কাঁচা আমের জুস (রেসিপি ও উপকারিতা)

প্রচন্ড গরম। বাইরে বের হওয়া মানেই যেনো ঘামে পুরো শরীর ভর্তি, সাথে তৃষ্ণা তো আছেই। তৃষ্ণা মেটাতে অনেকে আবার রাস্তার ধারে তৈরিকৃত বিভিন্ন ফলের জুস বা শরবত খেয়ে থাকে। সেগুলো খেতে মুখরোচক হলেও ক্ষতিকর দিকও রয়েছ। তবে এই গরমের সময় শরীরে প্রশান্তি এনে দিতে পারে বাড়ির তৈরি কাঁচা আমের জুস। খেতেও ভালো এবং এই জুসের রয়েছে নানাবিধ স্বাস্থ্য উপকারিতা।
জীবনধারার এবারের বিষয়বস্তু বাড়ির তৈরি কাঁচা আমের জুসের রেসিপি এবং এর স্বাস্থ্য উপকারিতা।

কাঁচা আমের জুস এর ৫টি রেসিপি

★ পোড়া আমের জুস :
এই জুস বানানোর জন্য কাঁচা আম পুড়াইতে হয়। পোড়া আমের কিভাবে জুস বানাতে হয় তার কার্যপ্রণালী নিচে আলোচনা করা হলো।

উপকরণ : (এক গ্লাস জুসের জন্য)
১. মাঝারি সাইজের ২টি কাঁচা আম
২. স্বাদমতো চিনি
৩. পরিমিত বিটলবণ
৪. কাঁচা মরিচ

কার্যপ্রণালী :
প্রথমে আম দুইটি খোসাসহ পুড়িয়ে নিতে হবে। এরপর ঠান্ডা হলে খোসাগুলো ছড়িয়ে নিতে হবে। আমের ভিতর নরম হয়ে গেছে। এবার একটা বাটিতে খোসা ছড়ানো আমের সাথে পরিমাণমতো চিনি, বিটলবণ ও কাঁচা মরিচ মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর সবগুলো একসাথে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিলেই জুস তৈরি হয়ে যাবে। তারপর গ্লাসে পরিবেশন করা যাবে এবং জুস ঠান্ডা করতে বরফ পানি বা বরফকুচিও দেওয়া যাবে।

★ আম-পুদিনা মিক্সড জুস :
মূলত আম এবং পুদিনা পাতার মিশ্রণে এই জুস বানানো হয়। জুস বানানোর কার্যপ্রণালী নিম্নে আলোচনা করা হলো।

উপকরণ :
১. ২-৩টি কাঁচা আম
২. কিছু পরিমাণ পুদিনা পাতা
৩. পরিমাণমতো চিনি
৪. পরিমিত বিটলবণ
৫. কাঁচা মরিচ
৬. ১ লিটার পানি

কার্যপ্রণালী :
প্রথমে আমগুলো কুচিকুচি করে কেটে একটা পাত্রে রাখুন। এবার ওই পাত্রে চিনি, বিটলবণ, কাঁচা মরিচ মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি ১০ মিনিট রাখার পর ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিলেই জুস হয়ে যাবে।
যদি ঠান্ডা করে খেতে চান তাহলে ফ্রিজের বরফ বা বরফকুচি দিতে পারেন।

★ সেদ্ধ আমের জুস :
এই জুস বানাতে আম সেদ্ধ করতে হয়। জেনে নিন সেদ্ধ আমের জুসের কার্যপ্রণালী।

উপকরণ :
১. ৩-৪টা মাঝারি সাইজের কাঁচা আম
২. ১ কাপ পানি
৩. স্বাদমতো চিনি
৪. পরিমাণমতো বিটলবণ
৫. ১ চা চামচ সরষে বাটা
৬. হাফ চা চামচ বাটা মরিচ

কার্যপ্রণালী :
প্রথমে আমগুলো অল্প পানিতে সেদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর আমের খোসা এবং আটি ফেলে দিতে হবে। এবার আমের সাথে উপকরণগুলো মিক্সড করে ফ্রিজে ১০-১৫মিনিট রাখতে হবে। এবার মিশ্রণটি হালকা পানি দিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এরপর গ্লাসে পরিবেশন করুন, ঠান্ডার জন্য ফ্রিজের পানি বা বরফকুচি দেওয়া যাবে।

