(গল্প : বই পড়া) এসএসসি বাংলা : জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

বই পড়া হচ্ছে এসএসসি অর্থাৎ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বই এর প্রমথ চৌধুরীর গল্প। বই পড়া গল্প থেকে বাছাইকৃত সেরা ৫০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন এবং ১০টি অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরসহ আলোচনা করা হলো-

বই পড়া গল্প এর জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

কবি পরিচিতি

প্রশ্ন-১. প্রমথ চৌধুরী কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-২. প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস কোথায় ছিল?
উত্তর:
প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস ছিল পাবনা জেলার হরিপুর গ্রামে।

প্রশ্ন-৩. প্রমথ চৌধুরী কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করন?
উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৪. প্রমথ চৌধুরী কোন বিষয়ে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন?
উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন।

প্রশ্ন-৫. প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী?
উত্তর:
প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ‘বীরবল’।

প্রশ্ন-৬. বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে?
উত্তর:
বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী।

প্রশ্ন-৭. ‘চার-ইয়ারি কথা’ কার লেখা?
উত্তর:
‘চার-ইয়ারি কথা’ প্রমথ চৌধুরীর লেখা।

প্রশ্ন-৮. ‘আহুতি’ গ্রন্থটির লেখক কে?
উত্তর:
‘আহুতি’ গ্রন্থটির লেখক প্রমথ চৌধুরী।

প্রশ্ন-৯. প্রমথ চৌধুরী কোন সালে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী ১৯৪৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রশ্ন-১০. প্রমথ চৌধুরী কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

মূলপাঠ

প্রশ্ন-১১. মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ কোনটি?
উত্তর:
মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ বই পড়া।

প্রশ্ন-১২. শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ কোনটি?
উত্তর:
শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ হচ্ছে সাহিত্যচর্চা।

প্রশ্ন-১৩. কীসের জন্য আমরা সকলে উদ্বাহু?
উত্তর:
শিক্ষার ফল লাভের জন্য আমরা সকলে উদ্বাহু।

প্রশ্ন-১৪. কী ছাড়া সাহিত্যচর্চার উপায়ান্তর নেই?
উত্তর:
বই পড়া ছাড়া সাহিত্যচর্চার উপায়ান্তর নেই।

প্রশ্ন-১৫. কীসের নগদ বাজার দর নেই?
উত্তর:
সাহিত্যের নগদ বাজার দর নেই।

প্রশ্ন-১৬. শিক্ষিত সমাজের লোলুপ দৃষ্টি কীসের ওপর?
উত্তর:
শিক্ষিত সমাজের লোলুপদৃষ্টি অর্থের ওপর।

প্রশ্ন-১৭. কোনটি সম্পর্কে অনেকেই সন্দিহান?
উত্তর:
সাহিতচর্চার সুফল সম্পর্কে অনেকেই সন্দিহান।

প্রশ্ন-১৮. লেখকের মতে, কারা একখানা কাব্যগ্রন্থও কিনতে প্রস্তুত নন?
উত্তর:
লেখকের মতে, যারা হাজার খানা ল-রিপোর্ট কেনেন তারা একখানা কাব্যগ্রন্থও কিনতে প্রস্তুত নন।

প্রশ্ন-১৯. যারা হাজারখানা ল-রিপোট কেনেন তাঁরা একখানা কাব্যগ্রন্থও কিনতে প্রস্তুত নন কেন?
উত্তর:
যারা হাজারখানা ল-রিপোর্ট কেনেন তাঁরা একখানা কাব্যগ্রন্থ কিনতে প্রস্তুত নন, কেননা তাতে ব্যবসার কোনো সুসার নেই।

প্রশ্ন-২০. পুরো মনটার সাক্ষাৎ পাওয়া যায় কোথায়?
উত্তর:
পুরো মনটার সাক্ষাৎ পাওয়া যায় শুধু সাহিত্যে।

