আম এর ১৫টি উপকারিতা (কাঁচা ও পাকা)

গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে স্বাদে গন্ধে ভরপুর একটি ফল হচ্ছে আম। কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকা অবস্থায় হলুদ রং ধারণ করে। প্রধানত খাওয়ার জন্যই আম চাষ করা হয়। কাঁচা এবং পাকা উভয় অবস্থায় আমের রয়েছে অধিক পরিমাণে পুষ্টিগুণ। জীবনধারায় আলোচনা করবো কাঁচা এবং পাকা আমের উপকারিতা নিয়ে। যা জেনে রাখা আমাদের অত্যন্ত জরুরি।

কাঁচা আম এর ১৫টি উপকারিতা :

১/ মর্নিং সিকনেস এর জন্য উপকারী :
গর্বাবস্থায় শরীরের উপসর্গ কমাতে কাঁচা আম অধিক উপকারী। তাছাড়া ঘন ঘন মর্নিং সিকনেস এর প্রবণতা কমাতেও সহয়তা করে।
পরিমাণমতো কাঁচা আম খেলে মর্নিং সিকনেস সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে যায়।

২/ কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজম এর সমস্যা দূরীকরণে :
এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে কাঁচা আমকাঁচা আমে অধিক পরিমাণে ফাইবার এবং ক্ষার থাকার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূরীকরণেও সহয়তা করে। কাঁচা আমের সাথে মধু ও লবণ মিশিয়ে খেলে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

৩/ যকৃত সুরক্ষার জন্য :
কাঁচা আমে রয়েছে অধিক পরিমাণে আয়রন। যার ফলে যকৃত এর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভালো কাজ করে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে কাঁচা আম খেলে যকৃতের বিভিন্ন সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। তাছাড়া এটি পিত্তরসের নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

৪/ এসিডিটি থেকে মুক্তি পেতে :
আমাদের খাদ্যাভ্যাস এর ঠিক না থাকার কারণে অনেকেই এসিডিটি সমস্যায় ভুগে থাকেন। এক্ষেত্রে কাঁচা আম এসিডিটি থেকে মুক্তি পেতে ভূমিকা রাখে। ঔষুধ না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে কাঁচা আম খেয়েই এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে।

৫/ পানি স্বল্পতা দূর করে :
গরমের সময় ঘাম এবং বিভিন্ন কারণে আমাদের শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। যার ফলে শরীরে পর্যাপ্ত পানির পরিমাণ কমতে থাকে। তাই শরীরের তৃষ্ণা মেটাতে এবং পানির স্বল্পতা দূরীকরণে কাঁচা আম লবণ দিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

৬/ পেটের সমস্যা দূরীকরণে :
গরমকালে অনেক মানুষের পেটের সমস্যার সম্মুখীন হতে দেখা যায়। তারমধ্যে ডায়রিয়া, আমাশয়, বদহজম অন্যতম। আর এসব সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে কাঁচা আম কার্যকরি ভূমিকা রাখে। অন্ত্রকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং কোষ্ঠ্যকাঠিন্য থেকে রক্ষা পেতেও সহয়তা করে।

৭/ ওজন কমাতে :
পাকা আম এর চাইতে কাঁচা আম এর চিনির পরিমাণ কম থাকায় এটি ক্যালরি খরচে সহয়তা করে। যার ফলে ওজন কমতে সাহায্য করে।

৮/ মুখের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে :
আম কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকে। আর এই সবুজ কাঁচা আম মাড়ির জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি মাড়ির রক্ত পড়া বন্ধের পাশাপাশি নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করতে এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে সহায়তা করে।

৯/ লিভারের উপকারী বন্ধু :
লিভারের রোগ ভালো করতে কাঁচা আম বেশ উপকারী। কাঁচা আম চিবানোর ফলে পিত্ত থলির এসিড এবং পিত্ত রস বৃদ্ধি পায়। যার কারণে যকৃতের এর অবস্থা ভালো থাকে এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশনগুলো দূরীভূত হয়।

১০/ ঘামাচি থেকে মুক্তি পেতে :
গ্রীষ্মকালের সবচেয়ে বড় শত্রু ঘামাচি। আর এই শত্রু থেকে রক্ষা পেতে ভালো উপকারী বন্ধু হচ্ছে কাঁচা আমকাঁচা আমে কিছু উপাদান রয়েছে, তাই কাঁচা আম খাওয়ার ফলে শরীরে সান স্ট্রক হতে বাধা দেওয়া হয়।