★ আম ঠান্ডায় জুস :
গরমের জন্য ভালো উপকারী আম ঠান্ডায় জুস। জেনে নিন আম ঠান্ডায় জুস এর প্রস্তুতপ্রণালী।

Related Posts

গরুর মাংস রান্না (৮ পদের রেসিপি)

উপকরণ :
১. এক বাটি কাঁচা আমের কুচি
২. ৩-৪টা লেবু
৩. চিনি
৪. বিটলবণ
৫. জিরাগুঁড়া
৬. বরফকুচি

কার্যপ্রণালী :
সেদ্ধ আমের কুচির সাথে লেবুর রস অল্প অল্প করে মিশিয়ে সাথে চিনি, বিটলবণ, জিরাগুঁড়া দিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এবার গ্লাসে পরিবেশন করুন এবং পরিমাণমতো বরফকুচি দিয়ে দিন।

★ কাঁচা আমের রসনা :
ছোটদের প্রিয় জুসের মধ্যে কাঁচা আমের রসনা অন্যতম। আপনার ছোট সন্তানের জন্য বানিয়ে দেখতে পারেন।

উপকরণ :
১. মাঝারি সাইজের কাঁচা আম ৫-৬টি
২. চিনি
৩. বিটলবণ
৪. জিরাগুঁড়া

কার্যপ্রণালী :
কাঁচা আমের সাথে ভালো ভাবে বিটলবণ মিশিয়ে রোদে শুকাতে দিন। তারপর ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করলেই আমের গুড়ো হয়ে যাবে। সেগুলো কাচের জারে সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।
তারপর যখন কাঁচা আমের রসনা খেতে ইচ্ছা হবে তখন এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে আমের গুড়ো মিশিয়ে সাথে চিনি, বিটলবণ ও জিরাগুঁড়া মিক্সড করে নিন তাহলেই রসনা হয়ে যাবে।

কাঁচা আমের জুস এর ৫টি উপকারিতা

★ লবণের ঘাটতি দূর করে :
গরমকালে অধিক ঘামার ফলে শরীর থেকে ঘামের সাথে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও লৌহ বের হয়ে যায়। তাই সোডিয়াম ক্লোরাইড ও লৌহের ঘাটতি পূরণে কাঁচা আমের জুস কার্যকরি ভূমিকা রাখে।
তাছাড়া ওজন কমাতে এবং ক্যালরি কমাতে কাঁচা আম বা কাঁচা আমের জুস খাওয়া যেতে পারে।

★ পেট ভালো রাখে :
গরমে বিভিন্ন কারণে পেটের গোলমাল হতে দেখা যায়। পেট পরিষ্কার রাখতে, অন্ত্রকে পরিষ্কার রাখতে এবং কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করতে কাঁচা আমের এক গ্লাস জুস খেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
খাদ্য হজমেও সহায়তা করে।

★ শরীর ঠান্ডা রাখে :
কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম রয়েছে। পটাসিয়াম শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। তাই কাঁচা আম বা কাঁচা আমের জুস খেলে শরীর ঠান্ডা রাখে, ঘাম কম হয়, এমনকি ক্লান্তিও দূর হয়। গরমের সময় দুপুরে খাবার খাওয়ার পর ঘুম ঘুম ভাব আসে। এই ঘুম ঘুম ভাব দূর করতে কাঁচা আম খাওয়া যেতে পারে।

★ হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো :
কাঁচা আম হচ্ছে হৃদযন্ত্রবান্ধব। কাঁচা আমে নিয়াসিন নামের একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে। যার ফলে হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে। তাই কাঁচা আম এর জুস খাওয়া যেতে পারে।

★ স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া রোধ :
কাঁচা আমে অধিক পরিমাণে ভিটামিন “সি” রয়েছে। যার ফলে কাঁচা আম বা কাঁচা আমের জুস স্কার্ভি ও মাড়ির ক্ষয় রোধ কমাতে সহায়তা করে। নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ কমাতে এবং দাঁতের ক্ষয় রোধেও ভালো ভূমিকা রাখে।
স্কার্ভি নিরাময়ে আমচুর খাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন : আম এর ১৫টি উপকারিতা (কাঁচা ও পাকা)

স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আরো নিত্যনতুন আপডেট পেতে জয়েন করুন জীবনধারা (সুস্থ্য দেহ, সেস্থ্য মন) ফেসবুক গ্রুপে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More