করোনা ভাইরাস কি? করোনা ভাইরাস এর লক্ষণ ও প্রতিকার

মানুষের ফুসফুস রোগের মধ্যে করোনা ভাইরাস অন্যতম। প্রাথমিক পর্যায়ে করোনা ভাইরাস এর লক্ষণ দেখে কিছুটা হলেও সনাক্ত করা যায়। তবে করোনা ভাইরাস এমন এক ধরনের ভাইরাস যেটা এর আগে দেখা যায় নি। যেটা ২০১৯ সালের শেষের দিকে চীনে প্রথম ধরা পরে। এই ভাইরাসের আরেকটি নাম হচ্ছে নভেল করোনা ভাইরাস। শুরুর দিকে অনেকে করোনা ভাইরাস, চাইনা ভাইরাস, ২০১৯ এনকভ, রহস্য ভাইরাস, নতুন ভাইরাস এসব বলে আখ্যা দিতো। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২য় সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই ভাইরাস এর নামকরণ করেন “করোনা ভাইরাস ডিজিজ- ২০১৯”। যার সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে “কোভিড-১৯”

এই ভাইরাসের বেশ কয়েকটা প্রজাতি রয়েছে। তার মধ্যে ৬-৭ টি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। করোনা ভাইরাস এর মতোই ২০০২ সালে চীনের ই উৎপত্তি আরেকটি ভাইরাস পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ভাইরাসের সংক্রমণে পুরো পৃথিবীতে প্রায় ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয় এবং সংক্রমিত হয়েছিলো ৮০৯৮ জনের মতো। বিশেষজ্ঞরা সেই ভাইরাসকেও একধরনের করোনা ভাইরাস বলে মনে করেন।

করোনা ভাইরাস এর লক্ষণ

মূলত জ্বর, কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় হচ্ছে করোনা ভাইরাস এর প্রধান লক্ষণ। তবে এটি সরাসরি ফুসফুসে আক্রমণ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই উপসর্গ শুরু হতে দেখা যায় এবং পরবর্তীতে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়। তবে রোগের উপসর্গ প্রকাশ পেতে সর্বনিম্ন ৫ দিন সময় লেগে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে কোনো কোনো গবেষকদের মতে এর স্থায়িত্বকাল ২৪ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তবে করোনা ভাইরাসের ১ম ধাপে জ্বর, কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যার উপসর্গ দেখা গেলেও ২য় ধাপে আরো কিছু উপসর্গ দেখা গেছে। সেগুলোর মধ্যে নাকে গন্ধ না পাওয়া, শ্রবণশক্তি হ্রাস, চোখ লাল হওয়া এবং গ্যাস্ট্রিকের মাত্রারিক্ত সমস্যা অন্যতম।

কারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে?
প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর দিয়ে এই ভাইরাস এর সংক্রমণ শুরু হয়। তারপর শুকনা কাশি দেখা দেই। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। রোগীর অবস্থা অবনতি হতে শুরু করলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জানা গেছে :
★ এই রোগে আক্রান্ত রোগীর ৬% এর অবস্থা খুবই আশংকাজনক। এদের ফুসফুস বিকল হয়ে যায়, সেপটিক শক, অঙ্গ বিকল হয়ে যায় এবং মৃত্যুর আশংকা অনেক বেশি।
★ এর মধ্যে ১৪% আক্রান্ত রোগীর প্রধানত শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা বেশি দেখা যায়।
★ ৮০% রোগীর মধ্যে সাধারণত জ্বর, কাশি এবং কারো কারো ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

তবে বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের এজমা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ রয়েছে তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
চীন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মহিলা রোগীদের থেকে পুরুষ রোগীদের মৃত্যুর সম্ভাবনা কিছুটা বেশি।

আক্রান্ত ব্যক্তি যেন অবশ্যই শ্বাস-প্রশ্বাসের সহয়তা পায় এবং দেহে এই ভাইরাস প্রতিরোধমূলক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে সেদিকে চিকিৎসককে খেয়াল রাখতে হবে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে করণীয় :
এই রোগের সংক্রমণের মাত্রা যেনো দিনকে দিন বৃদ্ধি না পায় এবং এই রোগ প্রতিরোধে সক্ষম হয় সেজন্য কিছু ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তার মধ্যে :
১/ মানুষজনের মাঝে ভীড় কমাতে হবে এবং জনসমাগম থেকে বিরত থাকতে হবে।
২/ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং বাইরে থেকে এসেই সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধৌত করতে হবে।
৩/ বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে।
৪/ ব্যবহৃত ময়লা পোশাক দ্রুত ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
৫/ খাবার খাওয়ার আগে এবং রান্না শুরুর আগেও ভালো ভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
৬/ হাত দিয়ে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করা থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে।
৭/ সর্দি-কাশি, জ্বরে আক্রান্ত রোগীর কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।
৮/ অপুষ্টি, অধিকমাত্রায় ডায়াবেটিস এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম ব্যক্তিদের বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
৯/ ডিম, মাংস ভালোভাবে সেদ্ধ করে খেতে হবে। বেশি বেশি ফলের রস ও পানি খেতে হবে।
১০/ রোগীদের চিকিৎসার সময় চিকিৎসকদের প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরিধান করতে হবে।

করোনা ভাইরাসের দোয়া :
প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। ভয়াবহ ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা চাইতে হবে এবং নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করতে হবে যেনো আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেন :

اللَّهمَّ إِنِّي أَعُوُذُ بِكَ مِنَ الْبرَصِ، وَالجُنُونِ، والجُذَامِ، وسّيءِ الأَسْقامِ.
বাংলা উচ্চারণ :
আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’য়ুজুবিকা মিনাল বারাছ, ওয়াল জুনুন, ওয়াল জুযাম, ওয়া সায়্যিইল আসক্বাম।

বাংলা অর্থ :
হে আল্লাহ, আমি তোমার থেকে ধবল, কুষ্ঠ এবং উন্মাদনাসহ সব ধরনের কঠিন ও জটিল দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি চাই। (সুনান আবু দাউদ)

আমাদের অবশ্যই প্রথম পর্যায়ে করোনা ভাইরাস এর লক্ষণ বা উপসর্গ সনাক্ত করতে হবে এবং সামান্য জ্বর-কাশি হলে হেলাফেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

> আরো পড়ুন : মাথা ব্যাথা কেনো হয়? মাথা ব্যাথার ১০টি কারণ ও প্রতিকার

স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আরো নিত্যনতুন আপডেট পেতে জয়েন করুন জীবনধারার ফেসবুক গ্রুপ জীবনধারা (সুস্থ্য দেহ, সুস্থ্য মন) এ।

Show Comments (2)

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More