ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের এলার্জি দূর করার উপায়

এলার্জি সমস্যায় ভুগেন না এমন মানুষ খুব কমই আছে। এটি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। তবে এলার্জির কি যন্ত্রণা সেটা যার হয়েছে সেই ভালো বলতে পারবে। এলার্জির যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে অনেকে অনেক কিছুই চেষ্টা করেন। তবে প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের এলার্জি দূর করার উপায় জেনে সে অনুযায়ী অনুসরণ করলে ভালো ফল আশা করা যায়। তাই জীবনধারায় এবারের আলোচনার বিষয়বস্তু ঘরোয়া পদ্ধতিতে এলার্জি দূর করার উপায়

এলার্জি দূর করার উপায়


★ ত্বকের এলার্জির মধ্যে রয়েছে :
১. একজিমা
২. অ্যাঞ্জিওয়েডা

★ ত্বকের এলার্জির লক্ষণসমূহ :
১. চুলকানি
২. ফুসকুড়ি
৩. লালভাব
৪. ফোলা
৫. শুষ্ক ত্বক

★ যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন :
• হাসের ডিম
• বেগুন
• গরুর মাংস
• গরুর দুধ
• চিংড়ি
• কচু শাক
• পুঁই শাক
• মিষ্টিকুমড়া

★ নিম পাতা :
নিম পাতা হচ্ছে একটি জনপ্রিয় ভেষজ ঔষধ। এলার্জি সমস্যার কারণে নিম পাতা ব্যবহার করলে লালচে ভাব, ফোলা ভাব ও চুলকানি দূর করা সম্ভব হয়। নিম পাতা মুখের ত্বকের এলার্জি দূরীকরণে ভালো ভূমিকা রাখে।

কার্যপ্রণালী :
বেশ কয়েকটা নিম পাতা নিন। সেগুলো ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে একদম সুক্ষ্মভাবে পেস্ট করে নিন। তারপর সেগুলো মুখের আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে প্রায় ৩০মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।

★ আদা :
আদাতে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি। যার ফলে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের এলার্জি নিরাময়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

কার্যপ্রণালী :

এক টুকরো আদা
এক কাপ গরম পানি
তুলা

এক টুকরো আদা কুচি কুচি করে কেটে এক কাপ গরম পানিতে রাখুন। তারপর সেটা কোনো পাত্রে রেখে ৫ মিনিট ধরে সিদ্ধ করুন। তারপর আদা সেই পানির সাথে মিশিয়ে তরল করে কিন।
আক্রান্ত জায়গায় তুলার বল দিয়ে তরলটি প্রয়োগ করে প্রায় ৩০মিনিট রাখুন। এভাবে দিনে ৩/৪বার করতে থাকুন।

★ তুলসীপাতা :
তুলসীপাতাতে রয়েছে ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল। যার ফলে ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাছাড়া রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি। যার কারণে চুলকানি, ফুলে যাওয়া রোধ করে।

কার্যপ্রণালী :
এক মুঠো তুলসীপাতা বেছে ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর পাতাগুলো ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। যার ফলে পাতাগুলোর পেস্ট তৈরি হবে। সেই পেস্ট আক্রান্ত জায়গায় প্রয়োগ করে প্রায় ৩০মিনিট রাখতে হবে।
অধিক উপকারীর জন্য দিনে এভাবে কয়েকবার করতে পারেন।

★ নারকেল তেল :
শিশুদের ত্বকের এলার্জি দূরীকরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখে নারকেল তেল। নারকেল তেলে মাঝারি-চেইন ফ্যাটি এসিড রয়েছে। যার ফলে শুকনো, স্কেল-স্কিল এলার্জি নিরাময়ে ভূমিকা রাখে। তাছাড়া রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যানালজেসিক ও ময়শ্চারাইজিং বৈশিষ্ট।

কার্যপ্রণালী :
এক চা চামচ নারকেল তেল হালকা গরম করে আক্রান্ত জায়গায় প্রায় ৩০মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ত্বক শুকিয়ে নিতে হবে।
তবে ভালো না হওয়ার আগ পর্যন্ত এই পদ্ধতি দিনে ৩/৪বার করা যেতে পারে।

★ অ্যালোভেরা :
দেহের ত্বকের এলার্জি নিরাময়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে অ্যালোভেরা। তাছাড়া অ্যালোভেরাতেও রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য।

