(কোষ রসায়ন) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

কোষ রসায়ন হচ্ছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ১ম পত্রের ৩য় অধ্যায়। কোষ রসায়ন অধ্যায় থেকে সেরা বাছাইকৃত ৭টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : ঘরের তালা খোলার জন্য আশিকের মা ব্যাগে রাখা অনেক চাবির মধ্য থেকে সঠিক চাবিটি কোনোমতেই খুঁজে পাচ্ছিলো না। পেছনে দাঁড়ানো আশিক বললো জানো মা একটি নির্দিষ্ট চাবি ছাড়া যেমন একটি নির্দিষ্ট তালা খোলে না। আমাদের দেহেও প্রোটিন নির্মিত বিশেষ ধরনের একটি যৌগ আছে যার কাজের প্রকৃতি ঠিক এই তালা চাবির ক্রিয়ার মতো।

ক. গ্যামিটোগনি কী?
খ. Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয় কেন?
গ. এনজাইমের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা করো।
ঘ. আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এনজাইমের কোনোরূপ ব্যবহার আছে কি না তা কোষ রসায়ন অধ্যায়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

সমাধান : ক. মশকীর ক্রুপের অভ্যন্তরে গ্যামিট সৃষ্টির মাধ্যমে ম্যালেরিয়া জীবাণুর যৌন প্রজননকে বলা হয় গ্যামিটোগনি।

খ. Cycas উদ্ভিদটি যে Cycadales বর্গের অন্তর্গত তাদের অধিকাংশ উদ্ভিদই বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এদেরকে এখন কেবল মাত্র জীবাশ্ম হিসেবে পাওয়া যায়। এ বর্গের Cycas উদ্ভিদটি এখনও পৃথিবীতে বেঁচে আছে। এজন্য Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যৌগটি হলো এনজাইম। এনজাইমের শ্রেণিবিভাগ দুইভাবে করা হয়ে থাকে। যেমন-
রাসায়নিক গঠনের ভিত্তিতে এনজাইম দুই প্রকার।
সরল এনজাইম: যে এনজাইম শুধু প্রোটিন দিয়ে গঠিত তাদের সরল এনজাইম বলা হয়। যেমন- প্রোটিয়েজ, অ্যামাইলেজ।
সংযুক্ত এনজাইম: যে এনজাইম একটি প্রোটিন ও একটি ননপ্রোটিন অংশ নিয়ে গঠিত তাদের সংযুক্ত এনজাইম বলা হয়। যেমন- FAD, NAD. আবার, বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করার উপর ভিত্তি করে এনজাইমসমূহকে নিম্নলিখিত প্রকারে শ্রেণিবিভাগ করা হয়।

অক্সিডোরিডাকটেজ এনজাইম: এ জাতীয় এনজাইম কোনো পদার্থের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন কিংবা ইলেকট্রন সংযুক্ত করে অথবা কোনো পদার্থ থেকে এগুলোকে বিযুক্ত করে।
ট্রান্সফারেজ এনজাইম: এ এনজাইম কোনো একটি পদার্থ হতে একটি গ্রুপকে অপসারিত করে অন্য একটি পদার্থের সাথে সংযুক্ত করতে সাহায্য করে।
হাইড্রোলেজ এনজাইম: এ জাতীয় এনজাইম কোনো পদার্থের বিশেষ বন্ডের সাথে পানির অণু যুক্ত করে।
আইসোমারেজ এনজাইম: এ জাতীয় এনজাইম অ্যালডোজ এবং কিটোজ শ্যুগার এর আইসোমারিক পরিবর্তন সাধন করে।
লাইগেজ এনজাইম: এ জাতীয় এনজাইম দুই বা ততোধিক সাবস্ট্রেটকে সংযুক্ত করে।
কার্বোক্সিলেজ এনজাইম: এ শ্রেণির এনজাইম কোনো পদার্থের সাথে CO2 যুক্ত করে অথবা কোনো পদার্থ থেকে CO2 বিযুক্ত করে থাকে।
ফসফোরাইলেজ এনজাইম: এ জাতীয় এনজাইম কোনো পদার্থের সাথে ফসফেট গ্রুপ যুক্ত করতে বা কোনো পদার্থ থেকে ফসফেট গ্রুপ বিচ্ছিন্ন করতে সাহায্য করে।