প্রশ্ন-২১. কোথায় দর্শনের চর্চা ভালো হয়?
উত্তর:
গুহায় দর্শনের চর্চা ভালো হয়।

প্রশ্ন-২২. নীতির চর্চা কোথায় করতে হয়?
উত্তর:
নীতির চর্চা করতে হয় ঘরে।

প্রশ্ন-২৩. বই পড়া প্রবন্ধে লেখকের মতে, কোথায় দর্শনের চর্চা সম্ভব?
উত্তর:
বই পড়া প্রবন্ধে লেখকের মতে, গুহায় দর্শনের চর্চা সম্ভব।

প্রশ্ন-২৪. বিজ্ঞানের চর্চা কোথায় সম্ভব বলে প্রাবন্ধিক উল্লেখ করেছেন?
উত্তর:
বিজ্ঞানের চর্চা জাদুঘরে সম্ভব বলে প্রাবন্ধিক উল্লেখ করেছেন।

প্রশ্ন-২৫. প্রমথ চৌধুরীর মতে, কীসের মাধ্যমে আমাদের জাত মানুষ হবে?
উত্তর:
প্রমথ চৌধুরীর মতে, সাহিত্যের চর্চার মাধ্যমে আমাদের জাত মানুষ হবে।

প্রশ্ন-২৬. শিক্ষকের সার্থকতা কোথায়?
উত্তর:
শিক্ষকের সার্থকতা শিক্ষার্থীকে শিক্ষা অর্জন করতে সক্ষম করানোয়।

প্রশ্ন-২৭. প্রমথ চৌধুরীর মতে, আজকের বাজারে কীসের অভাব নেই?
উত্তর:
প্রমথ চৌধুরীর মতে, আজকের বাজারে বিদ্যাদাতার অভাব নেই।

প্রশ্ন-২৮. বিদ্যার সাধনা কাকে অর্জন করতে হয়?
উত্তর:
বিদ্যার সাধনা শিষ্যকে অর্জন করতে হয়।

প্রশ্ন-২৯. বিদ্যার্জনের ক্ষেত্রে ‘গুরু’ কী?
উত্তর:
বিদ্যার্জনের ক্ষেত্রে ‘গুরু’ উত্তর সাধক মাত্র।

প্রশ্ন-৩০. ‘আত্মার অপমৃত্যু’ বলতে কী বোঝ?
উত্তর:
‘আত্মার অপমৃত্যু’ বলতে মনের আনন্দময় বিকাশের অভাবে আত্মার মৃত্যু ঘটাকে বোঝায়।

প্রশ্ন-৩১. প্রাবন্ধিক স্কুল-কলেজের ওপরে কীসের স্থান দিয়েছেন?
উত্তর:
প্রাবন্ধিক স্কুল-কলেজের ওপরে লাইব্রেরির স্থান দিয়েছেন।

প্রশ্ন-৩২. লাইব্রেরির সার্থকতা কীসের চাইতে কিছু কম নয়?
উত্তর:
লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয়।

প্রশ্ন-৩৩. যুগের বাস্তবতায় জাতির ধনের ভাণ্ডার কীসের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর:
যুগের বাস্তবতায় জাতির ধনের ভাণ্ডার জ্ঞানের ওপর নির্ভর করে।

প্রশ্ন-৩৪. বই পড়া প্রবন্ধের লেখকের মতে, কোথায় লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা কর্তব্য?
উত্তর:
বই পড়া প্রবন্ধের লেখকের মতে, গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা কর্তব্য।

প্রশ্ন-৩৫. কাব্যামৃতে আমাদের অরুচি ধরেছে কেন?
উত্তর:
কাব্যামৃতে আমাদের অরুচি ধরেছে আমাদের শিক্ষার দোষে।

প্রশ্ন-৩৬. মনের দাবি রক্ষা না করলে কী বাঁচে না?
উত্তর:
মনের দাবি রক্ষা না করলে মানুষের আত্মা বাঁচে না।

