(অণুজীব) এইচএসসি : জীববিজ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

অণুজীব হচ্ছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ১ম পত্রের ৪র্থ অধ্যায়। অণুজীব অধ্যায় থেকে সেরা বাছাইকৃত ৫টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আয়ারল্যান্ডে গোল আলুতে এক প্রকার মড়ক লাগায় চরম আকারে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
ক. বায়োম কী?
খ. রেস্ট্রিকশন এনজাইম বলতে কী বোঝ?
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত গোল আলুর রোগটির লক্ষণ বর্ণনা কর।
ঘ. যে রোগটিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে তা থেকে পরিত্রাণের উপায় বিশ্লেষণপূর্বক মন্তব্য কর -কোনটি পরিবেশ বান্ধব?

সমাধান : ক. একই ধরনের জলবায়ু, একই ধরনের মাটি, একই জাতীয় বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ ও পৃথকযোগ্য ইকোসিস্টেমই হলো বায়োম।

খ. যে এনজাইম প্রয়োগ করে DNA অণুর সুনির্দিষ্ট অংশ কর্তন করা যায় তাকে রেস্ট্রিকশন এনজাইম বলা হয়। বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি রেস্ট্রিকশন এনজাইম পৃথক করা হয়েছে। যেমন- Eco RI, Hind III, Bam HI প্রভৃতি। রেস্ট্রিকশন এনজাইমকে DNA কর্তনের সূক্ষ্ম ছুরিকা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগটি হলো আলুর বিলম্বিত ধ্বসা রোগ যা Phytophthora infestans এক প্রকার ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। এ রোগে প্রথমে পাতায় সবুজ ধূসর বর্ণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দাগ দেখা যায়। দাগগুলো পরে অপেক্ষাকৃত বড় হয়ে হালকা বাদামি বর্ণের এবং শেষপর্যন্ত কালো বা কালো বাদামি বর্ণের হয়। গাছের বয়ষ্ক পাতায় প্রথমে পানি ভেজা দাগ এবং পরে কালচে ভেজা দাগসহ পচন সৃষ্টি হয়।

আক্রান্ত স্থানে সূক্ষ্ম মখমলের আস্তরণ সৃষ্টি হয় এবং পাতার নিম্ন ত্বকে পত্ররন্ধ্র দিয়ে কনিডিওফোর বের হয়। মেঘলা আবহাওয়ায় এটি দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং পাতার সাথে সাথে কান্ডও আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত আলুর ত্বকের নিচে লালচে বাদামি কালো ছোপ দেখা যায়। ছত্রাক আক্রমণ তীব্র হলে আক্রান্ত গাছ হতে পচা ডিমের ন্যায়। দুর্গন্ধ বের হয়। রোগাক্রান্ত আলুবীজ হতে রোগের প্রাথমিক এবং কনিডিয়া ও জুস্পোর হতে সেকেন্ডারি সংক্রমণ ঘটে। গাছের পাতা পরীক্ষা করলে এর নিম্নতলে সাদা সুতার ন্যায় মাইসেলিয়াম দেখা যায়।

ঘ. উদ্দীপকে আলুর বিলম্বিত ধ্বসা রোগের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ রোগ হতে পরিত্রাণ পেতে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। প্রথমেই ১% বোর্দোমিশ্রণ ছিটিয়ে বা কথার লাইম ডাস্ট প্রয়োগ করে রোগের বিস্তার রোধ করা যায়। পানি ও পানি প্রবাহ রোগের সেকেন্ডারি বিস্তার ঘটায়। তাই পানি সেচ সীমিত রাখতে হবে। আলু চাষের জন্য সুস্থ ও জীবাণুমুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। অবশ্যই রোগমুক্ত এলাকা থেকে বীজ আলু সংগ্রহ করতে হবে। একই জমিতে প্রতিবছর আলু চাষ না করে ১/২ বছর পর পর চাষ করলে রোগের বিস্তার কম হতে পারে।

