(মানব শারীরতত্ত্ব: চলন ও অঙ্গচালনা) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

মানব শারীরতত্ত্ব: চলন ও অঙ্গচালনা হচ্ছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের ৭ম অধ্যায়। মানব শারীরতত্ত্ব: চলন ও অঙ্গচালনা অধ্যায় থেকে সেরা বাছাইকৃত ২টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : রিক্সা থেকে পড়ে গিয়ে আকিবের বাম পায়ের হাড় ভেঙে গেছে এবং পেশীও ছিড়ে গেছে। ডাক্তার তাকে পুরো ছয় মাসের বিশ্রামে
থাকতে বললেন।
ক. ভ্যাক্সিনাইজেশন কী?
খ. ঘাসফড়িং এর অসম্পূর্ণ রূপান্তর বলতে কী বুঝ?
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটির সুক্ষ গঠন চলন ও অঙ্গচালনা অধ্যায়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের সমস্যাটি নিরাময়ে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে বলে তুমি মনে কর।

সমাধান : ক. মানবদেহে রোগ প্রতিরোধী ভ্যাক্সিন বা টিকা দেবার পদ্ধতিই হলো ভ্যাক্সিনাইজেশন।

খ. শিশু প্রাণী যখন দেখতে প্রায় পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর মতো দেখায় এবং এদের বিকাশের সময় খুব সীমিত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটে তখন তাকে অসম্পূর্ণ রূপান্তর বলে। এক্ষেত্রে শিশু প্রাণীকে নিম্ফ বলে।
ঘাসফড়িংয়ের নিম্ফ সবুজ উদ্ভিদ খেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। বৃদ্ধিকালীন সময়ে এদের দেহের কাইটিন নির্মিত অনমনীয় খোলসটি বারবার পরিত্যক্ত হয়। এ ধরনের খোলস ত্যাগকে নির্মোচন বা মোল্টিং বলে। এসময় এদের ডানা গজায় এবং প্রজননতন্ত্র বিকশিত হয়। নিম্ফ থেকে পূর্ণাঙ্গে পরিণত হতে ঘাসফড়িংয়ের মোট পাঁচবার নির্মোচন
ঘটে।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো বাম পা; যা মানব কঙ্কাল তন্ত্রের উপাঙ্গিক কঙ্কাল অংশের পশ্চাদপদ এর একাংশ। উক্ত অঙ্গ বা বাম
পা এর গঠন মোট ৩০টি অস্থি নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো-

ফিমার একটি প্যাটেলা (একটি), টিবিয়া (একটি) ফিবুলা (একটি), টারসাল (সাতটি), মেটাটারসাল (পাঁচটি) এবং ফ্যালানজেস (চৌদ্দটি)। দেখা যাচ্ছে যে, এগুলো সবই নিরেট অস্থি। যার সুক্ষ গাঠনিক একক হচ্ছে হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র। প্রতিটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র একটি হ্যাভারসিয়ান নালী, কতগুলো ল্যামিনি, কতগুলো ল্যাকুনি, ক্যানালিকুনি ইত্যাদি নিয়ে গঠিত। প্রতিটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের কেন্দ্রে থাকা নালীকে হ্যাভারসিয়ান নালী বলে। এ নালীর মধ্য দিয়ে শিরা, ধমনী, লসিকানালী ও স্নায়ুতন্ত্র প্রসারিত হয়। অস্থির ম্যাট্রিক্স হ্যাভারসিয়ান নালীকে কেন্দ্র করে 5-15টি স্তরে সজ্জিত থাকে।

এসব স্তরকে ল্যামিনি বলে। ল্যামিনি সমূহের
ফাকা স্থানে ল্যাকুনি নামের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফাকা স্থান থাকে। এসব ফাকা স্থানে অস্টিওসাইট বা অস্থিকোষ অবস্থান করে। ল্যাকুনির চারদিকে সূক্ষ্ণ, ক্ষুদ্র কতগুলো ক্যানালিকুলি নামক নালিকা বিস্তৃত হয়ে
ল্যাকুনিগুলির মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করে। অস্থির অভ্যন্তরে হ্যাভারসিয়ান নালীগুলো একে অপরের সাথে আড়াআড়িভাবে নালী দ্বারা যুক্ত থাকে। এসব আড়াআড়ি নালীগুলোকে ভকম্যানস নালী বলে। হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রসমূহের অন্তবর্তী স্থানে কঠিন ম্যাট্রিক্স ও অস্টিওসাইট বিদ্যমান থেকে অস্থির দৃঢ়তা প্রদান করে।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটি হলো অস্থি ভঙ্গ। সমস্যাটি নিরাময়ে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি তা নিচে আলোচনা করা হলো-

যদি তাৎক্ষণিক কোন বিপদের আশঙ্কা না থাকে তবে রোগীকে নিয়ে বেশি নড়াচড়া করা যাবে না। রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে কিংবা শ্বাস কষ্ট থাকলে রোগীকে হাত পা প্রসারিত করে এমনভাবে শুইয়ে দিতে হবে যেন মাথা বুকের চেয়ে সামান্য নিচে থাকে। যদি কোন স্থান দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে থাকে তাহলে এটি দ্রুত বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পরিষ্কার কাপড় দিয়ে রক্তপড়া স্থান বেঁধে দিতে হবে। যদি এস্থান দিয়ে অস্থি বের হয়ে থাকে তাহলে জোেড় চেপে ধরতে হবে। রক্ত পড়া বন্ধ হলে কাপড় বদলিয়ে ড্রেসিং করে দিতে হবে। হাত বা পায়ের অস্থি ভেঙ্গে গেলে এদের নিচে বালিশ দিতে হবে যাতে রোগী আরাম অনুভব করে।