প্রশ্ন-৩৭. বই পড়া প্রবন্ধে লেখক লাইব্রেরিকে কীসের ওপর স্থান দিয়েছেন?
উত্তর:
বই পড়া প্রবন্ধে লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল কলেজের ওপরে স্থান দিয়েছেন।

প্রশ্ন-৩৮. কীসের স্পর্শে মনপ্রাণ সজীব, সতেজ, সরাগ হয়ে ওঠে?
উত্তর:
আনন্দের স্পর্শে মনপ্রাণ সজীব, সতেজ, সরাগ হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন-৩৯. মনের আক্ষেপ প্রকাশ করতে মাঝে মাঝে কী লাগাতে হয়?
উত্তর:
মনের আক্ষেপ প্রকাশ করতে মাঝে মাঝে কড়ি লাগাতে হয়।

প্রশ্ন-৪০. কাব্যামৃতে আমাদের যে অরুচি ধরেছে সেটা কার দোষ?
উত্তর:
কাব্যামৃতে আমাদের যে অরুচি ধরেছে সেটা আমাদের শিক্ষার দোষ।

প্রশ্ন-৪১. ‘সুসার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর:
সুসার বলতে প্রাচুর্য বোঝায়।

প্রশ্ন-৪২. ‘ভাঁড়েও ভবানী’ অর্থ কী?
উত্তর:
‘ভাঁড়েও ভবানী’ অর্থ হলো রিক্ত বা শূন্য।

প্রশ্ন-৪৩. ‘অবগাহন’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর:
‘অবগাহন’ শব্দের অর্থ সর্বাঙ্গ ডুবিয়ে গোসল করা।

প্রশ্ন-৪৪. ‘কারদানি’ কথাটির অর্থ কী?
উত্তর:
‘কারদানি’ কথাটির অর্থ বাহাদুরি

প্রশ্ন-৪৫. ‘গতাসু’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর:
‘গতাসু’ শব্দের অর্থ— মৃত।

প্রশ্ন-৪৬. ‘ডেমোক্রেটিক’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর:
‘ডেমোক্রেটিক’ শব্দের অর্থ গণতান্ত্রিক।

প্রশ্ন-৪৭. কুন্তী পুত্র কে?
উত্তর:
কুন্তী পুত্র হলেন— দাতাকর্ণ।

প্রশ্ন-৪৮. ‘দাতাকর্ণ’ কে?
উত্তর:
‘দাতাকণ’ হলেন মহাভারতের বিশিষ্ট চরিত্র কুন্তীর পুত্র যিনি দানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

প্রশ্ন-৪৯. কেতাবি কারা?
উত্তর:
যারা কেতাব অনুসরণ করে চলে তারাই কেতাবি।

প্রশ্ন-৫০. বই পড়া প্রবন্ধটি কোথায় পড়া হয়েছিল?
উত্তর:
বই পড়া প্রবন্ধটি একটি লাইব্রেরির বার্ষিক সভায় পড়া হয়েছিল।

বই পড়া গল্প এর অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন-১. আমরা জাতি হিসেবে শৌখিন নই— বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর:
মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত বাঙালিরা তাদের শখের বিষয়ে মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে বাঙালিরা স্বাভাবিকভাবে জীবন ধারণ করতেই হিমশিম খায়। ফলে তারা হয়ে উঠেছে উদরসর্বস্ব ও নিরস প্রকৃতির। শখ বা শৌখিনতা নিয়ে ভাবার সুযোগ বা ইচ্ছা আর হয়ে ওঠে না তাদের। তাই বই পড়ার মতো একটি সুন্দর শখও তাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় কাজ বলে মনে হয়।

প্রশ্ন-২. ‘আমাদের এখন ঠিক শখ করবার সময় নয়’—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে শখ করে কোনোকিছু করা মানে নিজের দুঃখকেই বাড়িয়ে তোলা।
বাঙালি জাতিকে সব সময় দুঃখ-দারিদ্র্য আর নানা বিপদের মোকাবিলা করে চলতে হয়। যেখানে মানুষের মানবিক চাহিদাগুলোই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না সেখানে শখ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাই বই পড়া সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও বাঙালির আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে শখ করে বই পড়ার কোনো উপায় নেই।