১১/ রক্তের সমস্যা দূরীকরণে :
রক্তের কোষগুলো উজ্জীবিত করতে এবং রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে কাঁচা আম। এমনকি নতুন রক্ত কোষ তৈরীতেও সহায়তা করে। রক্তশূন্যতা, ব্লাড ক্যান্সার, রক্তক্ষরণের মতো সমস্যা যাদের রয়েছে তাদের কাঁচা আম খেলে ভালো ফল পাবে।

১২/ ঘাম এর পরিমাণ কমাতে :
গরমের সময় ঘাম হচ্ছে সবার একটি কমন সমস্যা। কাঁচা আমের জুস খেয়ে ঘামের পরিমাণ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। ঘামের সাথে সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং আয়রন বের হতে থাকে। যার ফলে অধিক পরিমাণে ঘামের কারণে এসবের পরিমাণ কমতে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করতে কাঁচা আম এর ভূমিকা অপরিসীম।

১৩/ স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে :
গ্রীষ্মকালে স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে কাঁচা আমের সাথে চিনি, জিরা এবং এক চিমটি লবণ মিশিয়ে জুস করে খেলে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি ঘামাচি রোধ করতেও সহয়তা করে।

১৪/ এনার্জি পেতে :
কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে এনার্জি পাওয়া যায়। অভিজ্ঞদের মতে, দুপুরের খাবার খাওয়ার পর কাঁচা আম খেলে ঘুম ঘুম ভাব কাটিয়ে শরীরকে সতেজ হতে সহয়তা করে।

১৫/ রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে :
টিউবারকিউলোসিস, অ্যানেমিয়া, কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, পাইলসসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধে ভালো ভূমিকা রাখে।

পাকা আমের ১৫টি উপকারিতা :

১/ ভিটামিনের অভাব পূরণ :
পাকা আমে অধিক পরিমাণে ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। সরাসরি ফল থেকে ভিটামিন পাওয়া না গেলেও ফলের মধ্যে থাকা বেটা-ক্যারোটিন এর মাধ্যমে ভিটামিন পাওয়া যায়।
পাকা আমে ভিটামিন সি, আয়রন, পটাসিয়াম অধিক পরিমাণে রয়েছে। আর এসব উপাদান শরীর সুস্থ্য এবং সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

২/ রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে :
একটি সুস্থ্য সবল মানুষের জন্য প্রতিদিন ৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এর প্রয়োজন হয়। পক্ষান্তরে, একটি ১০০ গ্রাম পাকা আমে পাওয়া যায় প্রায় ৩৬.৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।
যার ফলে ভিটামিন সি এর একটা বড় অংশ পাকা আম থেকেই পাওয়া যায়। আর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহয়তা করে।

৩/ কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখে :
পাকা আমে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও উপকারী এন্টিওএক্সিডেন্ট প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। তাই পাকা আম নিয়মিত খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখে।
নিয়মিত এবং পরিমাণমতো পাকা আম খেলে শরীর এর সতেজতা বজায় থাকে এবং শরীর সুস্থ্য থাকে। হৃদরোগীদের সুস্থ্যতার জন্য অধিকতর উপকারী।

৪/ চোখ ভালো রাখে :
একজন মানুষের সুস্থ্য তার জন্য প্রতিদিন ১০০ আই সি ইউ ভিটামিন এ খাওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন পরিমিত পাকা আম খেলে ১০% ভিটামিন এ এর চাহিদা পূরণ করে। আর আমরা সবাই জানা, ভিটামিন এ এর অভাবেই রাতকানা রোগ হয়ে থাকে।
তাছাড়া পাকা আমে অধিক মাত্রায় এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় সূর্যের ক্ষতিকর বেগুনি রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করে।
তাই চোখ সুস্থ্য রাখতে পাকা আম খাওয়া অবশ্যই প্রয়োজন।

৫/ হজম শক্তি বাড়িয়ে তুলে :
হজমে সমস্যা প্রায় সাধারণ একটি সমস্যা। হজমের সমস্যা সমাধানে আমরা ঔষধ খেয়ে থাকি। তবে ঔষুধ অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে। কারণ ঔষুধেও বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তবে ঔষধের বিকল্প হিসেবে পাকা আম বেশ কার্যকারি। পাকা আমে প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার থাকায় এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

৬/ চিনির বিকল্প আম :
জি হ্যা, চিনির বিকল্পে পাকা আম খাওয়া যেতে পারে। সরাসরি চিনি খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যেহেতু আম মিষ্টি তাই চিনির পরিবর্তে খাওয়া যাবে।
বিভিন্ন ধরনের জুস বা যেসব খাবারে চিনির প্রয়োজন হয় সেসব খাবারে চিনির পরিবর্তে আম ব্যবহার করা যেতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আম খাওয়া নিষেধ না তবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।