ছত্রাক প্রতিরোধক্ষম জাত লাগাতে হবে। আগাম জাত চাষ করে রোগ আক্রমণের আগেই ফসল তুলে নেওয়া যায়। পাতা থেকে আলুতে যাতে রোগের আক্রমণ না ঘটে। সেজন্য আলু সংগ্রহের পূর্বেই সাইনক্স বা অ্যামোনিয়াম থায়োসায়ানেট ওষুধ ছিটিয়ে গাছের পাতা ঝরিয়ে ফেলতে হয়। যেসব স্থানে এ রোগ হয় সেখানে গাছ ৮-১০ আঙ্গুল বড় হলেই ডায়থেন এম-৪৫ বা বোঁদো মিক্সচার নামক ছত্রাকনাশক ১৫ দিন পরপর ছিটাতে হবে। এ রোগ হতে পরিত্রাণের উপায়গুলো বিশ্লেষণপূর্বক বলা যায় যে, অতিরিক্ত ছত্রাকনাশক ব্যবহারের চেয়ে ছত্রাক প্রতিরোধক্ষম আলুর জাত চাষ করা অধিক পরিবেশ বান্ধব।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : এনি ও জলি উভয়ই অণুজীব নিয়ে গবেষণা করছেন। তমার গবেষণার বিষয়বস্তু হচ্ছে অকোষীয় রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব, মুনার আদিকোষীয় অণুজীব । তমার পর্যবেক্ষণে জানা গেল তার অণুজীব মুনার অণুজীবকে ভক্ষণের মাধ্যমে সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
ক. ক্যাপসিড কী?
খ. পুষ্প প্রতীক কাকে বলে?
গ. এনি এবং জলির ব্যবহৃত অণুজীব দুটির পার্থক্য করো।
ঘ. এনির পর্যবেক্ষণটি বিশ্লেষণ করো।

সমাধান : ক. ভাইরাসের নিউক্লিক এসিডকে ঘিরে অবস্থিত প্রোটিন আবরণই হলো ক্যাপসিড।

খ. যে প্রতীক বা চিত্রের সাহায্যে ফুলের বিভিন্ন অংশের সদস্য সংখ্যা, পারস্পরিক বিন্যাস প্রভৃতি দেখানো হয় তাকে বলা হয় পুষ্প প্রতীক পুষ্প প্রতীকে একটি পুষ্পের মাতৃ অক্ষের তুলনায় এর বিভিন্ন স্তবকের পুষ্পষ্পত্রের অবস্থান, সংখ্যা, সমসংযোগ, পুষ্পপত্র বিন্যাস, অমরাবিন্যাস প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য দেখানো হয়।

গ. এনির ব্যবহৃত অনুজীবটি হলো ভাইরাস এবং জলির ব্যবহৃত অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া এর পার্থক্য অণুজীব অধ্যায়ে আলোচনা করা আছে।

ঘ. এনির অণুজীবটি হলো ভাইরাস। এ সম্পর্কে অণুজীব অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : কাসেম ও আসিক হাসপাতালে পাশাপাশি বিছানায় শুয়ে আছে, তাদের রক্ত পরীক্ষার পর দেখা গেল, হাসানের রক্তশূন্যতা হয়েছে এবং আলমের দেহে অনুচক্রিকা কমে গেছে।
ক. পরিব্যক্তি কী?
খ. লাইটিক চক্র হতে লাইসোজেনিক চক্র ভিন্ন কেন?
গ. কাসেমের রক্তশূন্যতা সৃষ্টির পরজীবিটির চারটি প্রজাতির নাম ও সৃষ্ট জ্বরের নাম লিখ।
ঘ. আসিকের রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রতিকার ছাড়াও প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা কর।

সমাধান : ক. জীনের আকস্মিক পরিবর্তনই হলো পরিব্যাক্তি।

খ. লাইটিক চক্র হতে লাইসোজেনিক চক্র ভিন্ন। কারণ লাইটিক চক্রে ভাইরাস পোষক কোষ বিদীর্ণ করে মুক্ত হয়। কিন্তু লাইসোজেনিক চক্রে পোষক কোষের ভাঙ্গন সৃষ্টি করে না। লাইটিক চক্রে পোষক সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয় কিন্তু লাইসোজেনিক চক্রে পোষক কোষ ভাইরাস দ্বারা প্রভাবিত হয়, ধ্বংস হয় না।

