করোনা কালীন সময়ে শিশুদের স্কুলে যেতে যেসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি

সারাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। তবে সম্প্রতি করোনার প্রকোপ তুলনামূলক কম হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জনসমাগম হতে পারে। আবার বৃদ্ধি পেতে পারে করোনা ভাইরাস। তাই শিশুদেরসহ বড়দেরও থাকতে হবে সচেতনতায়। তাছাড়া করোনা ভাইরাসের ডেলটা ধরণে সংক্রমিত হতে পারে শিশুরাও। আবার সারাদেশব্যপী করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হলেও ১৮বছরের নিচে কোনো শিশু এই টিকা পাচ্ছে না। তাই স্কুলে যাওয়ার জন্য নিতে হবে বাড়তি সচেতনতা। জীবনধারায় এবার আলোচনা করবো করোনা কালীন সময়ে স্কুলে যাওয়ার স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে।

★ ভালো মাস্ক পরিধান করা :
বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বা স্কুলে যাওয়ার সময় শিশুদের অবশ্যই ভালো মানের মাস্ক পরিধান করাতে হবে। মাস্ক পরিধানের উপকারিতা এবং না পরিধানের অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু বাইরে সবসময় শিশুদের মাস্ক পরিধান করিয়ে রাখা কষ্টকর। তার মূল কারণ মাস্ক পরিধান করা অবস্থায় অস্বস্তি, বাধা-বিপত্তি, ভয়-ভীতি ইত্যাদি। এইজন্য শিশুরা মাস্ক খুলে ফেলার চেষ্টা করবে। তবে ধমক দিয়ে নয়, মাস্ক পড়ার গুরুত্বসহ মাস্ক না পড়লে কি কি ক্ষতি হতে পারে সেসব বিষয়ে বুঝিয়ে ধীরে ধীরে মাস্ক পরিধানে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এইজন্যই আগে থেকে মাস্ক পরিধান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
শিশুদের অবশ্যই সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান করা শিখাতে হবে। তবে অভিভাবকরা এ বিষয়ে সচেতন থাকলে এবং নিয়মিত মাস্ক পরিধান করলে শিশুরাও বড়দের দেখে দেখে শিখবে।

★ সাথে যেসব রাখা জরুরি :
স্কুল ব্যাগে পরিষ্কার রুমাল এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ছোট বোতল রাখুন। এবং আপনার শিশুকে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহারবিধি সম্পর্কে অবহিত করুন। তাছাড়া টিফিন বক্সের সাথে একটি পানির বোতল দিয়ে দিবেন। ভালো ভাবে বুঝিয়ে বলে দিতে হবে টিফিনের খাবার বা পানি ভাগাভাগি করে না খেতে।
এমনকি কলম, পেন্সিল, রং, জ্যামিতিসহ যেগুলো হাত দিয়ে স্পর্শ করা হয় সেগুলো ভাগাভাগি না করতে। এসব জিনিস সবাই নিজ নিজ দায়িত্বে বাসা থেকে নিয়ে আসতে হবে। স্কুল ব্যাগের মধ্যে পলিথিন ব্যাগের মধ্যে এক্সট্রা কয়েকটা মাস্ক রাখুন। পরিহিত মাস্ক ময়লা হয়ে গেলে, বা ঘামে ময়লা হয়ে গেলে সেটা ব্যাগে রেখে যেনো নতুন আরেকটা মাস্ক পরিধান করে সে ব্যাপারে জানিয়ে দিন।
তাছাড়া সার্জিকেল ওয়ান টাইম মাস্ক একবার পরিধান করে সেটা আবার পরবর্তীতে পড়া যাবে না সে ব্যাপারেও জানিয়ে দিন।

শিশুদের যেগুলো শিখাবেন

• শিশুরা স্কুলে যেয়ে বন্ধুদের সাথে মিশবে, একসাথে খেলাধুলা করবে। যা করোনা কালীন সময়ে মোটেও কাম্য নয়। তাই অভিভাবকদের উচিত এ বিষয়ে শিশুদের সাথে আলোচনা করা। এসেম্বলিতে দাঁড়ানোর সময় দূরে দূরে দাড়াতে হবে। টিফিন খাবার সময় একে-অপরের সাথে ভাগাভাগি করে না খেয়ে দূরে দূরে বসে খেতে হবে। এসব বিষয়ে অভিভাবকদের পাশাপাশি স্কুল শিক্ষককেও খেয়াল রাখতে হবে।
• হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় পরিষ্কার রুমাল ব্যহার করতে হবে। যেগুলো সবার স্পর্শ পায় সেগুলো স্পর্শ করার পর অবশ্যই হাত ধুতে হবে। যেমন সুইচ, টেবিল, দরজা, জানালা ইত্যাদি।
• শিশুদের বুঝিয়ে বলতে হবে যে খুব বন্ধুদের সাথে খুব কাছাকাছি না হওয়া, হ্যান্ডশেক বা করমমর্দন না করা। গল্প করার সময় বা ক্লাস করার সময় একটু দূরে অবস্থান করাই ভালো। নিজেদের ভালোর জন্যই এসব বিষয় মেনে চলতে হবে।
• স্কুল থেকে বাড়ি আসার পর স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, টিফিন বক্স, বোতল সবকিছুই ভালভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। শিশুকে ভালোভাবে গোসল করাতে হবে।
• শিশু অসুস্থ হলে কোনো মতেই সেই শিশুকে স্কুল পাঠানো যাবে না। স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতিতি না থাকলে পরিক্ষায় মার্কস কাটার কথা বলা হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে। যার ফলে অভিভাবকরা শিশু অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও স্কুল পাঠানোর চেষ্টা করে। যা মোটেও কাম্য নয়। সে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে দেখতে হবে এবং পরিক্ষার সময় অসুস্থ শিশুকে বাড়িতেই অনলাইনে পরিক্ষা নেওয়া যায় কিনা সেই বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।
• কোনো শিশু স্কুলেই অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত আইসোলেসনে নিতে হবে। তাই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইসোলেসনের ব্যাবস্থা রাখতে হবে।
• স্কুল খুলার সাথে সাথে শিশুদের পড়ার চাপ বাড়িয়ে দেওয়া মোটেও উচিত হবে না। অনেকদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুরা অনভ্যস্ত হয়ে গেছে। সেটা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে।

অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সবাই সুস্থ্য এবং সুন্দর থাকবে এবং সারাদেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে অবশ্যই আমাদের এসব নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে।

তথ্যসূত্র : প্রথম আলো

স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আরো নিত্যনতুন আপডেট পেতে জয়েন করুন জীবনধারার ফেসবুক গ্রুপ জীবনধারা (সুস্থ্য দেহ, সুস্থ্য মন) এ।

Show Comments (1)

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More