প্রশ্ন-৩. আমাদের গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দূর করতে শুধু শিক্ষাই যথেষ্ট নয় কেন?
উত্তর:
আমাদের গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দুটোই দূর করতে হলে শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও একান্ত প্রয়োজন।
জীবনকে সার্থক, সুন্দর ও মহৎ করার প্রথম ও প্রধান শর্ত শিক্ষা। আর শিক্ষার ফল সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে সাহিত্যচর্চা অবশ্যই করণীয়। কারণ সাহিত্যচর্চা শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ। তাই আমাদের গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দূর করতে শুধু শিক্ষাই যথেষ্ট নয়।

প্রশ্ন-৪. ইংরেজি সভ্যতার সংস্পর্শে এসেও ডেমোক্রেসিকে আমরা কীভাবে আয়ত্ত করেছি? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
ইংরেজি সভ্যতার সংস্পর্শে এসে আমরা ডেমোক্রেসির গুণগুলো আয়ত্তে না আনতে পারলেও তার দোষগুলো আত্মসাৎ করেছি। ডেমোক্রেসির প্রবর্তকরা সবাইকে সমান করার লক্ষ্য থেকেই ডেমোক্রেসির উদ্ভাবন করেন। কিন্তু ডেমোক্রেসির অনুসারীরা যার যার মতো বড় হতে চায়। শিক্ষিত মানুষের লোলুপদৃষ্টি অর্থের ওপরই পড়ে রয়েছে। ফলে তারা সাহিত্যের সার্থকতার চেয়ে অর্থের সার্থকতাই বেশি বোঝে। আর অর্থ যেহেতু সকল অনর্থের মূল, সেহেতু ডেমোক্রেসিও পরিণত হয়েছে অনর্থকতায়।

প্রশ্ন-৫. জাতির জীবনী শক্তি হ্রাস পায় কোন কারণে?
উত্তর:
সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলে জাতির জীবনীশক্তি হ্রাস পায়।
সাহিত্যচর্চা মানুষকে নির্মল আনন্দ দেয়। মনকে সজীব, সরাগ ও সজাগ রাখে। আনন্দের স্পর্শ না পেলে মন ক্রমেই নির্জীব ও হতোদ্যম হয়ে পড়ে, হ্রাস পায় জীবনীশক্তি। যদি সাহিত্যচর্চার সাথে মনের সংযোগ থাকে তবে তা যথার্থ স্ফূর্তি লাভ করতে পারে। তাই যদি কোনো জাতি সাহিত্যচর্চার সাথে সংযোগহীন হয় তবে তাদের জীবনীশক্তি হ্রাস পায়।

প্রশ্ন-৬. সাহিত্যচর্চা ও লাইব্রেরি কীভাবে সম্পর্কযুক্ত?
উত্তর:
সাহিত্যচর্চা এবং লাইব্রেরি একে অপরের পরিপূরক।
লাইব্রেরি ছাড়া সাহিত্যচর্চা সম্ভব নয়। কারণ সাহিত্যচর্চার জন্য যে উন্মুক্ত সৃজনশীল পরিবেশের প্রয়োজন তা শুধু লাইব্রেরিতেই সম্ভব। সাহিত্য মানুষের মনকে মুক্তি দিয়ে আত্মার উন্নতি করে। বিদ্যার বা সীমাবদ্ধ যেকোনো গণ্ডিতে সাহিত্যচর্চা করা সম্ভব নয়। লাইব্রেরির উন্মুক্ত পরিবেশেই কেবল তা সম্ভব। তাই সাহিত্যচর্চা ও লাইব্রেরি ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত।