ঘ. আমাদের দৈনন্দিন জীবনে উদ্দীপকের জৈব যৌগটি অর্থাৎ এনজাইমের ব্যবহার বহুবিধ। বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন আম, কমলালেবু, আপেল, আঙ্গুর প্রভৃতির রস তৈরিতে এনজাইম ব্যবহার করা হয়। এসব ফলের রস তৈরির সময় পেকটিন নামক এনজাইম ব্যবহার করলে রসের ঘোলাটে অবস্থা কেঁটে যায় এবং রস পরিষ্কার ও স্বাদযুক্ত হয়। রেনিন নামক এনজাইম দুধের ননীকে জমাট বাঁধতে সহায়তা করে এবং এর ফলে ননী থেকে পনির তৈরি করা হয়। আজকাল কাপড়ের দাগ ওঠাতে এনজাইম ব্যবহার করা হয়। এর ফলে কাপড়ের দাগ একেবারে উঠে যায় এবং কোনো ক্ষতি হয় না। আবার ট্যানারিতে লেদার তৈরির সময় কাঁচা চামড়া থেকে লোম ছাড়াতে এনজাইম ব্যবহার করা হয়। চামড়ায় সৃষ্ট পোড়া ক্ষত নিরাময়ে এনজাইম ব্যবহৃত হয়।

শরীরে এনজাইমের পরিমাণ কমে গেলে হজমে সমস্যা হয়। পেপসিন, অ্যামাইলেজ, পেপেইন প্রভৃতি এনজাইম হজমে সাহায্য করে। রক্তে ইউরিয়া ও ইউরিক এসিড শনাক্তকরণে ইউরিকেজ ও ইউরিয়েজ এনজাইম ব্যবহার করা হয়। ট্রিপসিন নামক এনজাইমের সহায়তায় চোখের ছানির অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। এছাড়াও ইউরোবাইলেজ নামক এনজাইম ব্যবহার করে মস্তিষ্ক ও ধমনির জমাট রক্ত গলানো যায়।
তাই বলা যায়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে উদ্দীপকের এনজাইম নামক যৌগটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : A ও B দুটি যৌগ। A যৌগটি ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ প্রাণীদেহ গঠনের অন্যতম উপাদান। যাকে হাইড্রোলাইসিস করলে Amino Acid পাওয়া যায়। B যৌগটি জীবদেহে নির্দিষ্ট বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে বিক্রিয়ার হারকে ত্বরান্বিত করে এবং দেহকে সুস্থ, সবল ও সতেজ রাখে। A ও B যৌগের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান।

ক. স্পোরোগনি কী?
খ. সবাত ও অবাত শ্বসনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
গ. উদ্দীপকে B যৌগটির ক্রিয়া কৌশল তালাচাবির ন্যায় আলোচনা করো।
ঘ. A ও B এর মধ্যে কী ধরনের আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে? কোষ রসায়ন অধ্যায়ের আলোকে তোমার নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. মানবদেহে Plasmodium এর অযৌন বিভাজন পদ্ধতির প্রজননকে স্পোরোগনি বলে।

খ. সবাত ও অবাত শ্বসনের মধ্যেকার পার্থক্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো-
• সবাত শ্বসন :
i. সবাত শ্বসনে অক্সিজেনের
প্রয়োজন হয়।
ii. সবাত শ্বসনে পাইরুভিক এসিড সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে CO2 ও H2O উৎপন্ন করে।
iii. সবাত শ্বসনে অধিক পরিমাণ CO2 উৎপন্ন করা
হয়।

• অবাত শ্বসন :
i. অবাত শ্বসনে অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না।
ii. অবাত শ্বসনে পাইরুভিক এসিডের অসম্পূর্ণ জারন ঘটে।
iii. অবাত শ্বসনে অল্প পরিমাণ CO2 উৎপন্ন হয়।

গ. উদ্দীপকে B যৌগটি এনজাইম যার ক্রিয়া কৌশল তালাচাবির ন্যায়। এনজাইমের ক্রিয়া কৌশল কোষ রসায়ন অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকে A যৌগটি প্রোটিন এবং B যৌগটি এনজাইম। প্রোটিন ও এনজাইমের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক কোষ রসায়ন অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : রফিক তার ভাগ্নীর জন্য X ও Y দুইটি প্যাকেট ডাকযোগে পাঠান । X ও Y প্যাকেট প্রাপ্ত বস্তাতে জৈব রাসায়নিক পদার্থের আপেক্ষিক মিষ্ঠতা যথাক্রমে ৭৪ ও ১৭৩ পদার্থ দুইটি পরস্পর আইসোমার হলেও প্রথমটি সালোকে সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রারম্ভিক বস্তু এবং দ্বিতীয়টি সরাসরি উৎপন্ন হয় না।

