(উদ্ভিদ প্রজনন) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

উদ্ভিদ প্রজনন হচ্ছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ১ম পত্রের ১০ম অধ্যায়। উদ্ভিদ প্রজনন অধ্যায় থেকে সেরা বাছাইকৃত ২টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : হাবিবা শীতের সকালে তার আব্বুর সাথে বেড়াতে সরিষা ক্ষেতের ধার দিয়ে যাচ্ছিল। তারা হলুদ সরিষা ফুলে মৌমাছি ছুটাছুটি করতে দেখলো। তার আব্বু বললো সরিষা ফুলে মৌমাছি এমন একটি প্রক্রিয়া ঘটায় যা জীবকুলে উপকার বয়ে আনে।
ক. নিষেক কী?
খ. সরিষা ফুল হলুদ হওয়ার কারণ বুঝিয়ে বলো?
গ. উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি মৌমাছি ছাড়া আর কী কী উপায়ে হতে পারে তা উদ্ভিদ প্রজনন অধ্যায়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি জীবকুলে উপকার বয়ে আনে” কথাটির তাৎপর্য উদ্ভিদ প্রজনন অধ্যায়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. নিষেক হচ্ছে স্ত্রীগ্যামিটের সাথে পুংগ্যামিটের যৌন মিলন।

খ. সরিষার ফুলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। অর্থাৎ, সরিষার ফুলে হলুদ বর্ণের প্লাস্টিড থাকে। এখানে বিটাজেন্থিন নামক হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী বর্ণকণিকা থাকে। এ কারণে সরিষা ফুল হলুদ হয়। সরিষা ফুলের এ উজ্জ্বল রঙ এ ফুলের পরাগায়নে পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে।

গ. উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হলো পরপরাগায়ন প্রক্রিয়া। মৌমাছি ছাড়াও বিভিন্ন উপায়ে উদ্ভিদে পরপরাগায়ন ঘটে থাকে। বিভিন্ন পতঙ্গের মাধ্যমে পরপরাগায়ন ঘটে। পতঙ্গ পরাগী ফুল বড় রঙ্গিন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। যেমন— জবা, কুমড়া ইত্যাদি। বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে, সেক্ষেত্রে ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন এবং সুগন্ধহীন হয়। যেমন– ধান। পানিপরাগী ফুলে পানির মাধ্যমে ফুলের পরাগায়ন হয়। এসব ফুল আকারে ক্ষুদ্র ও হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে এবং এদের সুগন্ধ নেই, যেমন— পাতাশ্যাওলা। এছাড়াও প্রাণী পরাগী ফুলের পরাগায়ন হয় বিভিন্ন প্রাণীর মাধ্যমে। এসব ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয় তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জুরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়, যেমন— কদম, শিমুল ইত্যাদি।

ঘ. উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হলো পরাগায়ন, যা উদ্ভিদের নিষেক প্রক্রিয়া ঘটায়। জীবজগতে নিষেকক্রিয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্ত্রীগ্যামিটের সাথে পুংগ্যামিটের মিলন ঘটে এবং গ্যামিট দুটির প্রোটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসের সংযুক্তি ঘটে। নিষেকক্রিয়ায় দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামিটের মিলনের মাধ্যমে একটি ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট হতে ভ্রূণের সৃষ্টি হয়। ভ্রূণের সুষ্ঠু বৃদ্ধির জন্য নিষিক্ত ডিম্বাণুতে প্রোটিন সংশ্লেষণ ও বিপাকের হার বাড়াতেও নিষেকক্রিয়া সাহায্য করে। নিষেকের মাধ্যমে প্রজাতিতে জিনের সংমিশ্রন ঘটে। এর ফলে যে প্রকরণ ঘটে তা বিবর্তনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নিষেকের ফলে পুষ্পের গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরের ডিম্বকগুলো বীজে পরিণত হয় এবং গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়। কাজেই নিষেকক্রিয়ার ফলেই বীজ ও ফলের সৃষ্টি হয়। বীজ উদ্ভিদের বংশ রক্ষা করে।

বীজের সৃষ্টি না হলে অধিকাংশ পুস্পক উদ্ভিদই হয়তো বিলুপ্ত হয়ে যেত। আবার উদ্ভিদের ফল ও বীজের উপরই খাদ্যের জন্য প্রাণিকুল বিশেষ করে মানুষ সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। কাজেই নিষেকক্রিয়া যত না গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ জাতির জন্য তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মানব জাতির জন্য। আমরা আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, ধান, গম, বার্লি ইত্যাদি যা খেয়ে থাকি তা সবই নিষেকক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। আবার নিষেকক্রিয়া না ঘটলে উদ্ভিদসমূহ হ্যাপ্লয়েড অবস্থা থেকে পুনরায় ডিপ্লয়েড অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না। ফলে প্রজাতিতে আমূল পরিবর্তন ঘটে যেত। তাই নিষেকক্রিয়ার তাৎপর্য অপরিসীম। নিষেকের মাধ্যমে প্রজাতিতে জিনের সংমিশ্রণ ঘটে। এতে রিকম্বিনেশনের মাধ্যমে জেনেটিক বৈচিত্র্য তৈরি হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রক্রিয়া অর্থাৎ পরাগায়ন নিষেকক্রিয়া সম্পাদনের মাধ্যমে জীবকুলের উপকার বয়ে আনে।

