কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ করতে চান? (বিস্তারিত জেনে নিন)

বন্ধু-বান্ধব বা সপরিবারের ঘুরতে যাওয়ার জন্য অন্যতম দর্শনীয় স্থান হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এই সমুদ্র সৈকতের পাশে রয়েছে সারি সারি ঝাউবন, বালু এবং বিশাল সমুদ্র তো রয়েছেই। সমুদ্রতীরে সকাল-বিকাল ঘুরতে খুব ভালো লাগে। দেখতে পাওয়া যায় নীল জলরাশি ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, মাতার বাড়ি, শাহপরী, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে বিস্তারিত

সমুদ্রে নামার আগে নির্দেশনাবলি :
সমুদ্রে নামার আগে কখন কখন জোয়ার-ভাটা হয় সে সম্পর্কে অবশ্যই জেনে নিতে হবে। সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় ইয়াছির লাইফ গার্ডের বিভিন্ন সচেতনামূলক সাইনবোর্ড এবং পতাকা দেখতে পাওয়া যায়। সমুদ্রে নামার জন্য বা গোসলের জন্য জোয়ার হওয়ার সময়টি উপযোগী। তাই এ সময়ে বিভিন্ন নির্দেশিকা এবং সবুজ পতাকা প্রদর্শন করা হয়।
ভাটার সময় সমুদ্রের আশেপাশে দাড়ানো বা গোসল না করায় ভালো। ভাটার সময়ে মূহুর্তের মধ্যেই ভাটার টানে সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে। তাই এ সময়ে নিরাপত্তার জন্য সবাইকে সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয় এবং লাল পতাকা প্রদর্শন করা হয়। বিশেষ প্রয়োজনে অবশ্যই নিরাপত্তা কর্মিদের সহায়তা নিতে হবে।

বিচ ফটোগ্রাফার :
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পর্যটন মৌসুমে প্রায় অনেকগুলো লাল ড্রেস এবং আইডি কার্ড ঝুলানো ফটোগ্রাফার দেখা যায়। এসব ফটোগ্রাফারদের সাথে কয়েকটি স্টুডিওর চুক্তি থাকে। তারা প্রায় ১ঘণ্টার মধ্যেই পর্যটকদের ছবি তুলে প্রিন্ট করে নেগেটিভসহ পর্যটকদের হাতে পৌঁছে দেয়। অনুমোদিত রেট অনুযায়ী প্রতিটি 4R সাইজ প্রিন্ট ছবির মূল্য ধরা হয় ৩০টাকা। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে অবশ্যই আইডি কার্ড দেখে ছবি তোলা উচিত।

স্পিডবোট :
সমুদ্র সৈকতে অনেকগুলো স্পিডবোট চোখে পড়ে। প্রধান সমুদ্র সৈকত থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত স্পিডবোটগুলো যায়। রাউন্ড প্রতি ভাড়া নেওয়া হয় ১০০টাকা। আর যেগুলো খোলা স্পিডবোটের সাহায্য নিয়ে চলে সেসব স্পিডবোটে লাইফ বোট এক জনের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০টাকা।

বিচ বাইক :
সমুদ্র সৈকতে বিচে চলার উপযোগী অনেকগুলো বিচ বাইক দেখা যায়। সেগুলো চালাতে হলে এক কিলোমিটার রাউন্ডের জন্য পর্যটকদের ৫০টাকা প্রদান করতে হয়।

যাতায়াত ও ভাড়া :
ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার বা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাওয়া যায়। তবে ঢাকার মধ্যে ফকিরাপুল, কমলাপুর, আরামবাগ, মতিঝিলসহ বেশ কয়েকটি স্থান থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। এসি, নন-এসি, ডিলাক্স এমনকি সাধারণ বাসেও যাতায়াত করা যায়। এসব বাসে ভাড়া পরবে ৪০০-১২০০ টাকার মতো। যাতায়াত সার্ভিস দেওয়া বাসগুলোর মধ্যে সোহাগ, গ্রীন লাইন, ঈগল ও সাধারণ বাস অন্যতম। এমনকি ঢাকা থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেনে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন যানবাহনে বা আবার ট্রেনেই সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া যাবে।

থাকার সু-ব্যবস্থা :
দেশের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত ও দর্শনীয় স্থান কক্সবাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানের বেশ কয়েকটি রিসোর্ট, হোটেল ও মোটেল। এমনকি সরকারি ও ব্যক্তি উদ্দ্যেগেও তৈরি করা হয়েছে ছোট-বড়, বিভিন্ন মানের হোটেল ও রিসোর্ট। যেখানে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা পর্যন্ত রেটে রাত্রিযাপন করা যায়।

হোটেলের ভাড়া সমূহ :
১. হোটেল সিগাল : ভাড়া ২,২০০-৭০০০ টাকা
২. হোটেল শৈবাল : ভাড়া ১০০০-৩০০০ টাকা
৩. হোটেল লাবনী : ভাড়া ৬০০-৩০০০ টাকা
৪. উপল : ভাড়া ১০০০-১৫০০ টাকা
৫. সি ক্রাউন : ভাড়া ২০০-৩০০০ টাকা
৬. জিয়া গেস্ট হল : ভাড়া ৩০০-২০০০ টাকা
বিঃদ্রঃ তথ্যগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে পরিবর্তন হতে পারে।

খাবার-দাবার :
প্রায় আবাসিক বা থাকার হোটেলের আশেপাশে খাবার হোটেল, রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়। তবে কক্সবাজার ঘুরতে এসে পর্যটকদের বেশি চাহিদা থাকে সামুদ্রিক বিভিন্ন মাছের মেনুর প্রতি। তারমধ্যে চিংড়ি, রূপচাঁদা, লাইট্যা, ছুরি, এমনকি শুটকি মাছগুলো অন্যতম।

পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ লেবুর উপকারিতা
গরুর মাংস রান্না (৮ পদের রেসিপি)

তবে একেক হোটেলে খাবারের মেন্যুর উপর নির্ভর করে একেক ধরনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ১০-৫০০ টাকার মধ্যে মজাদার খাবার পাওয়া যায়। তবে খাবার অর্ডারের পূর্বে অবশ্যই খাবারের নাম, খাবারের মূল্য,  তৈরির সময় জেনে নিন।

কক্সবাজার থেকে অন্যান্য দর্শনীয় স্থান :
কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যেতে হলে প্রথমে কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন গাড়িতে টেকনাফ(ভাড়া : বাসে ৩০-৫০ টাকা, ট্যাক্সিতে ৪৯-৬০ টাকা এবং ৮-১০ সিটের রিজার্ভ মাইক্রোবাসে ৫০০-১০০ টাকা) এবং টেকনাফ থেকে সি-ট্রাক, জাহাজ বা ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন যেতে হবে।
এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে ১২ ও ২৪ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে আরো দুইটি দর্শনীয় স্থান হিমছড়ি ও ইনানী।

তথ্যসূত্র : কক্সবাজার জেলা

স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আরো নিত্যনতুন আপডেট পেতে জয়েন করুন জীবনধারার ফেসবুক গ্রুপ জীবনধারা (সুস্থ্য দেহ, সুস্থ্য মন) এ।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More