প্রশ্ন-৭. ‘ধনের সৃষ্টি যেমন জ্ঞানসাপেক্ষ তেমনি জ্ঞানের সৃষ্টি মন সাপেক্ষ।’- বক্তব্যটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটির তাৎপর্য হলো- জ্ঞানের উন্নতির উপর ধন ও মনের উন্নতি নির্ভরশীল।
আমাদের বর্তমান সমাজের ধারণা হলো জ্ঞান অর্জন করে ভালো চাকরির মাধ্যমে ধনী হওয়া। সাহিত্যচর্চাকে অনর্থক ও অপচয় ভেবে এবং এতে নগদ অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাবনা কম বিধায় এর প্রতি কেউ আগ্রহী হয় না। অথচ বর্তমান যুগে জ্ঞানের উন্নতির সাথে ধনের ও মনের গভীর সম্পর্ক। জ্ঞান আছে বলেই ধনের সৃষ্টি এবং মন আছে বলে জ্ঞানের গুরুত্ব বিদ্যমান আছে।

• (গল্প : সুভা) এসএসসি বাংলা : জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন-৮. ‘সাহিত্যের মধ্যে আমাদের জাত মানুষ হবে’ বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর:
সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের জাত মানুষ হবে বলতে লেখক বুঝিয়েছেন— সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে ব্যক্তির মানসিক বিকাশের কথা। প্রাবন্ধিক আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে তাতে পাশ করা মানুষের সংখ্যা বাড়লেও প্রকৃত শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে না। কারণ সাহিত্যচর্চা ভিন্ন কোনো ব্যক্তিই প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। এ কারণে প্রাবন্ধিক শিক্ষার জন্য সাহিত্যচর্চাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলে মনে করেছেন। প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য সাহিত্যচর্চা ভিন্ন অন্য কোনো পথ আছে বলে মনে করেন না প্রাবন্ধিক।

প্রশ্ন-৯. একজন যথার্থ শিক্ষকের সার্থকতা কীসে তা বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর:
শিক্ষার্থীর মনে জ্ঞান তৃষ্ণা জাগিয়ে তোলা এবং তা অর্জনে তাকে সক্ষম করে তোলার মধ্যেই একজন যথার্থ শিক্ষকের সার্থকতা নিহিত নিজের জ্ঞানের ভাণ্ডার ছাত্রের সামনে উন্মুক্ত করে দিলেই যথার্থ শিক্ষক হওয়ায় যায় না। একজন শিক্ষক তখনই সার্থক হন যখন তিনি ছাত্রকে স্বেচ্ছায় জ্ঞানার্জনে আগ্রহী করে তুলতে পারেন। একজন যথার্থ শিক্ষক তার ছাত্রের আত্মাকে উদ্বোধিত করেন ও তার অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগ্রত করে তোলেন। এর মধ্যেই যথার্থ শিক্ষকের সার্থকতা।

প্রশ্ন-১০. প্রাবন্ধিক গুরুকে উত্তরসাধক বলেছেন কেন?
উত্তর:
প্রাবন্ধিক-গুরুকে উত্তরসাধক বলেছেন কারণ গুরু শিষ্যের আত্মাকে উদ্বোধিত করেন এবং তার অন্তর্নিহিত সকল প্রচ্ছন্ন শক্তিকে জাগিয়ে দেন। বস্তুতপক্ষে বিদ্যার সাধনা শিষ্যকে নিজে অর্জন করতে হয়। যথার্থ গুরু শিষ্যের আত্মাকে উদ্বোধিত করেন এবং তার অভ্যন্তরের সকল সুপ্ত শক্তিকে শিষ্যের কাছে তুলে ধরেন। সে শক্তির বলে শিষ্যকে নিজেকেই নিজের মন গড়তে হয়, বিদ্যা অর্জন করতে হয়। তাই শিক্ষক শুধু বিদ্যার সন্ধান দিতে পারেন। কিন্তু তা অর্জন করার দায়িত্ব ছাত্রের নিজের। এ কথাটি বোঝাতেই লেখক গুরুকে শুধু উত্তরসাধক বলেছেন।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More