— ৭ম অধ্যায় : নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ
— ৮ম অধ্যায় : টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র
— ৯ম অধ্যায় : উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : রহিম আম, লিচু ও তরমুজের বীজহীন ফল উৎপাদনের চেষ্টা করছেন।
ক. ইমাকুলেশন কী?
খ. ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের উপঅঞ্চলগুলোর নাম ও বিস্তৃতি লিখ।
গ. রহিমের গবেষণার বিষয়বস্তুটির নিষেকোত্তর পরিণতি উদ্ভিদ প্রজনন অধ্যায়ের আলোকে লিখ।
ঘ. রহিমর যদি সফল হন তাহলে উক্ত উদ্ভিদগুলোর বংশ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া উদ্ভিদ প্রজনন অধ্যায়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. ইমাস্কুলেশন হচ্ছে পরাগ বিসরণের আগে ফুলের পুংকেশর অপসারণের প্রক্রিয়া।

খ. ভারতীয় উপ-অঞ্চল: সিন্ধুনদ ও হিমালয়ের পাদদেশ থেকে দক্ষিণে গোয়া হয়ে মহীশুর পর্যন্ত বিস্তৃত।
সিংহলীয় উপ-অঞ্চল: ভারতীয় উপদ্বীপের অংশ বিশেষ এবং শ্রীলংকা এই উপ-অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
ইন্দোচীন উপ-অঞ্চল: চীনের প্যালিআর্কটিক সীমানার দক্ষিণাংশ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, আন্দামান ও হাইনান দীপপুঞ্জ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
ইন্দোমালয় উপ-অঞ্চল: মালয় উপদ্বীপ ও ইস্ট ইন্ডিজের কতগুলো দ্বীপ যেমন— বোনিও, জাভা, সুমাত্রা ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এ অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আবীরের গবেষণার বিষয়বস্তু হলো বীজহীন ফল সৃষ্টি। এ সময় আবীরের বিষয়বস্তুটির নিষেকোত্তর পরিণতি নিম্নরূপ-
i. গর্ভাশয় পরিবর্তিত হয়ে ফল তৈরি হয়।
ii. গর্ভাশয় প্রাচীর পরিবর্তিত হয়ে তৈরি করে ফলত্বক।
iii. ডিম্বক পরিবর্তিত হয়ে বীজে পরিণত হয়। বীজ ফলের অভ্যন্তরে থাকে।
iv. ডিম্বকের বহি:ত্বক রূপান্তরিত হয়ে বীজ ‘বহি:ত্বক এবং ডিম্বক অন্ত:ত্বক রূপান্তরিত হয়ে তৈরি করে বীজ অন্ত:ত্বক।
v. ডিম্বাণু পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়ে ভ্রূণ। এটি বীজের অভ্যন্তরে থাকে।
vi. ফিউনিকুলাস রূপান্তরিত হয়ে বীজের বোঁটা তৈরি করে।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আবীর যদি সফল হয় অর্থাৎ বীজহীন ফল সৃষ্টি করে তাহলে উক্ত উদ্ভিদগুলোর বংশ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া হবে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন। কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন পদ্ধতি প্রয়োগ করে ফল ও ফুলের গুণমান বজায় রেখে এ ধরনের জনন করা হয়। যে পদ্ধতিতে এটি সম্ভব নি হয় তাকে কলম করা বলে। নিচে এই প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেওয়া হলো—
শাখা কলম: উদ্ভিদের পরিণত কাণ্ডের অংশ বিশেষ কেটে মাটিতে পুতে তাদের বংশবিস্তার ঘটানো হয়। যেমন – আখ, গোলাপ ইত্যাদি।

দাবা কলম: অনেক সময় মাটি সংলগ্ন উদ্ভিদ শাখাকে বাঁকিয়ে মাটি চাপা দিলে বেশ কিছু দিনের মধ্যেই পর্ব থেকে মূল তৈরি হয়। পরবর্তীতে মলসহ শাখাটিকে কেটে অন্য স্থানে লাগানো হয়।
জোড় কলম: উন্নত জাতের উদ্ভিদ শাখাকে কেটে নিয়ে অন্য উদ্ভিদের শাখার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে তা শক্তভাবে পলিথিন দ্বারা বেঁধে দিতে হয়। কিছু দিনের মধ্যে তারা জোড়া লেগে যায়।
গুটি কলম: এক্ষেত্রে নির্বাচিত উদ্ভিদ কাণ্ডের বাকল ছাড়িয়ে সেখানে গোবর-মাটি ও খড় দিয়ে ঢেকে শক্ত করে বেঁধে দিতে হয় এবং নিয়মিত সেখানে সামান্য পানি দিতে হয়। অল্প দিনের মধ্যে ঐ স্থান থেকে মূল তৈরি হয়। মূল তৈরি হলে মূলসহ শাখাটি কেটে নিয়ে ভেজা মাটিতে লাগালে তা নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More