে এন্ডেমিক উদ্ভিদ ও প্রাণীর নাম নিচে দেওয়া হলো
i. ক্ষুদে বড়াল- Knema bengalensis
ii. ঘড়িয়াল- Gavialis gangeticus

গ. উদ্দীপকে সাকিবের গবেষণার প্রথম উদ্ভিদটি হলো লবণাক্ত পরিবেশের যা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ এবং দ্বিতীয় উদ্ভিদটি হলো জলজ উদ্ভিদ। উক্ত দুই প্রকার উদ্ভিদের মধ্যে তুলনা জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ অধ্যায়ে দেওয়া আছে।

ঘ. উদ্দীপকের উদ্ভিদগুলো অর্থাৎ লবণাক্ত উদ্ভিদ ও জলজ উদ্ভিদ অভিযোজনের মাধ্যমে পরিবেশে টিকে থাকে। এ সম্পর্কে জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ : পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবনের পাশে সিডর বিধ্বস্ত শরণখোলা গ্রাম। গ্রামের মানুষের মধ্যে অনেকদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রায়ই রাতের বেলা বাঘ এসে তাদের গরু, ছাগল এমনকি মানুষ পর্যন্ত ধরে নিয়ে যায়। গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে কিন্তু বাঘের উপদ্রব দিন দিন বেড়েই চলছে।
ক. জীব-বৈচিত্র্য কী?
খ. ইকোট্যুরিজম প্রয়োজন কেন?
গ. কী কারণে বাঘ বন ছেড়ে গ্রামে আসে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. বাঘ যাতে রাতে গ্রামে না আসে তার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে তুমি মনে করো।

সমাধান : ক. পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের সামগ্রিক সংখ্যা প্রাচুর্য ও ভিন্নতা হলো জীববৈচিত্র্য।

খ ইকোট্যুরিজম হলো উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল যেখানে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রধান উদ্দেশ্য। এছাড়া সেখানে নয়নাভিরাম দৃশ্য সংবলিত এলাকা হওয়ায় পর্যটকদের চিত্ত বিনোদনের বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়। যেমন: মাধবকুন্ড ইকোপার্ক।

গ. উদ্দীপকে সুন্দরবন একটি বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। এ সম্পর্কে জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ অধ্যায়ে ব্যাখা করা আছে।

ঘ. বাঘ যাতে গ্রামে না আসে তার জন্য যে সকল পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা সম্পর্কে জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

• ১ম অধ্যায় : কোষ ও এর গঠন
• ২য় অধ্যায় : কোষ বিভাজন

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ : উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের একদল ছাত্রছাত্রী শিক্ষা সফরে সিলেট যায়। সেখানে তারা শাপলা, ফণীমনষা ইত্যাদি উদ্ভিদ সংগ্রহ করে শিক্ষককে দেখায়। শিক্ষক আর এক প্রকার উদ্ভিদ সুন্দরীর কথা বললেন, যা সুন্দরবনে পাওয়া যায়।
ক. এন্ডেমিক উদ্ভিদ কী?
খ. সুন্দরবনে দুটি উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম লিখ।
গ. উদ্দীপকের প্রথম উদ্ভিদটি যে পরিবেশে পাওয়া যায় পানির প্রাপ্যতার উপর ভিত্তি করে তার শ্রেণিবিভাগ ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের উদ্ভিদগুলো তাদের বাসস্থানে কীভাবে অভিযোজিত হয়, ব্যাখ্যা কর।

সমাধান : ক. যে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিস্তৃতি নির্দিষ্ট প্রাণি ভোগৌলিক অঞ্চলের বাইরে পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না তাই এন্ডেমিক উদ্ভিদ।

খ. সুন্দরবনের দুটি উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম নিচে দেওয়া হলো-
সুন্দরী- Heritiera fomes
গোলপাতা- Nipa fruticans

গ. উদ্দীপকের প্রথম উদ্ভিদটি হলো শাপলা যা জলজ উদ্ভিদ। জলজ উদ্ভিদটির শ্রেণিবিভাগ জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ অধ্যায়ে ব্যাখা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকের শাপলা, ফণীমনঘা ও সুন্দরী যথাক্রমে জলজ, মরুজ ও লবণাক্ত উদ্ভিদ। উক্ত উদ্ভিদগুলোর বাহ্যিক, অভ্যন্তরীণ ও শারীরিবৃত্তীয় অভিযোজনের তুলনামূলক আলোচনা জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ অধ্যায়ে দেওয়া আছে।

Show Comments (1)

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More