বাহুর যে অস্থি ভেঙ্গে গেছে সেটি যাতে নড়াচড়াকরতে না পারে সেজন্য বাঁশের বা কাঠের তৈরি পাত দিয়ে চট বেঁধে দিতে হবে। যদি সম্ভব হয় তাহলে অস্থিভঙ্গের স্থানে কাপড় দিয়ে পেচিয়ে বরফ দিয়ে ঠাণ্ডা রাখতে হবে। এতে ব্যথা ও ফোলা কম হবে। লক্ষ রাখতে হবে যেন বরফ সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে না আসে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া রোগীকে কোন কিছু খাওয়ানো বা পান করানো যাবে না। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

— ৫ম অধ্যায় : মানব শারীরতত্ত্ব: শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া
— ৬ষ্ঠ অধ্যায় : মানব শারীরতত্ত্ব: বর্জ্য ও নিষ্কাশন

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ :

চলন ও অঙ্গচালনা
ক. অস্থির চারপাশ ঘিরে যে আবরণ থাকে তার নাম কী?
খ. হ্যাভারশিয়ান তন্ত্র বলতে কী বুঝ?
গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত চিত্র A-এর গঠন ও কাজ চলন ও অঙ্গচালনা অধ্যায়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে নির্দেশিত A ও B-এর মধ্যে যথেষ্ট বৈষম্য বিদ্যমান— তা চলন ও অঙ্গচালনা অধ্যায়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

সমাধান : ক. অস্থির চারপাশ ঘিরে যে আবরণ থাকে তার নাম পেরিঅস্টিয়াম।

খ. নিরেট অস্থি গঠনকারী এককগুলোই হলো হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র হ্যাভারসিয়ান ক্যানেল, ল্যামেলা, ল্যাকুনি এবং ক্যানালিকুলি নিয়ে হ্যাভারসিরানতন্ত্র গঠিত। সাধারণত নিরেটঅস্থি যেমন ফিমার,
হিউমেরাসে এটি বিদ্যমান।

গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত চিত্র A হলো হৃৎপেশী বা কার্ডিয়াক পেশী। যেসব পেশিকলা হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর গঠনে অংশ নেয় তাদের হৃৎপেশী বলে। এগুলো অনৈচ্ছিক ধরনের পেশী কলা।

গঠন: অনিয়তাকার, লম্বা ও শাখা-প্রশাখাযুক্ত কতগুলো কোষ বা পেশিতন্তু নিয়ে হৃৎপেশী গঠিত। কোষ বা তন্তুগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে জালিকাকার গঠন সৃষ্টি করে। কোষগুলো প্রায় 100 মাইক্রোমিটার লম্বা এবং প্রায় 15 মাইক্রোমিটার প্রশস্ত হয়। এদের সারকোলেমা (কোষঝিল্লি) অত্যন্ত পাতলা। প্রতিটি কোষের কেন্দ্রভাগে একটি নিউক্লিয়াস থাকে। কোষের অভ্যন্তরে সমান্তরাল ও লম্বালম্বিভাবে সজ্জিত অসংখ্য মায়োফাইব্রিল অণুসূত্র থাকে। মায়োফাইব্রিলের গায়ে ডোরাকাটা দাগ থাকে। পাশাপাশি অবস্থিত দুটি কোষের সারকোলেমা মিলিত হয়ে চাকতির মতো একটি ডিস্ক গঠন করে। একে ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক বলে। এটি হৃৎপেশীর অন্যতম শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য।

কাজ: হৃৎপেশীর অবিরাম সঙ্কোচন-প্রসারণ হৃৎপিণ্ডে ছন্দোবদ্ধ সঙ্কোচন-প্রসারণ সৃষ্টি করে। এতে অবিরাম হৃৎস্পন্দনের মাধ্যমে মানবদেহে অবিচ্ছিন্ন রক্ত সঞ্চারিত হয়। এ পেশী কখনও অবসাদগ্রস্থ হয় না।

ঘ. উদ্দীপকে নির্দেশিত A হলো হৃৎপেশি ও B হলো অনৈচ্ছিক পেশি। অনৈচ্ছিক পেশি ও হৃৎপেশীর মধ্যে যথেষ্ট বৈষম্য বিদ্যমান। অনৈচ্ছিক পেশির মায়োফাইব্রিলে কোনো আড়াআড়ি দাগ দেখা যায় না, কিন্তু হৃদপেশির মায়োফাইব্রিলের গায়ে আড়াআড়ি রেখা থাকে। অনৈচ্ছিক পেশিকলার সংকোচন ও প্রসারণ তুলনামূলকভাবে ধীর গতিসম্পন্ন, অপরদিকে হৃদপেশির সংকোচন প্রসারণ ক্ষমতা পরিমিতভাবে দ্রুত।
হৃদপেশির কোষগুলোর সংযোগস্থলে কোষপর্দা ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে এক ধরনের অনুপ্রস্থ রেখার সৃষ্টি করে যা ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক নামে পরিচিত। অনৈচ্ছিক পেশিতে এ ধরনের কোনো ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক থাকে না।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More