৭/ ক্যান্সার কোষ ধংশ করে :
আমে রয়েছে অ্যান্টিএক্সিডেন্ট। আর এই অ্যান্টিএক্সিডেন্ট শরীরের ভিতরে থাকা ফ্রি র‍্যাডিকেলকে ধংশ করতে সহায়তা করে।
ক্যান্সার কোষ সৃষ্টির জন্য ফ্রি র‍্যাডিকেল দায়ী।

৮/ হাড় মজবুত করে :
পাকা আমে অধিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। ১০০ গ্রামের পাকা আমে প্রায় ১৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম রয়েছে।
আর একজন সুস্থ্য মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৬০০-১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এর প্রয়োজন হয়।
তাই শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা ঠিক রাখতে পরিমিত পাকা আম খাওয়া প্রয়োজন।

৯/ অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে :
রক্ত স্বল্পতা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। রক্ত বৃদ্ধির জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের ঔষধ খেয়ে থাকি। যা থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
তবে রক্ত বৃদ্ধির জন্য যদি সেটা প্রাকৃতিক উপায়ে পাওয়া যেতে পারে তাহলে সেটা অধিকতর উপকারী শরীরের জন্য।
একজন সুস্থ্য মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৮-১০ মিলিগ্রাম আয়রন খাওয়া উচিত। ১০০ গ্রাম পাকা আমে প্রায় ১.৩ মিলিগ্রাম আয়রন খাওয়া যেতে পারে।
তাই শরীরের রক্ত স্বল্পতার ঘাটতি কমাতে পরিমিত পরিমাণে পাকা আম খাওয়া যেতে পারে।

১০/ স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে :
আমরা জানি, কাঁচা এবং পাকা উভয় অবস্থায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ১০০ গ্রামের একটি পাকা আমে প্রায় ৩৬.৪-৪১ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
তাই ভিটামিন সি এর ঘাটতি পূরণে অধিকতর কার্যকরি হচ্ছে আম।

১১/ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে :
ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আমরা কত কিছুই না করি। বিভিন্ন ব্রান্ডের কসমেটিকস এর উপর নির্ভরশীল হয়ে যায়। কিন্তু এসব কসমেটিকস সাময়িক উজ্জ্বলতা নিয়ে আসলেও ক্ষতিও করে থাকে।
তবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পাকা আম খাওয়া যেতে পারে। পাকা আমে রয়েছে অধিক পরিমাণে ভিটামিন সি। আর ভিটামিন সি শরীরের লোমকূপগুলো পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রণের সমস্যা দূরীকরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।

১২/ শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে :
পাকা আমে অধিক পরিমাণে ক্যালরি পাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম পাকা আমে প্রায় ১০ গ্রাম ক্যালরি পাওয়া যায়। আর ক্যালরি শরীরের শক্তি যোগাতে ভালো ভূমিকা রাখে।
তবে পরিমাণ মতো খেতে হবে। অধিক পরিমাণে খেলে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

১৩/ অ্যালকাইন লেভেল ঠিক রাখতে :
আমে রয়েছে টারটারিক এসিড, ম্যালিক এসিড ও সাইট্রিক এসিড। শরীরের অ্যালকালি নামক রাসায়নিক ভারসাম্য ঠিক রাখতে এসব এসিড কার্যকরি ভূমিকা রাখে।

১৪/ প্রিয় ফল :
আম খায় না এমন মানুষ খুজে পাওয়া মুশকিল। আম সবার প্রিয় ফল হিসেবেই পরিচিত। আমে যেমন রয়েছে সুন্দর রং, ভালো সুগন্ধি, খেতেও মিষ্টি তেমন রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা।

১৫/ মনোযোগ ও স্মৃতি ধরে রাখতে :
কোনো কাজ বা কিছুর প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হলে আম খেলে ভালো একটা ফল পাওয়া যাবে। আম ‘মেমরি বুস্টার’ হিসেবেও কাজ করে।

কাঁচা অথবা পাকা উভয় আম ই আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাকা আমের চেয়ে কাঁচা আমের উপকারিতায় বেশি। আম আমাদের শরীর সুস্থ্য এবং সতেজ রাখতে সহায়তা করে।
বলাবাহুল্য, বেশি খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে যেন শর্করার পরিমাণ ঠিক থাকে।

মাথা ব্যাথা কেনো হয়?

Show Comments (1)

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More