ক. কার্বোহাইড্রেট কী?
খ. রিডিউসিং সুগার বলতে কী বোঝ?
গ. X প্যাকেটের জৈব রাসায়নিক পদার্থেটি হলো গ্লুকোজ। গ্লুকোজের গাঠনিক সংকেতসমূহ বর্ণনা করো।
ঘ. X ও Y প্যাকেট থেকে পাওয়া জৈব রাসায়নিক পদার্থের মধ্যবর্তী যে পার্থক্য তা বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত যেসব জৈব যৌগে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত ২৪১, সেসব জৈব যৌগই হলো কার্বোহাইড্রেট।

খ. যেসব শর্করাতে, কমপক্ষে ১ টি মুক্ত অ্যালডিহাইড (-CHO) বা কিটোন >C=O থাকে, যারা ক্ষারীয় আয়নকে বিজারিত করতে পারে তাদেরকে বিজারক শর্করা বা রিডিউসিং -সুগার বলে। গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ইত্যাদি বিজারক শর্করার উদারহণ।

গ. উদ্দীপকে X প্যাকেটের জৈব রাসায়নিক পদার্থটি হলো গ্লুকোজ। গ্লুকোজের গাঠনিক সংকেতসমূহ কোষ রসায়ন অধ্যায়ে বর্ণনা করা আছে।

ঘ. X ও Y প্যাকেটে প্রাপ্ত জৈব রাসায়নিক পদার্থ দুটি যথাক্রমে গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ। গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের মধ্যবর্তী পার্থক্য কোষ রসায়ন অধ্যায়ে নিরূপণ করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ : বিশাল পাঠ্যপুস্তক পড়ে জানতে পারে যে, এনজাইম হলো প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। এর কার্যকারিতা pH দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এনজাইম সমৃদ্ধ ওয়াশিং পাউডার ব্যবহার করে সহজেই কাপড়ের তৈল, চর্বি ও রক্তের দাগ তোলা যায়। আজ অসাবধানতাবশত তার শার্টে চর্বির দাগ লেগে যায়। সে একটি ওয়াশিং পাউডার দিয়ে তা পরিষ্কার করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়।

ক. সেলুলোজ কী?
খ. উদ্ভিদ দেহের কোথায় এনজাইম অবস্থান করে? ব্যাখ্যা করো।
গ. বিশালের জানতে পারা pH দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থের কার্যপদ্ধতি বর্ণনা করো।
ঘ. বিশালের কাপড়ে যে চর্বিযুক্ত দাগ লেগেছে। তা দূর করার জন্য ওয়াশিং পাউডারে কোন ধরনের এনজাইম ব্যবহার করা দরকার বলে তুমি মনে করো।

সমাধান : ক. উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরে অসংখ্য বিটা-D গ্লুকোজ অনু পরস্পর বিটা, 1-4 কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যে পদার্থ তৈরি হয় সেটিই সেলুলোজ।

খ. উদ্ভিদের দেহের সাইটোপ্লাজমে এনজাইম অবস্থান করে। কারণ, সাইটোপ্লাজমের মধ্যে কোষের সকল গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু যেমন: রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট ইত্যাদি থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে শ্বসন ও খাদ্য প্রস্তুতের জন্য ব্যবহৃত সকল ধরনের এনজাইম উপস্থিত থাকে।

গ. উদ্দীপকে ফয়সালের জানতে পারা pH দ্ধারা নিয়ন্ত্রিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ এনজাইম। এনজাইমের কার্যপদ্ধতি কোষ রসায়ন অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকে ফয়সালের শার্টে চর্বি জাতীয় দাগ লেগেছে। এ সম্পর্কে কোষ রসায়ন অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ : অ্যামাইনো এসিডের সমন্বয়ে গঠিত পানিতে দ্রবণীয়, বর্ণহীন→ জৈব রাসায়নিক পদার্থ।

ক. কলেরা রোগের জীবাণুর নাম কী?
খ. চর্বি ও তেল বলতে কী বোঝ?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত পদার্থটির যে কোনো একটি ভাগের শ্রেণিবিন্যাস ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আমাদের খাদ্য তালিকায় উদ্দীপকে উল্লিখিত পদার্থটির ভূমিকা কোষ রসায়ন অধ্যায়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. কলেরা রোগের জীবাণুর নাম Vibrio cholerae.