কার্যপ্রণালী :
অ্যালোভেরার পাতাগুলো থেকে এক চা চামচ জেল সংগ্রহ করে সেগুলো আক্রান্ত জায়গায় সরাসরি লাগিয়ে প্রায় ৩০মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।
এভাবে ঠিক না হওয়ার আগ পর্যন্ত দিনে ২/৩বার দিতে থাকুন।

★ বেকিং সোডা :
ঘরোয়া পদ্ধতিতে এলার্জি দূর করার অন্যতম একটি পদ্ধতি হচ্ছে বেকিং সোডা। বেকিং সোডার ফলে ত্বকের ফুসকুড়ি দূরীকরণে, চুলকানি থেকে মুক্তি পেতে এবং ত্বকের জ্বালা-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অধিকতর কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

কার্যপ্রণালী :
পানির সাথে আধা চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে ৩/৪ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।

★ ঠান্ডা পানিতে গোসল :
হালকা ঠান্ডা পানিতে গোসল ত্বকের যন্ত্রণা এবং এলার্জির সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। শীতল পানিতে পুরো শরীর স্পর্শ করলে রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত হতে সহয়তা করে এবং হিস্টামিন বের হতে বাধা প্রদান করে।

যেসব খেলে এলার্জি দূর হয় :

★ লেবু :
লেবু হচ্ছে সাইট্রিক এসিড। যা এলার্জি নিরাময়ে দারুণ কাজ করে। মধুর সাথে লেবু মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। লেবু-মধু মিক্সড নিয়মিত খেলে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায়। যার ফলে এলার্জি সমস্যা কমতে থাকে।

★ আদা :
এলার্জি সমস্যা সমাধানে আদা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, হজমের সমস্যা, ডায়রিয়া ইত্যাদি সমস্যা সমাধানেও আদার ভূমিকা ব্যাপক।
গরম পানিতে আদা ফুটিয়ে মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

★ কলা :
অন্যান্য খাবার খেয়ে এলার্জি বৃদ্ধি পেলে কলা খেলে সেটা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। পেটের সমস্যা সমাধানে এবং শরীরের ব্যাশ নিরাময়ে কলা খুবই উপকারী। কারণ কলা মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

★ কমলা :
পাকস্থলীতে প্রোটিনের পরিমাণ খুব বেশি বেড়ে গেলে এলার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে অ্যাসিড অথবা ভিটামিন সি জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খেলে সে সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। তাই ভিটামিন সি জাতীয় ফল কমলা খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

★ গ্রিন টি :
গ্রিন টি ওজন কমাতে সহায়তার পাশাপাশি এলার্জি প্রতিরোধেও ভালো ভূমিকা রাখে। গ্রিন টি’তে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান যার ফলে এলার্জি জনিত খাবার খেয়ে এলার্জি বৃদ্ধি পেলে গ্রিন টি বাধা প্রদান করে।

এলার্জি দূর করার দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি :
১ কেজি পরিমাণের মতো নিম পাতা সংগ্রহ করুন। সেগুলো ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিন। তারপর শুকনো নিম পাতা পাটায় ভালভাবে পিষে গুঁড়ো করে ভালো একটি কৌটায় সংগ্রহ করে রাখুন। প্রতিদিন ১ গ্লাস পানির সাথে ১ চা চামচ এর ৩ ভাগ এর ১ ভাগ নিম পাতা গুঁড়ো, ১ চা চামচ ইসবগুলের ভুসি আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর চামচ দিয়ে ভালভাবে নেড়ে নিন।

খাওয়ার নিয়মাবলি :
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে, দুপুরে খাবারের পর ভরা পেটে এবং রাতে শোয়ার আগ মূহুর্তে এক গ্লাস করে প্রতিদিন একটানা ২১ দিন খেতে থাকুন। তবে এলার্জি ঠিক হতে ১মাস সময়ও লেগে যেতে পারে।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে এলার্জি দূর করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। আশা করি এসব নিয়মাবলি মেনে চললে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট

আরো পড়ুন > করোনা ভাইরাস কি? করোনা ভাইরাস এর লক্ষণ ও প্রতিকার

স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আরো নিত্যনতুন আপডেট পেতে জয়েন করুন জীবনধারার ফেসবুক গ্রুপ জীবনধারা (সুস্থ্য দেহ, সুস্থ্য মন) এ।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More