গ. উদ্দীপকে কাসেমের রক্তশূন্যতা সৃষ্টির পরজীবিটি হলো ম্যালেরিয়া পরজীবি। ম্যালেরিয়া পরজীবির চারটি প্রজাতির নাম ও সৃষ্ট জ্বরের নাম অণুজীব অধ্যায়ে দেওয়া আছে।

ঘ. উদ্দীপকে আসিক ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত। এ সম্পর্কে অণুজীব অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ : ড. মুরাদ শ্রেণিকক্ষে একটি জীবাণু সম্পর্কে বললেন, মানুষ এ জীবাণুর মাধ্যমিক পোষক এবং মশকী নির্দিষ্ট পোষক। জীবাণুর জীবনচক্রে দুটি পোষকের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন- নিম্নশ্রেণির জীবসমূহ বার বার অযৌন পদ্ধতিতে বংশবিস্তারের কারণে এদের জীবনী শক্তি হ্রাস পায়। তাই তারা মাঝে মাঝে যৌন
জননে আবদ্ধ হয়ে জীবনীশক্তি পুনরুদ্ধার করে। এটি নিম্নশ্রেণির জীরের Evolutionary অভিযোজন।

ক. লাইটিক চক্র কাকে বলে?
খ. অণুজীব বিজ্ঞানীগণ ভাইরাসের কোন কোন বৈশিষ্ট্যকে প্রাধান্য দেন?
গ. উদ্দীপকের জীবাণুটি কিভাবে লোহিত রক্ত কণিকা ধ্বংস করে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. জীবাণুটির জীবনচক্রে জণুক্রম সুস্পষ্ট- বিশ্লেষণ কর।

সমাধান : ক. যে প্রক্রিয়ায় ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া কোষে প্রবেশ করে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায় ও ব্যাকটেরিয়া কোষকে লাইসিস ঘটায় তাই লাইটিক চক্র।

খ. অণুজীব বিজ্ঞানীগণ ভাইরাসের জীবীয় বৈশিষ্ট্যকে প্রাধান্য দেয়।
বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
— ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাসের জন্ম দিতে পারে।
— বাধ্যতামূলক পরজীবী এবং সংক্রমণযোগ্য।
— নির্দিষ্ট বংশধারা বজায় রাখতে সক্ষম।

গ. উদ্দীপকের জীবাণুটি হলো ম্যালেরিয়া জীবাণু। এ সম্পর্কে অণুজীব সম্প্রদায় আলোচনা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকের জীবাণুটি হলো ম্যালেরিয়া জীবাণু। এদের জীবন চক্রে সুস্পষ্ট জনুক্রেম বিদ্যমান। এ সম্পর্কে অণুজীব অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ : অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া অণুজীব দেখা যায় না। পৃথিবীতে আবিষ্কৃত সর্বপ্রথম অণুজীব আমাদের কাছে আজ এক বিস্ময়। বিজ্ঞানী এন্টনি ভন লিউয়েন হুক বৃষ্টির পানি থেকে এ অণুজীবটি আবিষ্কার করেন এবং নাম দেন animalcule.
ক. ভাইরাস শব্দের অর্থ কী?
খ. ব্যাকটেরিওফায বলতে কী বোঝ?
গ. অনুজীবটির অযৌন জনন প্রক্রিয়া বর্ণনা কর ।
ঘ. আমাদের জীবনে অণুজীবটির ভূমিকা অনস্বীকার্য- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

সমাধান : ক. ভাইরাস শব্দের অর্থ ‘বিষ’।

খ. যেসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে তাদেরকে বলা হয় ব্যাকটেরিওফায। ফাজ এর জেনেটিক বস্তু ব্যাকটেরিয়ামের দেহে প্রবেশ করে এবং এক সময় ব্যাকটেরিয়া কোষটি ধ্বংস হয়ে যায়। যেমন- T2- ব্যাকটেরিওফায E.coli-কে আক্রমণ করে বংশবৃদ্ধি করে।

গ. উদ্দীপকের অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া। ব্যাকটেরিয়ার অযৌন জনন অণুজীব অধ্যায়ে বর্ণনা করা আছে।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া। আমাদের জীবনে ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা অণুজীব অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা আছে।

১ম অধ্যায় : কোষ ও এর গঠন
২য় অধ্যায় : কোষ বিভাজন

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More