খ. যে সব ট্রাইগ্লিসারাইড অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে তৈরি এবং সাধারণ তাপমাত্রায় (২০°সে.) কঠিন অবস্থায় থাকে, তাকে চর্বি বলে। এর গলনাংক বেশি। যেমন- উদ্ভিজ্জ চর্বি ও পাম অয়েল। অন্যদিকে, যেসব ট্রাইগ্লিসারাইড অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে তৈরি এবং সাধারণ তাপমাত্রায় (২০°সে.) তরল অবস্থায় থাকে, তাকে তেল বলে। এর গলনাংক খুব কম। যেমন- সাধারণ ভোজ্য তেল।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত জৈব রাসায়নিক পদার্থ হলো প্রোটিন। প্রোটিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- ১. সরল প্রোটিন, ২. যুগ্ম প্রোটিন ও ৩. উৎপাদিত প্রোটিন। যেকোনো একটি ভাগের শ্রেণিবিন্যাস কোষ রসায়ন অধ্যায়ে ব্যাখ্যা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, জৈব রাসায়নিক পদার্থটি অ্যামাইনো এসিড সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং জৈব পদার্থটি প্রোটিন। এ সম্পর্কে কোষ রসায়ন অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৬ : উদ্ভিদবিজ্ঞান ক্লাসে অসীম স্যার এনজাইম সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। অনিকা বিষয়টি আরো সুন্দরভাবে বুঝার জন্য স্যারকে আবার সহজভাবে বুঝাতে বললেন। তারপর স্যার বললেন, এনজাইম আসলে এক ধরনের প্রোটিন। এটি প্রভাবকের মতো কাজ করে এবং বিভিন্ন জৈবনিক বিক্রিয়ার গতিকে বৃদ্ধি বা হ্রাস করতে সাহায্য করে। আর বিক্রিয়া শেষে অপরির্তিত থাকে।

ক. লিপিড কী?
খ. চারটি সরল প্রোটিনের উদাহরণ দাও।
গ. ক্লাসে স্যার এনজাইম নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি কিভাবে কাজ করে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. জীবদেহের শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য এনজাইম অপরিহার্য- কোষ রসায়ন অধ্যায়ের আলোকে তোমার মতামত দাও।

সমাধান : ক. কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত স্নেহজাতীয় পদার্থই হলো লিপিড।

খ. চারটি সরল প্রোটিনের উদাহরণ
i. অ্যালবুমিন: যেমন- ডিমের সাদা অংশ।
ii. গ্লোবিউলিন: যেমন- উদ্ভিদের বীজে এ ধরনের প্রোটিন থাকে।
iii. গ্লুটেলিন: যেমন- ধানের অরাইজেনিন।
iv. প্রোলামিন: যেমন- বার্লির হার্ডিন।

গ. ক্লাসে আলোচিত বিষয়টি হলো এনজাইম। এনজাইম কিভাবে কাজ করে তা কোষ রসায়ন অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকে আলোচিত বিষয় হলো এনজাইম জীবদেহের শরীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। এর কারণ কোষ রসায়ন অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৭ : A ও B দুটি যৌগ। ‘A’ যৌগটি ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ প্রাণিদেহ গঠনের অন্যতম উপাদান। ‘B’ যৌগটি জীবদেহের বিভিন্ন নির্দিষ্ট বিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে দেহকে সুস্থ, সবল ও সতেজ রাখে। A ও B যৌগের মধ্যে আন্ত:সম্পর্ক বিদ্যমান ।

ক. জনুক্রম কী?
খ. Ex-situ ও In-situ বলতে কী বোঝ?
গ. উদ্দীপকের ‘A’ যৌগটির দ্রবণীয়তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস লিখ।
ঘ. উদ্দীপকের ‘B’ যৌগটি “জৈবনিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে”— উক্তিটি কোষ রসায়ন অধ্যায়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. কোনো জীবের জীবনচক্র সম্পন্ন করতে গ্যামেটোফাইটিক পর্যায়ের সাথে স্পোরোফাইটিক পর্যায়ের যে পালাক্রম ঘটে তাই জনুক্রম।

খ. বায়োডাইভারসিটির উপাদান সমূহকে তাদের মূল বাসস্থান বা প্রাকৃতিক স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে বাঁচিয়ে রাখাই হলো Ex-situ কনজারভেশন। বোটানিক্যাল গার্ডেন, সীড ব্যাংক ইত্যাদি হলো Ex
situ কনজারভেশনের উদাহরণ।
অপরদিকে, মূল বাসস্থানে তথা প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবর্তনীয় গতিশীল ইকোসিস্টেমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করাই হলো In-situ জারভেশন। যেমন— ইকোপার্ক, জাতীয় উদ্যান, ইত্যাদি।

গ. উদ্দীপকের ‘A’ যৌগটি হলো প্রোটিন। দ্রবণীয়তার উপর ভিত্তি করে সরল প্রোটিনকে ৭টি ভাগে ভাগ করা হয়। যা কোষ রসায়ন অধ্যায়ে উল্লেখ করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘B’ যৌগটি হলো এনজাইম। এনজাইম বিভিন্ন জৈবনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা কোষ রসায়ন অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

আরো পড়ুন >
• (কোষ ও এর গঠন) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
• (কোষ বিভাজন) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More